ফাইনাল প্রফে ডিএমসির চার শিক্ষার্থীর প্লেস অর্জন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষা মে-২০২৩ এর ফলাফলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (এমএমসি) থেকে প্লেস অর্জন করেছেন চার শিক্ষার্থী। প্লেসধারী শিক্ষার্থীরা হলেন- ডা. জিনিয়া জান্নাত অনন্যা, ডা. এনামুল হাসান, ডা. ফাতেমা আক্তার শিখা ও ডা. বৃষ্টি সিংহ।
রোববার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ফাইনাল প্রফের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্লেসধারীদের মধ্যে ডা. জিনিয়া জান্নাত অনন্যা দ্বিতীয় স্থান, ডা. এনামুল হাসান তৃতীয় স্থান, ডা. ফাতেমা আক্তার শিখা চতুর্থ স্থান ও ডা. বৃষ্টি সিংহ বিশ্ববিদ্যালয়ে সপ্তম স্থান অর্জন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৫০টিরও অধিক মেডিকেল কলেজ রয়েছে, এতে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী। এরমধ্যে এ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তাঁরা।
জানতে চাইলে ৮ অক্টোবর ডা. জিনিয়া জান্নাত অনন্যা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে চেয়েছি ডাক্তার হবো, আজকে আমার সেই দিন। খুব-ই অসাধারণ অনুভূতি।’
ডা. জিনিয়া জান্নাত অনন্যা জয়পুরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে জয়পুরহাট সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এর আগে তিনি তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় প্রথম স্থান, দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান, প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ২০তম স্থান অধিকার করেছিলেন ডা. জিনিয়া জান্নাত অনন্যা।
ডা. এনামুল হাসান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘সুন্দর ফলাফল করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে, আলহামদুলিল্লাহ। ফাইনাল প্রফ দীর্ঘ দুই-আড়াই মাস ধরে পরীক্ষা হয়েছে, ধৈর্য ধরে পরীক্ষাটা দিতে পারাও একটা বিষয়। পরিশেষে ভালো ফলাফল, অসাধারণ অনুভূতি। আগের প্রফগুলো প্লেস বা অনার্স থাকলেও ফাইনাল প্রফে অনার্স বা প্লেসের টার্গেট ছিল না। কারণ টার্গেট নিলেই আমি প্রেশার নিতে পারবো না। সর্বোচ্চ ভালো করবো, এজন্য পড়াশোনা করেছি।’
ডা. এনামুল হাসানের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহে জেলায়। বেড়ে ওঠা ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার পার্বতীপুর গ্রামে। দুই ভাই-বোনের মধ্যে বড় তিনি। ডা. এনামুলের বাবা একজন কৃষক এবং মা গৃহিনী। তিনি হরিণাকুণ্ডের শিশু কলি মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং সরকারি কেসি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
এর আগে ডা. এনামুল হাসান এমবিবিএস তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় দশম, দ্বিতীয় প্রফে পঞ্চম, প্রথম প্রফে দুই বিষয়ে অনার্স মার্ক পেয়েছেন। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ১৪তম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি।
জানতে চাইলে ফাতেমা আক্তার শিখা বলেন, ‘ফাইনাল প্রফে পাস করাটাই মূল ছিল, এরমধ্যে আবার প্লেস অর্জন, খুবই অসাধারণ অনুভূতি।’
ডা. ফাতেমা আক্তার শিখার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়, বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। তাঁর বাবা ব্যবসায়ী ছিলেন, মা গৃহিনী। চট্টগ্রাম থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এর আগে এমবিবিএস প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় পঞ্চম, দ্বিতীয় প্রফে নবম, তৃতীয় প্রফে সপ্তম স্থান অর্জন করেন তিনি। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ২৪তম স্থান অধিকার করেছিলেন ডা. ফাতেমা শিখা।
ডা. বৃষ্টি সিংহ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘অনুভূতিটা আসলেই অন্যরকম। সত্যিকার অর্থে বলে বোঝাতে পারব না। এর আগের প্রফগুলোতে অনার্স ছিল বিভিন্ন সাবজেক্টে কিন্তু প্লেস ছিল না। এটা যারা মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ডের তাদের জানার কথা যে, এখানে প্লেস,অনার্স মার্কস শুধু পড়াশোনার উপর নির্ভর করে না, যেটা আমরা আমাদের ইন্টারমিডিয়েট লাইফ পর্যন্ত দেখে এসেছি। অনেক কারণ থাকে, তবে যেটা বুঝলাম পড়াশোনাতে রেগুলারিটি মেনটেইন করতে হয়। সেইসঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করলে একদিন না একদিন তার প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজে এসে এত প্রতিভাবান অধ্যাপক,ব্যাচমেটদের সংস্পর্শে আসাটাও জীবনের একটা বড় পাওয়া এবং তার শেষটা হল স্বপ্নের মত, এর চেয়ে ভালো আর কি বা হতে পারতো।’
ডা. বৃষ্টি সিংহর’র গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলায়। বেড়ে ওঠা বগুড়ার শেরপুর উপজেলায়। দুই ভাই-বোনের মধ্যে বড় তিনি। তাঁর বাবা ব্যবসায়ী এবং মা গৃহিনী। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ১১০তম স্থান অর্জন করেছিলেন ডা. বৃষ্টি সিংহ।
এসএইচ
-
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
১২ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৯ নভেম্বর, ২০২৪
-
২৭ নভেম্বর, ২০২৪
-
২৭ নভেম্বর, ২০২৪
-
২৭ নভেম্বর, ২০২৪
-
২৭ নভেম্বর, ২০২৪