২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৯:২৭ পিএম

‘স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া আমলাতান্ত্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন অগ্রহণযোগ্য’

‘স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া আমলাতান্ত্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন অগ্রহণযোগ্য’
চিকিৎসক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ‘স্বাস্থ্যব্যবস্থার পূর্ণ সংস্কার ছাড়া গবেষণাহীন এ ধরনের আমলাতান্ত্রিক টেবিলে তৈরি স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। এই আইন বাস্তবায়ন হলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা দ্বিগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং রোগীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে।’ স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়ার বিষয়ে এমন মন্তব্য করেছেন চিকিৎসক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার।

আজ রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা ভবনে শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী সভাকক্ষে আয়োজিত স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন, ২০২৪ প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইনের খসড়ায় বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরেন ডা. আব্দুন নূর তুষার। বলেন, ‘যে খসড়া নিয়ে আলোচনা করছি তা স্বৈরাচারের আমলে তৈরি। আমি এখানে অন্তত ৪০টি ভুল ও হাস্যকর বিষয় দেখাতে পারবো। যারা এটি করেছেন, তারা কোনো গবেষণা করেননি। এটি একটি আবর্জনা। এটি নিয়ে আলোচনা করা মানে আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করা।’

স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইনের খসড়ার চিকিৎসকদের নিরাপত্তা উপেক্ষিত উল্লেখ করে আব্দুন নূর তুষার বলেন, ‘কেউ চিকিৎসককে আঘাত করলে সেটি জামিনযোগ্য ও আপোষযোগ্য। কিন্তু সেবা দিতে গিয়ে কোনো চিকিৎসকের ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা হলে তা আপোষযোগ্য নয়। একই বিষয় হলেও দুই ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম এই আইনের মধ্যে কীভাবে হয়?’

ভুয়া চিকিৎসকদের বিষয়ে কোনো শাস্তির বিষয় না থাকায় খসড়া এই আইনের সমালোচনা করেন ডা. তুষার। বলেন, ‘আইনের খসড়ায় ভণ্ড চিকিৎসকদের ব্যাপারে শাস্তির বিধান নেই। চিকিৎসক এক হলেও এই আইনে পাবলিক ও প্রাইভেট হাসপাতালকে আলাদাভাবে ধরা হয়েছে। প্রাইভেট হাসপাতালের চিকিৎসক ও রোগী আর সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও রোগী কি আলাদা?’

এ সময় ভারতীয় চিকিৎসকদের বাংলাদেশে অবৈধ প্র্যাকটিস নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। এ ছাড়া দেশের ওষুধ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি হাসপাতালগুলোর বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয় তুলে ধরে সরকারের সমালোচনাও করেন।

অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্ম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এ সভায় ঢাবির স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ খসড়া আইনে উল্লিখিত ধারার বিশদ ভুল ও অস্পষ্টতা তুলে ধরেন। এ ছাড়া আলোচনায় বক্তব্য রাখেন আইনজীবী শিশির মুহাম্মদ মনির। তুলে ধরেন খসড়া প্রস্তাবনাটির বহু ফাঁক-ফোকর।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সভাপতি রাশেদ রাব্বী। এ সময় স্বাস্থ্য প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, আইনজ্ঞ, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন অংশীজনরা অংশ নেন।

এনএএন/এমইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক