২৪ জুলাই, ২০২০ ১০:২৪ এএম

এমন পরিস্থিতিতে আমিও পদত্যাগ করতাম: সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এমন পরিস্থিতিতে আমিও পদত্যাগ করতাম: সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মেডিভয়েস ডেস্ক: দেশে করোনাভাইরাসের মহামারি পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ও খ্যাতিমান অর্থোপেডিক চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. আফম রুহুল হক।

তিনি বলেন, করোনায় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রতি মানুষের এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকলে প্রশ্নের সুযোগই দিতাম না, আগেই নিজ থেকে সরে যেতাম।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম কালের কন্ঠকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ডা. আফম রুহুল হক বলেন, পদ-পদবির চেয়ে সম্মানটি অনেক বড় হওয়া উচিত। বিভিন্ন মহলে, এমনকি সংসদেও যে ভাষায় ভর্ত্সনা করা হয়েছে তা শুনেও ওই পদে থাকা কঠিন। এ ছাড়া আমি এখন মন্ত্রী থাকলে করোনা শনাক্তে অবশ্যই অনেক পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করতাম, যেটা শুরু থেকে না করে বড় ভুল হয়েছে। এটা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারা বারবার বলেছে বেশি পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না। পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়ানোর দরকার হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো করতে হলো। কিন্তু তত দিনে সংক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে। আর এসব কাজের জন্য অপরিকল্পিতভাবে বা নিয়ম ভেঙে কেনাকাটাও হয়েছে।

সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদত্যাগ করে ভালো করেছেন। তবে বিদ্যমান কাঠামো বহাল থাকলে শুধু চেয়ারের মানুষ পরিবর্তন করেই লাভ হবে না। প্রয়োজন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আমূল সংস্কার। কারণ দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনা আর বিশৃঙ্খলার সুযোগ রয়ে গেছে বর্তমান কাঠামোর ভেতরেই। যদি একজন মন্ত্রী, সচিব, ডিজি বা পরিচালক পাল্টালেই সমস্যার সমাধান হয়ে যেত, তবে বছরের পর বছর, সরকারের পর সরকার দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনা আর বিশৃঙ্খলা টিকে থাকত না।

স্বাস্থ্য খাতের সিন্ডিকেট নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সিস্টেমের (ব্যবস্থার) ভেতর দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের সুযোগ করে দেওয়া আছে। ফলে সব সরকারের সময়ই এগুলোর জাল বিস্তার করা থাকে। আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম আমিও চেষ্টা করেছিলাম এই সিন্ডিকেট ভাঙতে, কিন্তু পারিনি। আমার আগে ও পরে যাঁরা ছিলেন তাঁরাও পারেননি। যদি সিস্টেম পাল্টানো না হয় তবে সামনে যাঁরা আসবেন তাঁরাও হয়তো পারবেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগ:

গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিসহ স্বাস্থ্যখাতের নানা অনিয়ম নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে পদত্যাগ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। 

কোভিড হাসপাতাল হিসেবে অনুমোদন পাওয়া রিজেন্ট হাসপাতাল এবং নমুনা সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান জেকেজির দুর্নীতি, অনিয়ম ও প্রতারণার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অধিদপ্তর জানায়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এই বক্তব্যের পর অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওই সময়সীমার শেষ দিনে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সচিবের কাছে নোটিসের লিখিত জবাব দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সমন্বয়হীনতা বিষয়টি প্রকাশ্যে রূপ নেয়।

করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সরঞ্জাম (পিপিই) সরবরাহে ব্যর্থতাসহ নানা অনিয়মে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। আর এসব অনিয়ম নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই পদত্যাগ করলেন তিনি।

নতুন মহাপরিচালক ডা. খুরশীদ আলম:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। সদ্য পদত্যাগ করা অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-২ অধিশাখার উপসচিব মো. আবু রায়হান মিঞা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশে তাকে অনতিবিলম্বে বদলিকৃত পদে যোগদান করতে বলা হয়েছে।

এক নজরে ডা. খুরশীদ আলম:

অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম ১৯৬১ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২২ নভেম্বর ১৯৮৪ ইন সার্ভিস ট্রেনিং এর আওতায় সহকারী সার্জন হিসেবে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন। ১৯৮৬ সালের ৪ অক্টোবর মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন সাব সেন্টার ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি সহকারী সার্জন হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালন করেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এর সার্জারী বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের সাথে চিকিৎসা কার্য পরিচালনা করেন। সার্জারী বিষয়ের জুনিয়র কন্সালটেন্ট হিসেবে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে সিনিয়র কন্সালটেন্ট হিসেবে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন। সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল এর দায়িত্ব পালন করে এই কৃতি শিক্ষক ও চিকিৎসা কর্মকর্তা অধ্যাপক হিসেবে ২০১৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন। 

এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনস (বিসিপিএস) এর সেক্রেটারি হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে করোনাভাইরাস চলাকালে নানা অনিয়ম ও সমালোচনার মুখে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ডা. আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগ করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ জনপ্রশসন মন্ত্রণালয় তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক