০৬ মার্চ, ২০২১ ০২:৫৪ পিএম

চট্টগ্রাম মেডিকেলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ

চট্টগ্রাম মেডিকেলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: মেডিভয়েস।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ যে কোনো মিছিল, মিটিং, সমাবেশ ও সভা অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গত ৩ মার্চ চমেক কাউন্সিলে এমন সিদ্ধান্ত হয়।

মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তার স্বাক্ষরিত ওই আদেশের বলা হয়েছে, ‘০২-০৩-২০২১ ইং তারিখ অপরাহ্নে চমেক প্রধান ছাত্রাবাসে সংঘটিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ০৩-০৩-২০২১ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত চমেক একাডেমিক কাউন্সিলে জরুরি ১ম সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক কলেজের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে কাউন্সিলের গৃহীত নিম্নখিত সিদ্ধান্তসমূহ সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিম্নে প্রদত্ত হলো।’

চমেক একাডেমিক কাউন্সিলে গৃহিত সিদ্ধান্তগুলো হলো:  

যে সকল ইন্টার্ন চিকিৎসক ছাতাবাস/ছাত্রীনিবাসে অবস্থান করিতেছেন অনতিবিলম্বে তাহাদেরকে ছাত্রাবাস/ছাত্রীনিবাসের সিট ছাড়িয়া দিতে হইবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মে ২০ ও জুলাই ২০ পরীক্ষার্থী ছাড়া ০৪-০৩-২০২১ ইং এর মধ্যে অন্যদের হোস্টেল ত্যাগ করিতে হইবে। ৫ম বর্ষের ব্লক পোস্টিংয়ে যারা অধ্যয়নরত রয়েছেন তাদেরকে কলেজ একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর বরাবর মুচলেকা দিয়ে হোস্টেলে অবস্থান করার অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে। হোস্টেলে অবস্থানকারী ছাত্র/ছাত্রী পরীক্ষার প্রবেশপত্র/মুচলেকা কর্তৃপক্ষ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে চাহিবামাত্র দেখাইকে বাধ্য থাকিবে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেজিকেল কলেজ এবং কলেজ সংশ্লিষ্ট এলাকায় সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ যে কোন সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং ও স্লোগান ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল।

গত ৩ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া এ আদেশের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, উপাধ্যক্ষ/অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক/সহযোগী অধ্যাপকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের প্রধান ছাত্রাবাস দখলকে কেন্দ্র করে গত ২ মার্চ বিকেল ৩টার দিকে সংঘর্ষে জড়িয়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষ

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে পাঁচ জন আহত হন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ছাত্রাবাসের বেশ কিছু কক্ষ ভাঙচুর করে। 

সূত্রে জানা গেছে, একটি পক্ষ সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীনের অনুসারী। অপরপক্ষ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী।

এদিকে চমেক সংঘর্ষের খবর পেয়ে চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ ও কাজেম আলী কলেজেও দু’পক্ষ পাল্টাপাল্টি মিছিল বের করে। এতে মহানগর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত