০৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৫:১৭ পিএম

‘বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়স ৩৪ করতে আপত্তি নেই পিএসসির’

‘বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়স ৩৪ করতে আপত্তি নেই পিএসসির’
ছবি: সংগৃহীত

নবাব আব্দুর রহিম: বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়সসীমা ৩৪ বছর করতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম।

আজ রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকালে বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়স বৃদ্ধি আন্দোলনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি। পরে বিষয়টি মেডিভয়েসকে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) জেনারেল সার্জারি বিভাগের রেসিডেন্ট ডা. রুহুল আমিন।

এসময় অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে আলোচনা করে বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়স ৩৪ বছর করার বিষয়ে সমাধানের উদ্যেগ নেওয়া হবে। আর এতে পিএসসির কোনো আপত্তি নেই।

এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর পিএসসির চেয়্যারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘একজন চিকিৎসক বিসিএসে অংশ নিতে গড়ে আট বছর সময় পান। অন্যরা পাচ্ছেন দশ বছর। সে হিসাবে সরকার চাইলে তাদের বয়সসীমা আরও বাড়ানো যেতে পারে।’

জানা গেছে, আগের বিসিএসগুলোতে যেখানে সাধারণ বয়সসীমা ছিল ৩০ বছর, তখনও ৩২ বছর পেতেন চিকিৎসকরা। এমবিবিএস সম্পন্ন করতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুই বছর অতিরিক্ত সময় দেওয়া হতো তাদের। কিন্তু ৪৭তম বিসিএসে সে সুযোগ রাখা হয়নি। সবার মতোই ৩২ বছর রাখা হয়েছে তাদের বয়সসীমা।

গত ৫ ডিসেম্বর বয়সসীমা ৩৪ বছর করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন চিকিৎসকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে একইদিন পিএসসি চেয়ারম্যানের মন্তব্য জানতে চান মেডিভয়েস প্রতিবেদক।

আলাপকালে ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে চিকিৎসকদের বয়সসীমার বিষয়টি আলোচনায় রাখা হয়নি বলে জানান পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকদের জন্য আগে বয়সসীমা ৩২ বছর রাখা হয়েছিল, কিন্তু সেটি এখন সবার জন্যই প্রযোজ্য।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত আমরা ১৮ বছর বয়সে আন্ডারগ্রাজুয়েট শুরু করি। সাধারণ শিক্ষার ক্ষেত্রে ৪ বছর লাগে, তাদের ৬ বছর। ডাক্তার হওয়ার জন্য তারা এই স্যাক্রিফাইসটি করেন। কিন্তু ৩২ বছরের মধ্যেই যত খুশি ততবার বিসিএস দেওয়া যাবে। ফলে আমার কাছে মনে হয়, এটি সবাইকে উদ্দেশ্য করেই করা হয়েছে।’

‘তাদের (চিকিৎসক) বয়স কমিয়ে দেওয়া হয়নি, বরং বত্রিশই আছে, উল্লেখ করে পিএসসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘চিকিৎসকরা গড়ে ২৪ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস করেন। ২৪ থেকে ৩২, আট বছর হয়। আট বছর ধরে আপনি চাকরিতে চেষ্টা করবেন, এর বেশি আপনাকে দেওয়া হবে কেন? এটি তেমন যুক্তিযুক্ত না।’

এ ক্ষেত্রে অন্যরা বেশি সময় পাচ্ছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওদের (চিকিৎসক) পড়াশোনার ধরনটি আলাদা। ফলে এখন যদি সরকার মনে করে এটি বিবেচনায় নেওয়া দরকার, তাইলে সেটা হতে পারে।’

তবে সবার জন্য ৩২ বছর রাখাকে ব্যক্তিগতভাবে বৈষম্য বলে মনে করেন না এই শিক্ষাবিদ। বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি বৈষম্য। একেকটি পড়াশোনার ধরন একেক রকমের। চিকিৎসকরা জেনেশুনেই আসেন যে, এখানে শুধু তত্ত্বীয় পড়াশোনা হয় না, প্র্যাকটিক্যালিও পড়াশোনা করতে হয়।’

প্রসঙ্গত, ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মোট তিন হাজার ৪৮৭টি  ক্যাডারের বিপরীতে এই বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে পদ রয়েছে এক হাজার ৩৬১টি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সর্বোচ্চ বয়স ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর নির্ধারণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু বাদ দেওয়া হয়েছে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত দুই বছরের সুবিধা। ফলে সাধারণ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তুলনায় দুই থেকে তিন বছর অতিরিক্ত সময়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর অসম এক প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে তাদের।

চিকিৎসকরা বলছেন, তাদের গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে সাধারণত ন্যূনতম ছয় থেকে সাড়ে ছয় বছর লেগে যায়। অন্যরা এক্ষেত্রে চার বছরেই শেষ করে ফেলে। ফলে চাকরির বয়সের ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে দুই বছর পিছিয়ে থাকেন তারা।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : পিএসসি
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক