ডা. কামারুজ্জামান নাবিল
শিক্ষানবিশ চিকিৎসক, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা;
এমবিবিএস, ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইরান
০৪ জুন, ২০২৬ ০৩:১০ পিএম
এফসিপিএস পরীক্ষার নতুন নিয়ম এবং কিছু প্রাসঙ্গিক বাস্তবতা
যেভাবে বাংলাদেশের পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি ফেলো অব দ্য কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (এফসিপিএস) নিয়ে একের পর এক নতুন নিয়ম জারি করা হচ্ছে, তা দেখে আমি শুধু অবাকই হচ্ছি না, বরং লজ্জাও বোধ করছি। বিশেষ করে যখন ভাবি—এই নিয়মগুলোর পেছনে আসলে কারা আছেন!
দীর্ঘদিন ধরে আমার ইরানে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে সেখানকার সেন্ট্রাল মেডিকেল পরীক্ষাগুলোর কিছু বিষয় এবং এফসিপিএস পরীক্ষার কিছু দিক তুলে ধরছি:
১. প্রশ্নপত্রের মানদণ্ড
ইরানে প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের পাস করানো হয়। কিন্তু আমাদের দেশে বছরে দু’বার অনুষ্ঠিত এফসিপিএস পরীক্ষার প্রশ্নের কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে বলে মনে হয় না। কখনো কোনো বিষয়ে ১০০ জন পাস করেন, আবার কখনো মাত্র ১০ জন। এতেই স্পষ্ট হয় যে, প্রশ্ন কখনো অতিরিক্ত সহজ, আবার কখনো খুব কঠিন হয়। আমার মনে হয়, এর মাধ্যমে মূলত শিক্ষার্থীদের বারবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার একটা ফাঁদ তৈরি করে রাখা হয়।
২. দ্রুত উত্তর প্রকাশ
ইরানে সেন্ট্রাল মেডিকেল পরীক্ষাগুলো হওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের গড় হিসেব করে পাসের হার (পার্সেন্টেজ) নির্ধারণ করা হয়। এমনকি পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশ্নপত্রের সঠিক উত্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দেওয়া হয়।
৩. অভিযোগের সুযোগ ও মূল্যায়ন
প্রশ্ন বা উত্তর নিয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলে, তারা রেফারেন্সসহ ২ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানাতে পারে। রেফারেন্স সঠিক হলে ভুল প্রশ্নটি বাতিল করা হয় কিংবা সবাইকে তার পূর্ণ নম্বর দেওয়া হয়। আবার কোনো প্রশ্নের দুটি উত্তর সঠিক হলে, দুটিকেই সঠিক ধরে নম্বর দেওয়া হয়। এফসিপিএস-এ যেহেতু ২১০ নম্বরে পাস, তাই প্রতিটি পয়েন্ট এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ সঠিক মূল্যায়নের অভাবে মাত্র ১ নম্বরের জন্য অনেককে বারবার পরীক্ষায় বসতে হয়।
৪. ফলাফল দেখার অতিরিক্ত ফি
ইরানে পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের পর ওয়েবসাইটেই নম্বর প্রকাশ করা হয় এবং এটি দেখতে কোনো বাড়তি টাকা লাগে না। অথচ আমাদের দেশে এফসিপিএস পরীক্ষার জন্য ১১ হাজার টাকা নেওয়ার পর, আবার ফলাফল দেখার জন্য আলাদাভাবে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটি শুধু দৃষ্টিকটুই নয়, বরং এক ধরণের চরম অন্যায্য নিয়ম।
৫. শিক্ষকদের জবাবদিহিতা
সেখানে মেডিকেলের কোনো পরীক্ষায় পাসের হার নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকদের 'শোকজ' করা হয়। শিক্ষার্থীদের পড়ানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেই জবাবদিহিও করতে হয়।
জেএইচ/