যমেকহায় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর হাতে ইন্টার্ন চিকিৎসক লাঞ্ছিত
মেডিভয়েস রিপোর্ট: যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (যমেকহা) চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের হাতে ইন্টার্ন চিকিৎসক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপ)।
আজ শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) সংগঠনের সভাপতি ডা. সাইফুদ্দিন আহমেদ খান শিহাব ও সাধারণ সম্পাদক ডা. শাজাহাদ জাহান দিহান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদপিলিতে এ দাবি জানান তারা।
এতে বলা হয়েছে, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে, গত ১৫ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখ বেলা দুইটায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে তাঁর উপস্থিতিতে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কর্তৃক কতিপয় সহিংস কর্মচারী কর্তৃক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা, অবমাননা, শারীরিক আঘাতের ঘটনা ঘটে, যা ন্যাক্কারজনক। ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ যমেকহা, এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। পরবর্তী দুই কর্মদিবসের মধ্যে উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সকল ইন্টার্ন চিকিৎসক জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন।
এতে সকল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ চার দফা দাবি তুলে ধরে। এগুলো হলো:
১. তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী দীপক, মেহেদী ও শাজাহানসহ অন্যান্য জড়িতদের চাকরিচ্যুত করা,
২. সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তত্ত্বাবধায়ক তথা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করতে হবে,
৩. সকল ইন্টার্ন চিকিৎসকের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে এবং
৪. রেডিওলজি বিভাগের অনৈতিক, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিচারের আওতাভুক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
যেভাবে হামলা হয়
গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুর ২টার দিকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের (ইচিপ) সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাজাদ জাহান দিহান এক্স-রে করতে যান। এ সময় হাসপাতালের অফিস সহকারী মেহেদী হাসান এক্স-রে বিভাগের কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সাধারণ রোগীদের ভিড়ের কারণ দেখিয়ে এক্স-রে সম্পাদনে বিলম্ব করেন মেহেদী হাসান। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলে ডা. দিহানের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন কর্মচারী মেহেদী হাসান।
এক পর্যায়ে অন্যান্য কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ডা. দিহানের ওপর হামলা চালায়।
পরবর্তীতে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও কর্মচারীদের দু’পক্ষই স্থানীয় বিএমএ সভাপতি ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেণুর শরণাপন্ন হন। কর্মচারী দীপক, মেহেদী হাসানসহ কয়েকজন জেনারেল হাসপাতালের সামনে বেসরকারি কিংস হাসপাতালে থাকা ডা. কামরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে ঘটনা সম্পর্কে জানান।
কোনো সমাধান না হওয়ায় সেখান থেকে ফেরার পর উভয় পক্ষকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আক্তারুজ্জামান তাঁর কার্যালয়ে ডাকেন। তাদের বক্তব্য শোনার সময় সেখানেও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে হাতাহাতি কিল-ঘুষিতে জড়িয়ে পড়ে কর্মচারীরা। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি তত্ত্বাবধায়কের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পরে বিষয়টি বিএমএ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ডা. এমএ বাশার, যশোর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েলকে জানানো হয়।
তারা তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে ঘটনা মীমাংসা করার জন্যে বৈঠকে বসেন। বেলা ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত চললেও কোন মীমাংসা ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক।
তবে কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের আশ্বাস দেন।
-
১৬ মে, ২০২৬
হার্ট অ্যাটাকের রোগীর মৃত্যুর জের
শরীয়তপুরে রোগীর স্বজনদের সংঘবদ্ধ হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসক
-
২১ এপ্রিল, ২০২৬
দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবি
ক্যান্সার হাসপাতালের উপ পরিচালককে কুপিয়ে জখম: ড্যাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ
-
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬