ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১ নির্দেশনা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় উপকূল অঞ্চলে মেডিকেল টিম প্রস্তুত, জরুরি বিভাগে জনবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রাখাসহ বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে সকল অ্যাম্বুলেন্স। এ ছাড়া উপকূলবর্তী বিভাগসমূহের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকদের নিয়ে এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা জানানো হয়। গতকাল শনিবার (২৫ মে) বিকাল ৪টায় এই ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।
আজ রোববার (২৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সভায় মহাপরিচালক উপকূলবর্তী ৩ বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে দুর্যোগ মোকাবেলার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী প্রস্তুতিমুলক পদক্ষেপ ও চাহিদার ব্যাপারে জানতে চান। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের প্রস্তুতির ব্যাপারে মহাপরিচালককে আশ্বস্ত করেন।
এ সময় তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা, বিকল্প বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা তৈরি, মোবাইল সংযোগ অবশ্যই নিরবিচ্ছন্ন রাখা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের বাফার স্টক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপকূলীয় হাসপাতালগুলোর যেকোনো চাহিদা তাৎক্ষনিকভাবে পুরনের নির্দেশনা দিয়েছেন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
অধিদপ্তরের ১১ দফা নির্দেশনা
সভায় মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত নির্দেশনা ছাড়াও ১১ দফা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নির্দেশনা আকারে সেগুলো জানানো হয় কর্মকর্তাদের। সেগুলো হলো—
১. জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখতে হবে। জরুরী বিভাগে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করতে হবে।
২. খাবার স্যালাইনসহ জরুরি প্রতিরোধ ও প্রতিষেধক ওষুধ ও উপকরণ উপকূলবর্তী জেলায় পর্যাপ্ত মজুত রাখতে হবে।
৩. প্রয়োজনীয় সংখ্যক পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং সাপে কামড় দেওয়া রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম মজুত রাখতে হবে।
৪. উপকূলবর্তী এলাকায় মাঠ কর্মীদের (স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারীসহ অন্যান্য) মাধ্যমে উপদ্রুত অঞ্চলে নিয়মিত পরিদর্শন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
৫. কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনে কর্মকর্তা/কর্মচারীর নৈমিত্তিক ছুটি বাতিলসহ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এই সময়ে মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাদের যেকোনো ট্রেনিং কয়েকদিন পিছিয়ে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে আয়োজন করতে হবে।
৭. চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে আজ (শনিবার) রাতের ভিতর নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করতে হবে।
৮. স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাম্বুলেন্সগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানিসহ প্রস্তুত রাখতে হবে।
৯. যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স সচল আছে, সেসব ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স মেডিকেল টিম এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানিসহ প্রস্তুত রাখতে হবে।
১০. নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সর্বক্ষণ চালু রাখতে হবে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের জরুরি হটলাইন নম্বর ০১৭৫৯১১৪৪৮৮।
১১. সর্বোপরি সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপারে সার্বক্ষণিক অবগত আছেন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিচ্ছেন বলেও উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
সভায় অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মঈনুল আহসানসহ অধিদপ্তরের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনএআর/
-
৯ ঘন্টা আগে
-
০৫ জুন, ২০২৬
-
০৪ জুন, ২০২৬
-
০২ জুন, ২০২৬
-
০১ জুন, ২০২৬
-
২৪ মে, ২০২৬
-
২৩ মে, ২০২৬
-
২২ মে, ২০২৬