প্রস্তাবিত কোম্পানির ওষুধ লিখতে অস্বীকৃতি
নারী চিকিৎসকের ওপর হামলা, আটক ২
মেডিভয়েস রিপোর্ট: শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নুসরাত তারিন তন্নীর ওপর হামলার ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত দুজন হলেন জুলহাস মাদবর ও ল্যাবএইড ফার্মার প্রতিনিধি শহিদুল।
বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) আহত চিকিৎসকের স্বামী ড. মঞ্জুরুল ইসলাম (রাফি) বাদী হয়ে মামলা করলে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ৩০ জানুয়ারি রাতে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি শহিদুল তার কোম্পানির ওষুধ লেখার জন্য ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তন্নীর স্বামী মঞ্জুরুল ইসলামকে অনুরোধ করেন, যেন তিনি তার স্ত্রীকে বিষয়টি বলেন। তবে চিকিৎসকের স্বামী বিষয়টি এরিয়ে যান। এ ঘটনায় প্রতিনিধি শহিদুল ক্ষুব্ধ হয়ে বিষয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জুলহাস মাদবরকে জানান। পর দিন ৩১ জানুয়ারি রাতে চিকিৎসকের বাসার সামনে জুলহাস বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এক পর্যায়ে জুলহাস ওই চিকিৎসক ও তার স্বামীর ওপর হামলা করে। এ সময় ওই চিকিৎসকের মা মাসুমা খাতুন ছুটে আসলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা সহযোগিতায় আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
চিকিৎসক তন্নীর মা মাসুমা খাতুন বলেন, ‘আমি হঠাৎ করে বাসার নিচে আমার মেয়ের চিৎকার শুনে দৌঁড়ে এসে গেট খুলে দেখি, আমার মেয়ে ও তার স্বামীকে কয়েকজন মারধর করছে। আমি প্রথমে জামাইকে গেটে ভেতরে নিয়ে এসে আবার দৌঁড়ে মেয়েকে বাঁচাতে যাই। তখন দেখি, আমার মেয়েকে মাটিতে ফেলে হামলাকারীরা কিল ঘুষি ও লাথি মারছে। তাকে উদ্ধার করতে গেলে আমাকেও তারা মারতে থাকে। তখন আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপর আমি আর কিছু জানি না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করছি।’
ডাক্তার নুশরাত তারিন তন্নী বলেন, ‘আমি রাতে হেটে বাসায় আসছিলাম। হঠাৎ করে পেছন থেকে জুলহাস মাদবর নামে একজন আমাকে ডাকলে আমি দাঁড়িয়ে যাই। তার সঙ্গে ল্যাবএইড ফার্মার প্রতিনিধিসহ আরো কয়েকজন ছিল। কিন্তু কিছু বোঝার আগেই তারা আমার ওপর হামলা শুরু করে। চিৎকার শুনে আমার স্বামী আমাকে বাঁচাতে আসে। এর আগেই আমাকে কিল ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর আমার মা ছুটে এলে তাকেও মারধর করা হয়। আমার মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আমি নারী চিকিৎসক হয়ে জীবনের নিরাপত্তায় ভুগছি।’
মামলার বাদী তন্নীর স্বামী ড. মঞ্জুরুল ইসলাম (রাফি) বলেন, ‘আমাকে গত ৩০ ফেব্রুয়ারি শহিদুল বলেন, আমার স্ত্রীকে যেন তার ল্যাবএইড ফার্মার ওষুধ লিখতে বলি। তবে আমি তা পারবো না বলে জানাই। তখন সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার স্ত্রীর ওপর হামলা চালায়। গ্রামের চিকিৎসকদের ওপর এভাবে হামলা চালানো হলে কীভাবে চিকিৎসকরা কীভাবে থাকবে?ন আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
ডামুড্যা থানার অফিসার্স ইনচার্জ এমারত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় চিকিৎসক তন্নীর স্বামী ড. মঞ্জুরুল ইসলাম (রাফি) বাদি হয়ে ডামুড্যা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জুলহাস মাদবর, ঔষধ কম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ শহিদুল ও আব্দুল রাজ্জাক কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি লিখন মাদবরসহ অজ্ঞাত ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে জুলহাস মাদবর ও শহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
-
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
-
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
প্রস্তাবিত কোম্পানির ওষুধ লিখতে অস্বীকৃতি
নারী চিকিৎসকের ওপর হামলা, আটক ২
-
০২ নভেম্বর, ২০২৩
-
২৪ অগাস্ট, ২০২৩