অ্যান্টিবডির সনদ থাকলেও বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে ডা. ফেরদৌস!
মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনায় দেশের ক্রান্তিকালে মানুষের সেবায় দেশে এসে একরকম বিপাকে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক প্রবাসী আলোচিত বাংলাদেশি চিকিৎসক ফেরদৌস খন্দকার। বিমান বন্দরে আমেরিকার মেডিকেল সেন্টারে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার সনদ দেখানোর পরও কর্তৃপক্ষ তাঁকে বাড়ি যেতে না দিয়ে হজ্ব ক্যাম্পে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে পাঠায়। এছাড়াও ট্যাক্স না পাওয়ায় অভিযোগে আটকে দেওয়া হয় সঙ্গে করে আনা আটটি স্যুটকেস। যাতে তিনি দেশের চিকিৎসকদের জন্য নিয়ে আসেন মাস্ক, গ্লাভস ও পিপিই।
সোমবার (৮ জুন) সকালে ফেসবুক লাইভে এসে সার্বিক বিষয়ে কথা বলেন ডা. ফেরদৌস। এসময় তার সাথে ঘটা এসব ঘটনায় বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেন।
ডা. ফেরদৌস বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে আমিও জানি, কাদের কোয়ারেন্টিনে রাখতে হয়। কিন্তু আমার শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, তার মানে কোনো না কোনোভাবে আমি এখন করোনা প্রতিরোধী, নিশ্চয়ই চিকিৎসকরা বিষয়টি ভালো বোঝেন। আর অ্যান্টিবডির সনদও আমি দেখালাম, তার পরও আমাকে হ্বজ ক্যাম্পে প্রায় ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে! এটি কেন করা হচ্ছে আমি জানি না।
তিনি বলেন, আমিতো কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য বাংলাদেশে আসিনি। এসেছি মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য। করোনা তাণ্ডবকালে একটি দিন আমার কাছে একটি মাসের মতো। এখন একটি দিন আগে পেলে মানুষের সেবায় দিনটি আমি ঢেলে দেব। কিন্তু ১৪ দিন এখানে থাকতে হলে দেশের মানুষের জন্য আমি অনেক কিছুই করতে পারবো না। এখানে যেভাবে আমাকে রাখা হয়েছে, সেটি অনেক হতাশার, অপমানের।
ডা. ফেরদৌস আরো বলেন, আমি কাকে বোঝাবো বলুন। এই ল্যান্ডের হয়তো এটাই নিয়ম, আমি শুধু বলবো আমি এসেছি। আমি এসেছি, আমার মতো এই দুটি হাত না থাকলেও হয়তো কিছু হবে না। এরকম অজস্র হাজার সহস্র ফেরদৌস খন্দকার আপনাদের মাটিতে আছে। তাও বুকের ভেতর সে ভালোবাসা নিয়ে আমি এসেছি। আমাকে ভালোবাসা না দেন, ধিক্কার না দেন। আমি একজন মানবদরদী, ডাক্তার হয়ে, মানুষ হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্ত করব। বিরুদ্ধচারণ হচ্ছে, আমি এই ভূখণ্ডে থেকে ফাইট করব, আপনাদের পাশে দাঁড়াব, আমৃত্যু আপনাদের সাথে আছি। আশা করি আপনারাও আমাকে গ্রহণ করবেন সেভাবে।
নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে ফেরদৌস বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যাচার করা হচ্ছে এবং যেভাবে আমার চরিত্রে কালিমা লেপন করা হচ্ছে সেটি খুবই পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। কারা এমনটি করছে, কেন করছে- নেত্রী যেন সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই।
এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বিশেষ ফ্লাইটে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় পৌঁছে তাকে প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ ওই ফ্লাইটে দেশে ফেরা ১২৮ জনের মধ্যে একজন ছাড়া সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে তিনিও আছেন।
বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ডা. ফেরদৌস খন্দকারের করোনার লক্ষণ থাকায় তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে মহাখালীতে ব্র্যাক ট্রেনিং সেন্টারে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন।
ডা. সাজ্জাদ বলেন, ডা. ফেরদৌস খন্দকারের করোনা নেগেটিভ সনদ থাকলেও অ্যান্টিবডি টেস্ট পজিটিভ থাকায় করোনা হয়েছিল এটি বোঝা যায়। এখন সেটি রিকভারি হয়ে গেছে না-কি এখনো অ্যাক্টিভ আছে সেটি আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না। এজন্য তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। সেখানে যদি দেখা যায় তাঁর মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি নেই তাহলে তিনি চলে যেতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত পরামর্শ নিয়ে মানুষের পাশে আছেন নিউইয়র্কের মাউন্ট সাইনাই হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌস খন্দকার। করোনার সংক্রমণ ঠেকানো এবং করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার বিষয়ে তিনি নিয়মিত ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলেছেন। উত্তর দিয়েছেন দর্শকদের নানা প্রশ্নের। এসব কারণে দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। যার প্রমাণ মিলেছে ফেসবুকে নানা আলোচনায়। এছাড়া করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের আপাতত কার্যকর অস্ত্র ‘প্লাজমা থেরাপি’র প্রসারে প্লাজমা দানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে দাতাদের আর্থিক সহযোগিতা করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। কম ও স্বল্প আয়ের মানুষের মাঝে ব্যক্তিগত অর্থায়নে মাস্ক এবং খাদ্য সামগ্রীও বিতরণ করেছেন বাংলাদেশি এই চিকিৎসক।
-
০৮ জুলাই, ২০২৫
-
২৪ জুন, ২০২৫
-
২৩ জুন, ২০২৫
-
১৯ জুন, ২০২৫
-
১৮ জুন, ২০২৫
-
১৪ জুন, ২০২৪
-
০৭ জুন, ২০২৪
-
০৩ জুন, ২০২৪