ছয় বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার, বেপরোয়া চালানোসহ আরও যা দায়ী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গত সাড়ে ছয় বছরে ১৫ হাজার ৭১২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ১৪ হাজার ১৪৩ জন। দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অর্ধেকের বেশির বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। কিশোর-যুবকদের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে উঠে আসছে পরিসংখ্যানে।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে এ বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত সারা দেশে ১৬ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটি বলছে, চার চাকার অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু দেশে গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য না হওয়া এবং যানজটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ার অন্যতম কারণ মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার না করা। মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ২২ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে। ৩৪ শতাংশের বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। আর ৩৯ শতাংশের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়।
দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহন
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার জন্য মোটরসাইকেলের চালক এককভাবে দায়ী ৩৬ শতাংশের বেশি। পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে ৪০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাসের চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার মধ্যে জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। আঞ্চলিক সড়কে ৪২, গ্রামীণ সড়কে ১২ শতাংশ এবং শহরের সাড়ে ১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যালোচনা বলছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশ মোটরসাইকেল। যার একটি বড় অংশ কিশোর-যুবকেরা চালান।
কিশোর-যুবকদের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা-ভঙ্গি কিশোর–যুবকদের অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেলের প্রতি আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি গতি তুলতে উৎসাহিত করছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার যেসব কারণ পেয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা, রাজনীতিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি না থাকা, ত্রুটিপূর্ণ ও দুর্বল সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তির ব্যবহার ও নজরদারির অভাব, সহজ-সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি এবং অসহনীয় যানজট।
দুর্ঘটনা কমাতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সুপারিশ হচ্ছে মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে, মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে, বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তামূলক প্রচারণা চালাতে হবে, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষাভঙ্গি পরিবর্তন আনতে হবে, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে এবং সহজ-সাশ্রয়ী যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালু করতে হবে।
এমআই/