১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০৯:২৯ পিএম
বাইক ছিনতাই ও শারীরিক হেনস্তা

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি
সাজাপ্রাপ্তদের পাঁচজন। বাঁ থেকে—সামিউল হক আসিক, তাসিনুল হক, ডা. হৃদয় রঞ্জন নাথ, জয় সরকার ও শাইখ আবেদী। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: শারীরিক হেনস্তা, বাইক ছিনতাই ও বিস্ফোরক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার ঘটনায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের (কুমেক) ১০ শিক্ষার্থীকে আজীবন নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সমর্থিত সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকালে মেডিকেল কলেজের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কুমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মির্জ্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম। একই দিন অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বসম্মতিক্রমে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ও ৯ মার্চ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনায় সম্পৃক্ততায় জড়িত ছাত্রদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি অনুমোদিত হয়। এই শাস্তি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন২৫তম ব্যাচের ডা. হৃদয় রঞ্জন নাথ ও ডা. আনোয়ার হোসেন, ২৭তম ব্যাচের ডা. সামিউল হক আসিক, ডা. শহিদুল ইসলাম নোবেল ও ডা. জয় সরকার, ২৮তম ব্যাচের ডা. শাইখ আবেদিন, তালুকদার মো. ফারহান ও তাহসিনুল হক, ৩০তম ব্যাচের আফ্রিদি ইসলাম এবং ৩১তম ব্যাচের ইয়াসির জোনায়েদ হিমেল।

এর মধ্যে কুমেক ক্যাম্পাসে আজীবন নিষিদ্ধ ডা. হৃদয় রঞ্জন নাথ মহানগর আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা। এ ছাড়া ডা. সামিউল হক আসিক ছিলেন ছাত্রলীগ সমর্থিত ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের (ইচিপ) সভাপতি। আর তাহসিনুল হক ছিলেন মেডিসিন ক্লাবের সভাপতি।

জানা গেছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টায় মেডিকেল গেটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডা. হৃদয় রঞ্জন নাথের নেতৃত্বে ২৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুজাহিদ ত্বহাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। একই সাথে আরেক শিক্ষার্থী আবদুল মান্নানকেও হেনস্তা করা হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে শিবির ট্যাগ দিয়ে পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা করে সাজাপ্রাপ্তরা।

পরবর্তীতে ৩ মার্চ আবদুল মান্নানের বাইক ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সঙ্গে বোমা বানিয়ে মান্নানকে বিস্ফোরক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। বাইক উদ্ধারের জন্য ৫০ হাজার টাকা চাঁদাও দাবি করা হয় আবদুল মান্নানের কাছে।

জড়িতদের যেসব শাস্তি হলো

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে একজনকে কুমেক ক্যাম্পাসে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি হলেন ২৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. হৃদয় রঞ্জন নাথ।

একই সাথে দুই বছরের জন্য ইন্টার্ন প্রশিক্ষণ স্থগিত হয়েছে তিনজনের। তারা হলেন, ২৭তম ব্যাচের ডা. সামিউল হক আসিক ও ডা. জয় সরকার এবং ২৮তম ব্যাচের ডা. শাইখ আবেদিন। এক বছরের জন্য ইন্টার্ন প্রশিক্ষণ স্থগিত হয়েছে দুইজনের; তারা হলেন ২৫তম ব্যাচের ডা. আনোয়ার হোসেন ও ২৭তম ব্যাচের ডা. শহিদুল ইসলাম নোবেল।

২৪ মাস পেশাগত পরীক্ষাসহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত ও দুই বছর হোস্টেলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে দুইজনের। তারা হলেন ২৮তম ব্যাচের তালুকদার মো. ফারহান ও তাহসিনুল হক। তবে তাদের পরবর্তী আচরণ মনিটর করা হবে। একই সাজার পাশাপাশি ৩০তম ব্যাচের আফ্রিদি ইসলামের পেশাগত পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম বিরত রাখা হয়েছে ১২ মাসের জন্য।

এ ছাড়া ছয় মাসের জন্য পেশাগত পরীক্ষাসহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত ও কলেজের হোস্টেলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে ৩১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইয়াসির জোনায়েদ হিমেলকে।

►বিজ্ঞপ্তি দেখতে ক্লিক করুন

এনএআর/এমইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত