স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়া প্রস্তাবনায় বহু ফাঁক-ফোকর: অ্যাডভোকেট শিশির মনির
মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়া প্রস্তাবনায় বহু ফাঁক-ফোকর রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। আজ রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে আয়োজিত ‘স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন, ২০২৪ প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ’ নিয়ে পর্যালোচনা সভায় এ মত দেন তিনি।
শিশির মনির বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়া প্রস্তাবনায় বহু ফাঁক-ফোকর রয়েছে। এ নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় এটি বাস্তবায়িত হলে বিষয়টি দাঁড়াবে, একটি আইন করা প্রয়োজন তাই করা হবে। এতে চিকিৎসক ও রোগী কোনো পক্ষই উপকৃত হবে না।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষার নামে সবগুলো আইনেই কেবল চিকিৎসকদের সুরক্ষায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রোগীর সুরক্ষার কথা সেভাবে নেই। চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আদালত সরাসরি আমলে নেবে না। চিকিৎসকদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে রিপোর্টের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী আদালত তখন তা আমলে নেবে কি-না, তা বিবেচনা করবে। চিকিৎসকদের সুরক্ষার পাশাপাশি রোগীদেরও সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
‘২০১০ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন হয়। আইনে মেডিকেল নেগলিজেন্সি হলে চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল করা, সামান্য শাস্তি দেওয়া ..., এর বাইরে কিছুই নেই। কিন্তু ভারতের ভোক্তা অধিকার আইনে রোগী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। রোগীর ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেজন্য আদালতের বাইরে মেডিয়েশন ও আরবিট্রেশনের সুযোগ রাখা উচিত’—যোগ করেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী ।
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান আইন অনুযায়ী মেডিকেল নেগলিজেন্সির জন্য অভিযোগ দেওয়া যায়। কিন্তু আইনে চিকিৎসককে সতর্ক করার জন্য লাইসেন্স স্থগিত করার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া কিছু নেই। তাহলে হাজার হাজার, লাখ লাখ লোক মেডিকেল নেগলিজেন্সির শিকার হচ্ছে, তাঁরা কোথায় যাবে, কীভাবে যাবে? বর্তমান প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়ায় এর যে প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে, এটি সঠিক হলো না। বলা হচ্ছে, জেলায় জেলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা কমিটি হবে। এখন কেউ নেগলিজেন্সির শিকার হলে কোথায় যাবে? স্বাস্থ্য সুরক্ষা কমিটির কাছে? ধরেন, আমার বাম হাতটা কেটে ফেলা হয়েছে। চিকিৎসা পদ্ধতি যথাযথভাবে মানা হয়নি। তাহলে আমি তো সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেলাম। কার কাছে বিচার চাইবো? স্বাস্থ্য সুরক্ষা কমিটির কাছে, নাকি আদালতের কাছে? প্রস্তাবনায় বলছে, উপযুক্ত আদালত। উপযুক্ত আদালত কোনটা? স্পষ্ট করে বলা নেই।’
শিশির মনির বলেন, ‘চিকিৎসকদের সুরক্ষা অবশ্যই দরকার। আইনে চিকিৎসকদের জন্য বলা হয়েছে, অ-আমলযোগ্য। অ-আমলযোগ্য হলো, উইথআউট ওয়ারেন্ট। ওয়ারেন্ট তো পুলিশের জারি করার ক্ষমতা নেই। ওয়ারেন্ট জারি করে কোর্ট, কোর্ট ওয়ারেন্ট জারি করলে ওই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা যাবে। আর অবহেলার জন্য জেলে হবে কেন? এটা তো নেগলিজেন্স।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমনও তো হতে পারে ডাক্তার সাহেব, অপরপক্ষের কোনো লোকের সাথে তালমিলিয়ে স্লো পয়জনিং দিয়ে লোককে মেরে ফেলেছে। হতেও তো পারে। সিনেমায় দেখবেন এগুলো আছে। আমরা ইংল্যান্ডে কেস পড়েছি। আস্তে আস্তে ডাক্তারের সাথে কনসপারেন্সি করে স্লো পয়জনিং করেছেন। তিন মাস হাসপাতালে থাকার পর রোগী মারা যায়। এটা তো ক্রিমিনাল অফেন্স। এর জন্য প্যানেল কোডে বিধান আছে। সেখানে যেতে হবে। আর নেগলিজেন্সির জন্য অবশ্যই কোনো মানুষকে কোমড়ে দড়ি লাগানো উচিত না। নেগলিজেন্সির পরিধি তো নির্ধারণ করতে হবে। কিন্তু তা স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবনায় নেই। এটা কে করবে? নেগলিজেন্সি নির্ধারণ আমি বা অন্য কেউ করতে পারবে। এটা নির্ধারণ করতে গেলে এক্সপার্ট লোক লাগবে। যিনি চিকিৎসা প্রটোকল বোঝেন ও জানেন। এরজন্য বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন রয়েছে।
একপাক্ষিক আইন হলে রোগীরা আস্থা হারাবে উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, ‘আর অনাস্থার পরিবেশে চিকিৎসা করা যায় না। ধরেন, ক্যান্সারের রোগী আসলে চিকিৎসক ভাববেন, আমার কী হয়, আবার কী হয়ে যাবে! যদি ভুল হয়, জীবন যাবে! তাহলে কীভাবে অপারেশন হবে? আমি ইংল্যান্ড-আমেরিকায় অনেক দেখেছি, প্রত্যেক বড় চিকিৎসকের একজন আইনজীবী থাকেন, যিনি সব সময় তাকে আইনি সহায়তা দেন। আর ওইখানে ইন্স্যুরেন্স সিস্টেম রয়েছে। ফলে পকেট থেকে একসাথে পে করতে হয় না। তিনি যে প্রিমিয়াম দিতে থাকেন, তা থেকে আদায় হয়। দুই-একটা নেগলিজেন্সির এক মামলায় আমি এক আইনজীবীর সঙ্গে ছিলাম। অবহেলা প্রমাণিতত হওয়ায় ৯৯ লাখ ডলার এক ডাক্তারকে জরিমানা দিতে হয়েছে। ডাক্তার দেননি, দিয়েছে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। কারণ তিনি প্রিমিয়াম দিয়ে রেখেছিলেন। ডাক্তারের ইনকাম কেমন ওইখানে? আমি এক ডাক্তারকে দেখেছি, ৮০ লক্ষ ডলার ইনকাম করতে। তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি মাসে ৮০-৯০ লক্ষ ডলার ইনকাম করেন। ইনকামও বেশি, ঝুঁকিও বেশি।’
এসএএইচ/এমইউ
-
১৬ মে, ২০২৬
-
২২ এপ্রিল, ২০২৬
-
০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ইশতেহারে ৩৭ দফা স্বাস্থ্য পরিকল্পনা ঘোষণা
স্বাস্থ্য বরাদ্দ তিনগুণ করবে জামায়াত, স্বাস্থ্যবীমা-হেলথ কার্ড চালুর অঙ্গীকার
-
১১ অগাস্ট, ২০২৫
-
০৫ জুলাই, ২০২৫
স্বাস্থ্যের সকল প্রকল্প মূল কার্যক্রমে নিয়ে আসার পরিকল্পনা
সেক্টর কর্মসূচি ছাড়াই স্বাস্থ্যের এক বছর, ২৫ হাজার কর্মীর চাকরি অনিশ্চয়তায়