১১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:৪২ পিএম

২০৩০ সালে স্বাস্থ্য খাতের বাজার হবে ২৩ বিলিয়ন ডলার: সিলভানা কাদের

২০৩০ সালে স্বাস্থ্য খাতের বাজার হবে ২৩ বিলিয়ন ডলার: সিলভানা কাদের
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে প্রাভা হেলথের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার সিলভানা কাদের সিনহা বলেছেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের বাজার ২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।’ বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনের একটি অধিবেশনে এ কথা বলেন তিনি।

অধিবেশনে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা উন্মোচন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মূল বক্তৃতা প্রদান করেন প্রাভা হেলথের প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিলভানা কাদের। এতে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান।

সিলভানা কাদের বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বড় এবং ২০৩৩ সালের মধ্যে এই খাতের বাজার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে যা ২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। চিকিৎসা, ভোগ্যপণ্য ও উন্নত ডায়াগনস্টিক সরঞ্জামের চাহিদা এ খাতের বাজার বৃদ্ধির পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত এখনো ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর, কিন্তু এই খাতে স্থানীয় উৎপাদনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ইন ভিট্রো ডায়াগনস্টিক কিট ও স্বল্প ঝুঁকির হেলথ মনিটরিং ডিভাইস তৈরিতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, অপারেশন থিয়েটার এবং আইসিইউ সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ছে, যা স্থানীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগকারীদের জন্য লাভজনক হতে পারে।

প্রাভা হেলথের চেয়ারম্যান বলেন, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত বার্ষিক ১০ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। খাতটি প্রায় তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে এবং বর্তমানে এটি দেশে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে পরিণত হয়েছে। সিলভানা কাদের বলেন, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রসার, অসংক্রামক রোগের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই খাতের সম্ভাবনা আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বৈচিত্র্য সম্পর্কে সিলভানা আরও বলেন, এটি পাঁচটি মূল উপখাতে বিভক্ত—স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, ওষুধশিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি, ডিজিটাল হেলথ এবং চিকিৎসা জীবপ্রযুক্তি। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিস্তার এই খাতকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং সরকারের নানা প্রণোদনার মাধ্যমে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে। বিশেষ করে মহানগরের বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণে কর অব্যাহতির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা পিপিপির (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব) দিকে পরিচালিত করছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতও বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করেন সিলভানা কাদের।। জানান, এটি একটি ‘ফারমার্জিং মার্কেট’ এবং ২০২৫ সালের মধ্যে এই খাতের বাজার ছয় বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যার বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল, অ্যান্টিবায়োটিক ও জ্বর নিরাময়ী ওষুধের ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদননির্ভরতা অনেক বেশি; যা দেশের চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে নতুন উদ্ভাবন সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই খাতে বিনিয়োগের জন্য দেশের প্রযুক্তি খাত ও স্থানীয় উদ্ভাবনী সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশ চিকিৎসা খাতে বিশ্বের অন্যতম গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমানও দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি স্বাস্থ্যখাতের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরে দেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে ২০৩৩ সালের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যখাতের বাজারের পরিমাণ ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। এতে স্পষ্ট যে, দেশের স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : স্বাস্থ্যখাত
অনুপস্থিতি ও বেসরকারি হাসপাতালে মালিকানা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক