সেবার মানসিকতা ছাড়া চিকিৎসার মানোন্নয়ন অসম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সেবার মানসিকতা ছাড়া চিকিৎসার মান উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে রোগীর প্রতি মানবিক ও সেবামূলক মনোভাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চিকিৎসা পেশা শুধু একটি চাকরি বা পেশা নয়; এটি মানুষের জীবন ও কল্যাণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই চিকিৎসকদের মধ্যে মানুষের সেবা করার মানসিকতা থাকতে হবে। সেবার মানসিকতা ছাড়া চিকিৎসাসেবার কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবার পরিসর বাড়াতে সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, চিকিৎসকরা যদি সেবার মানসিকতা নিয়ে নিজেদেরকে নিবেদিত না রাখেন, তাহলে এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে কিন্তু আমাদের সফলতা আসবে না।’
বর্তমান সরকার আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নাগরিকদেরকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করবেন। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীরা রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকবেন কিংবা কতটা থাকবেন এটা নিয়ে বিভিন্ন মহলে একটি আলোচনা আছে। এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতও রয়েছে। আমার মতটি আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সকল কাজকেই প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী-শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী সবাই যার যার মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকবেন বা সচেতন থাকবেন এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন না ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়, সেটি হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন খুব সম্ভবত প্রত্যেকটি খাতে সামগ্রিকভাবে সারা বাংলাদেশে এখন সময়ের একটি কঠিন দাবি। এটা আমরা সবাই সেটি অনুভব করতে পারি, বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে।
এ সময় ড্যাবের পক্ষ থেকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও চিকিৎসা সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
সে প্রসঙ্গে চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের অবস্থান থেকে যদি আমরা চিন্তা করি, তাহলে এই দাবিগুলো হয়তোবা খুব একটু অযৌক্তিক নয়। তবে এ ব্যাপারটিও কিন্তু আমাদের সবার বিবেচনার মধ্যে থাকা উচিত, সেটি হচ্ছে বর্তমান সরকার যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে—আমরা একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছি বলা যায়। আমরা পেয়েছি একটি দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা, ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সেই অবস্থা থেকে সরকার চেষ্টা করছে সারা দেশকে সফলভাবে ঘুরিয়ে দাঁড় করাতে পারে।’
এ সময় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের সহযোগিতা-সমর্থন ছাড়া অবশ্যই সরকারের পক্ষে এগুলোকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।’
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনাদেরকে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়। তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে সৈতুল্য একদিকে সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, অপরদিকে চিকিৎসক কিংবা চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কেও জনমনে অনাস্থা তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে দেশের মানুষ চিকিৎসকদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা প্রত্যাশা করে। আসুন, আমরা সকলে মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হবে না।
অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনের নেতাকর্মী ও চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/