মেডিকেল ভর্তিচ্ছুদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শুক্রবার (২ এপ্রিল)। ইতিমধ্যে পরীক্ষার্থীরা তাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পরীক্ষার বাকি আর কয়েক ঘণ্টা। এ সময় করণীয় ও প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে অনেক কৌতুহল।
এ অবস্থায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে মেডিভয়েসের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন ২০১৮ সালের ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় প্রথম ইশমাম সাকিব অর্ণব।
তিনি বলেন, ‘এ সময় নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার কিছু নেই। যারা পরীক্ষা দেবে তাদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গেছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নার্ভাস না হওয়া। নার্ভাসনেস খুবই স্বাভাবিক। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়ে টেনশন হবেই। এক্ষেত্রে টেনশন না হওয়াটা বরং অস্বাভাবিক। টেনশন নেই মানে, পরীক্ষা নিয়ে আমার কোনো আন্তরিকতা নেই।’
পরীক্ষার আগে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ইশমাম বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় নিজের খেয়াল রাখাটা সবচেয়ে জরুরি, যেনো কোন অসুস্থতা না আসে। অনেকে এটাকে বলে ‘সাইকোজেনিক ইলনেস’ বলে। অর্থাৎ পরীক্ষার জন্য ডায়রিয়া ও শরীর খারাপ হচ্ছে ও পরীক্ষার টেনশনে শরীর খারাপ লাগছে। এটি যেনো না হয়, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।’
শেষ মুহূর্তে পড়াশোনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষায় সাধারণত মূল বই থেকে প্রশ্ন আসে। সুতরাং পরীক্ষার আগ মুহূর্তে একবার বইটা রিভাইস দেওয়া উচিত। কিছু কিছু ট্রিকি বিষয় থাকে, যা মানুষ ভুলে যায়, সেই বিষয়গুলো বারবার দেখতে হবে। কমন যে বিষয়গুলো মানুষ ভুলে যায়, সে বিষয়গুলোর পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত দুর্বলতার জায়গাগুলো বারবার দেখতে হবে। সর্বোপরি মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে। আর সৃষ্টিকর্তার কাছে চাইতে হবে।’
নিজের শেষ মুহূর্তের কথা স্মরণ করে ভর্তি পরীক্ষায় বাজিমাত করা এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘আসলে শেষ সময়ে আমি তেমন কিছুই করিনি। যে বিষয়গুলোতে আমি ভুলে যেতাম, সেগুলো রিভাইস দিয়েছি। পরীক্ষা হলের পরিকল্পনা নির্ধারণের চেষ্টা করেছি। কত মিনিটে কতগুলো প্রশ্নের উত্তর দেবো। কঠিন ও ট্রিকি প্রশ্নগুলো কিভাবে ফেইস করবো সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
‘পরীক্ষা সকাল ১০টায়। পরীক্ষার্থীদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বাসা থেকে বের হতে হবে, বিশেষত ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে যারা আছেন। আর পরীক্ষা হলে গিয়ে প্রথমে নিজের সিটটা খুঁজে নিতে হবে। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ঠিকঠাক নিয়েছি কিনা তা খেয়াল করতে হবে। যেহেতু এমসিকিউর জন্য বৃত্ত ভরাট করতে হয়। সেজন্য এমন কলম নিতে হবে, যাতে দ্রুত বৃত্ত ভরাট করা যায়’, যোগ করেন ভর্তি পরীক্ষায় দারুণ সফল এ মেডিকেল শিক্ষার্থী।
প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর করণীয় নিয়ে ইশমাম সাকিব অর্ণব বলেন, ‘প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর একটা সাইকেল কমপ্লিট করতে হবে অর্থাৎ একবার এক থেকে একশো’ পর্যন্ত যেতে হবে। সাধারণত প্রশ্ন যতই কঠিন হোক না কেন প্রথম ধাপে সবাই ৭০ থেকে ৮০টা প্রশ্নের উত্তর করতে পারে। এটা প্রথম ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের ভেতর শেষ করে ফেলতে হবে। আমি ৭৫টা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় সাইকেলে ট্রিকি প্রশ্নগুলোর উত্তর করতে হবে। শতকরা ৯০ ভাগের বেশি প্রশ্নের উত্তর করার চেষ্টা করতে হবে। তবে ১০০টি প্রশ্নের উত্তর করবে কী করবে না সেটা নির্ভর করবে পরীক্ষার্থীর নিজের প্রস্তুতি ও ব্যক্তিগত ইচ্ছার উপর। আমি করিনি, কারণ ১০০টা পশ্নেরই উত্তর নিলে নিশ্চিতভাবে দুই বা চারটা উত্তর ভুল হবে। এজন্য ৯০ থেকে ৯৫ বা তার আশপাশে উত্তর করলেই ভালো হবে।’
নার্ভাস ও সিরিয়াল ব্রেক করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৫৯ এর টা ৬০ নম্বরে একবার দাগিয়ে ফেললাম পরে আর দেখলাম না, ওইভাবে চলতে থাকলো। এভাবে কয়েকটা সিরিয়াল ভুল হয়ে গেলে, এটি একটি বিরাট ভুল। এই জিনিসটা করা যাবে না। এজন্য যতটা সম্ভব মাথা ঠাণ্ডা করে পরীক্ষা দিতে হবে। কমন প্রশ্ন শেষে দ্বিতীয় ধাপে ট্রিকি প্রশ্নে যেতে হবে। আর যে প্রশ্নের জন্য অংক রাফ করতে হয়, সেগুলা পরে করা উচিত।’
এ সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ও শিক্ষার্থীদের করণীয় বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইশমাম সাকিব বলেন, ‘পরীক্ষার আগে কিছু ফেইক প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যায়। এসব না দেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর পরীক্ষার আগের দিন যারা ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় নষ্ট করছে তাদেরকে নিয়ে কিছুই বলার নেই। তারা শুধু শুধু সময় নষ্ট করে নিজেদেরই ক্ষতি করবে। নিজের প্রস্তুতির দিকে ফোকাস করতে হবে। প্রস্তুতি ভালো থাকলে চান্স হবে ইনশাআল্লাহ।’
-
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
-
১৬ জুন, ২০২৫
-
১৭ মে, ২০২৫
-
২৪ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২২ জানুয়ারী, ২০২৫
জাতীয় মেধায় দ্বিতীয়
ক্যান্সারে বাবার মৃত্যু ও মায়ের ইচ্ছাতে মেডিকেলে সানজিদ সিরাজ
-
২২ জানুয়ারী, ২০২৫
-
২০ জানুয়ারী, ২০২৫
কাগজপত্র যাচাই ২৯ জানুয়ারি
কোটায় সুযোগ পাওয়া ১৯৩ শিক্ষার্থীর মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চয়তায়