২৭ জুলাই, ২০২৫ ০৬:৪৯ পিএম

অ্যালোকেশন পদ্ধতি বাতিল চেয়ে বিসিপিএসের প্রশাসনিক ব্লকে প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের তালা

অ্যালোকেশন পদ্ধতি বাতিল চেয়ে বিসিপিএসের প্রশাসনিক ব্লকে প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের তালা
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: এফসিপিএসে অ্যালোকেশন পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা। আজ রোববার (২৭ জুলাই) বিকেলে বিসিপিএস সি ব্লকের প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেন তারা।

এর আগে সকাল ১০টা থেকে বিসিপিএসের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা। তালাবদ্ধ থাকায় আন্দোলনকারীরা এক পর্যায়ে ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং প্রশাসনিক ভবনের সবগুলো প্রবেশমুখে তালা লাগিয়ে দেন।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই সেশনের এফসিপিএস পার্ট-১ পাস করা চিকিৎসকরা ট্রেনিং অ্যালোকেশন পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বিসিপিএসে আবেদন নিয়ে যান। তাদের উপস্থিতি জানতে পেরে কলেজ কর্তৃপক্ষ মূল প্রবেশদ্বার তালাবদ্ধ করে রাখে। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অবস্থান কর্মসূচি ও প্রতিবাদ শুরু করেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দলনরত এক চিকিৎসক বলেন, ‘অধ্যাপক ডা. বিল্লাল আলম স্যার আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করে আশ্বাস দেন যে, মিটিং শেষে বিসিপিএস সভাপতি ও সচিব চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলবেন। কিন্তু বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও কোনো কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে আলোচনায় আসেননি। এতে আন্দোলনকারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।

প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের অভিযোগ, বিসিপিএসের কিছু কর্মচারী চিকিৎসকদের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন ও বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেন, যা আন্দোলনকারীদের বিক্ষুব্ধ করে তোলে।

চিকিৎসকরা জানান, একই ডিগ্রির জন্য ভিন্ন ভিন্ন সেশনে ভিন্ন নিয়মে ট্রেনিং পোস্ট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা ন্যায়সঙ্গত নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আগের নিয়ম অনুযায়ী সকল সেশনের জন্য একক নিয়মে ট্রেনিং পোস্ট বরাদ্দ দিতে হবে।’

চিকিৎসকরা বলেন, বিসিপিএস এমন কিছু হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানকে ট্রেনিং পোস্ট হিসেবে যুক্ত করেছে যেগুলোর নেই মানসম্মত ট্রেইনার, পোস্টগ্র্যাজুয়েট সুবিধা কিংবা পর্যাপ্ত অবকাঠামো। এতে ট্রেনিং প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

আন্দোলনরত আরেক চিকিৎসক বলেন, অ্যালোকেশনে চয়েস দিতে হয় ২৫টি প্রতিষ্ঠানে, যেখানে প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই, সদর হাসপাতালসহ সে সকল ইনস্টিটিউটে পদায়ন করা হচ্ছে, যা আগে ছিল না।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য পোস্টগ্র্যাজুয়েশন পরীক্ষার আগে ইনস্টিটিউটের ব্যাপারে একটি পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয়, সেখানে বিসিপিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এলোকেশন দিয়ে মানহীন প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং চাপিয়ে দিচ্ছে। এলোকেশনের কারণে হাসব্যান্ড-ওয়াইফকে ট্রেনিংয়ের জন্য ভিন্ন শহরে চলে যেতে হচ্ছে, যা পূর্বে ছিল না।

তিনি দাবি করেন, এলোকেশনের মাধ্যমে পদায়ন করা অনেক প্রতিষ্ঠান, যেমন—সদর হাসপাতালগুলোতে মানসম্মত ট্রেনার এবং ট্রেনিংয়ের পরিবেশ নেই।

এদিকে বিসিপিএস সচিব অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ জামাল আন্দোলনকারীদের গতকাল শনিবার (২৬ জুলাই) আবেদন করতে বলেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে নির্দেশনা অনুসারে প্রশিক্ষণার্থীরা বিসিপিএসে এসে তাঁকে পাননি।

তাদের অভিযোগ, বিসিপিএস সচিব উপস্থিত না থেকে ফোনে কর্মচারীদের আন্দোলন দমনে নির্দেশ দিয়েছেন।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ান এন্ড সার্জনস (বিসিপিএস)
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত