ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় দ্বিতীয় মালিহা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ২০২৪-২৫ সেশনের ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন মাহবুবা খান মালিহা। ভর্তি পরীক্ষায় তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৮৪ এবং মোট নম্বর ১৮৪।
তুখোর মেধাবী মালিহা এসএসসি পরীক্ষায় ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। মালিহার জন্ম নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে। পিতা মাহমুদুল হক খান সোনালী ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন।
শহরের নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তার স্কুল জীবন শুরু, সেখানে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে ঢাকায় চলে আসেন।
তিনি রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০২২ সালে এসএসসি এবং অভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২৪ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখেন মালিহা। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পরীক্ষায় পান জিপিএ-৫।
সফলতার অনুভূতি সম্পর্কে মালিহা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, আল্লাহ চাওয়ার কারণে হয়েছে, ভর্তি পরীক্ষার অনেক আগে থেকে অনেক পরিশ্রম করেছিলাম, পরিশ্রমের ফলাফল পেলাম আলহামদুলিল্লাহ।’
এই অবস্থানে আসার পেছনে কাদের অবদান রয়েছে—জানতে চাইলে মাহবুবা খান মালিহা বলেন, ‘বাবা-মা অনেক সহযোগিতা করেছিল, তাদের জন্য এই জায়গায় আসতে পারা। মার স্বপ্ন ছিল আমি ডাক্তার হই।’
পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবদানকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মালিহা। বলেন, ‘ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে ছিলাম, ক্লাসে সবসময় সেরা দশে থাকতাম। এই অবস্থানে আসতে এটা আমাকে অনেকটা মনোবল যুগিয়েছে, আত্মবিশ্বাসী করেছে।’
সফলতা অর্জনের বিষয়ে মালিহা বলেন, ‘শুরু থেকেই ধারাবাহিক থাকা জরুরি। প্রস্তুতির শুরুতে ধারাবাহিক ছিলাম। প্রতিটা দিন একইভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।’
ডাক্তারি পড়ায় মনোযোগী হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা ছোট বেলা থেকেই, সাদা এপ্রোন দেখে ছোটবেলা থেকেই অনুপ্রাণিত হই। তখন থেকেই ইচ্ছা আমিও একদিন সাদা এপ্রোন পরা ডাক্তার হবো। সে অনুযায়ী ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা জন্মেছিল। ওই অনুযায়ী এগিয়ে ছিলাম।’
দ্বিতীয় হতে পড়াশোনার কৌশল ও সময় জানিয়ে মালিহা বলেন, ‘পড়াশোনার জন্য ধরাবাঁধা নিয়ম ছিল না। যখন ইচ্ছে করতো তখন পড়তাম, যখন ইচ্ছা করতো বিশ্রাম নিতাম। পড়াশোনার জন্য সময় নির্দিষ্ট ছিল না। তবে এই বিষয় নির্দিষ্ট ছিল যে, আজ এই চ্যাপটারটা এতটুকু শেষ করবো বা এই এই সমস্যার সমাধান করবো, এগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতাম।’
প্রস্তুতির সময় নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কোচিংয়ের প্রতিদিনের পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা দুর্বলতাগুলো নির্দিষ্ট করতাম। কোচিংয়ের অনলাইন অফলাইনে আমি অনেক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। এর মাধ্যমে নিজের দুর্বলতা বুঝতে পারতাম।’
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে মালিহা বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় থেকেই একাডেমিক সিলেবাসের পরিষ্কার ধারণা রাখতে পারলে ভর্তি পরীক্ষার জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিতে কোনো সমস্যা হয় না। তখনকার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অতিরিক্ত তথ্যগুলো আয়ত্ত করতে সহজ হয়ে যায়, যা আমার ক্ষেত্রে হয়েছে। আমি মনে করি, একাডেমিক সিলেবাসকে লক্ষ্য রেখে প্রতিটা স্বচ্ছ ধারণা রাখতে হবে। তা করতে পারলে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি সহজ হয়ে যায়।’
প্রসঙ্গত, এ বছরের ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেছেন মোট ৫১৮ জন। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে আবেদন করেন ৬৮ হাজার ৬৮৪ জন। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মোট আসন ৫৪৫টি। সে হিসাবে প্রতি আসনের বিপরীতে ১২৬ জন ভর্তীচ্ছু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবারও পাস নম্বর ছিল ৪০।
টিআই/এমইউ
-
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
-
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
-
২৭ মার্চ, ২০২৫
-
০২ মার্চ, ২০২৫
-
১২ নভেম্বর, ২০২৪
-
১০ মার্চ, ২০২৪
-
০৬ মে, ২০২৩
-
০৪ মে, ২০২৩
-
২৪ এপ্রিল, ২০২২