১৯ জুলাই, ২০২৩ ০৯:১৭ পিএম

ফুলছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের সি-সেকশন চালু

ফুলছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের সি-সেকশন চালু
শাপলা বেগম নামে এক প্রসূতির সিজার করেন ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২৫ বছর পর গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো সিজারিয়ান সেকশন চালু করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিকেলে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শাপলা বেগম নামে এক প্রসূতির সিজারের মাধ্যমে এ সেবার দ্বার উন্মোচন করা হয়। বর্তমানে নবজাতক ও মা উভয়েই সুস্থ আছেন।

বিষয়টি আজ বুধবার (১৯ জুলাই) বিকেলে মেডিভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. মো: আব্দুল্লাহেল মাফী। তিনি বলেন, এটি ফুলছড়ি উপজেলার প্রসূতিদের জন্য আনন্দের খবর। এখন থেকে হাসপাতালে নিয়মিত সিজারিয়ান সেকশন হাসপাতালে হবে।

জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুজ্জামান সফলভাবে গৃহবধূ শাপলা বেগমের সিজার করান। এসময় আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিবুল হাসান, গাইনি ডা. ফারহানা মুসরাত দিশা, অ্যানাসথেশিয়া ডা. রিফাত হাসানসহ সব মেডিকেল অফিসার ও নার্সরা তাকে সহযোগিতা করেন।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট ফুলছড়ি উপজেলা হাসপাতালটি চালু হয়। পরে হাসপাতালটি ২০১৪ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রসূতি স্বাস্থ্য সেবায় জনবল সংকট থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন চালু ছিল না। গাইনি ও অ্যানাসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অচল পড়েছিল অপারেশন থিয়েটার। অবশেষে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসান রিপন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এ সংকট সমাধান করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশন থিয়েটারটি সচল করে।

স্থানীয়রা জানান, কোনো প্রসূতি মায়ের অবস্থার অবনতি হলে বা সিজারের প্রয়োজন হলে আগে বিভাগীয় শহর রংপুর ও জেলা শহরে গাইবান্ধায় যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় ছিল না। বর্তমানে হাতের নাগালে এ ব্যবস্থা চালু করায় কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই সিজারিয়ান সেবা পাওয়া যাবে। এ ব্যবস্থা আরও বেগবান করতে ও মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সিজার সেবায় সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রফিকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পর প্রথম সিজারে আমরা সফল হয়েছি। এ সফলতায় হাসপাতালের সব ডাক্তার ও নার্সরা সহযোগিতা করেছেন। ওটি শেষে প্রসূতিসহ নবজাতককে হাসপাতালের কেবিনে রাখা হয়েছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এখানেই প্রসূতি এবং নবজাতককে সেবা দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফুলছড়ি উপজেলা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসান রিপন স্যারের আগ্রহের মাধ্যমে ওটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। এজন্য তাকেসহ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : গাইবান্ধা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক