১৯ জুন, ২০২০ ০২:০৩ পিএম

করোনায় স্বাস্থ্য বিভাগের অদূরদর্শী বক্তব্যে কাদেরের ক্ষোভ

করোনায় স্বাস্থ্য বিভাগের অদূরদর্শী বক্তব্যে কাদেরের ক্ষোভ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের অদূরদর্শী বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে দেয়া ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার যখন দিনরাত পরিশ্রম করে মানুষের মনোবল চাঙা রাখার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখন স্বাস্থ্যবিভাগের কোনো কোনো কর্মকর্তার করোনার আয়ুষ্কাল নিয়ে অদূরদর্শী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য জনমনে হতাশা তৈরি করেছে।’ এ ধরনের সমন্বয়হীন, অযাচিত বক্তব্য থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান সরকারের এই মুখপাত্র।

তিনি বলেন, করোনার এ সংকটে সম্মুখভাগের যোদ্ধাদের অনেকেই দেশ-জাতির সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে খুলনায় একজন চিকিৎসক হত্যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এ হত্যার তীব্র নিন্দা এবং নিহত চিকিৎসকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ওবায়দুল কাদের।

এ সংকটে চিকিৎসকসহ সম্মুখযোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না, অন্যায়কারী যত ক্ষমতাবানই হোক তার রেহাই নেই।

সংক্রমণের বর্তমান পর্যায়ে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রশাসনকে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ২/৩ বছর থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতি ২/৩ মাসে শেষ হচ্ছে না। এটি দুই থেকে তিন বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় স্থায়ী হবে। যদিও সংক্রমণের মাত্রা উচ্চহারে নাও থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, যোগাযোগ, ধর্ম, বাণিজ্য, অর্থাৎ জীবনের সকল উপজীব্যকে ঘিরে। কিন্তু তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে অধিকতর জোরালো নজর দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ২ হাজার চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগ এ তৎপরতারই অংশ।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, করোনা সংক্রমণের কিছুকাল পরেই বাংলাদেশে সংক্রমণের উঁচু হার কমে আসতে পারে। কিন্তু করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করলে অনেক লুকায়িত ও মৃত কেসও শনাক্ত হবে। সে ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা দৃষ্টিগোচর নাও হতে পারে।’

  ঘটনা প্রবাহ : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক