জুলাই অভ্যুত্থানে বিরোধিতা
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও মেডিভয়েসের ব্যাখ্যা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: জুলাই আন্দোলনে বিরোধিতা নিয়ে গত ৬ আগস্ট মেডিভয়েসে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করেছেন চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেলা নাজনীন। শনিবার (৮ আগস্ট) মেডিভয়েসে পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের অধিকাংশই অসমর্থিত।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ‘গত ০৬/০৮/২০২৬ খ্রি. তারিখে মেডিভয়েস নামক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা গণমাধ্যমে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ, চাঁদপুর-এর বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেলা নাজনীন সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত বিভিন্ন বানোয়াট অভিযোগ, উপস্থাপিত অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য এবং অসংলগ্ন প্রতিবেদনের সামগ্রিক উপস্থাপনা সম্পর্কে নিম্নোক্ত দাপ্তরিক প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।’
প্রকাশিত সংবাদে অধ্যাপক ডা. সাহেলা নাজনীনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো অধিকাংশই একতরফা, অসমর্থিত এবং অভিযোগকারীদের ব্যক্তিগত বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল। এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে সংবাদটি পাঠকের নিকট একটি পক্ষপাতদুষ্ট ধারণা সৃষ্টি করতে পারে।
অধ্যাপক ডা. সাহেলা নাজনীন স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, বিশেষ করে জুলাই ২০২৪ সালের আন্দোলন প্রসঙ্গে যে দাপ্তরিক নোটিশের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি তৎকালীন সময়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জারি করা হয়েছিল। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে প্রচলিত সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব, এটিকে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা কোনভাবেই কাম্য নয়।
এতে আরও বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদে শিক্ষার্থীদের ভীতি প্রদর্শন, ছাত্রত্ব বাতিলের হমকি, আর্থিক অনিয়ম, অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি, ছাত্রলীগ-সংক্রান্ত বিচার প্রক্রিয়ায় গড়িমসি এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে বাধা প্রদানের মতো গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রামাণ্য নথি, তদন্ত প্রতিবেদন বা আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। একপাক্ষিক ও অপ্রমাণিত অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রকাশ করা ন্যায়সংগত সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই ধরণের মিথ্যা, বানোয়াট ও ভুয়া সংবাদ এক শ্রেণির মানুষের স্বার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
এ ছাড়া প্রকাশিত সংবাদে অধ্যাপক ডা. সাহেলা নাজনীনের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তা অভিযোগগুলোর তুলনায় সীমিত পরিসরে উপস্থাপিত হয়েছে, যার ফলে সংবাদে ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপনা নিশ্চিত হয়নি।
অধ্যাপক ডা. সাহেল নাজনীন জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো শিক্ষার্থীকে আন্দোলনে অংশগ্রহণে বাধা দেননি, ছাত্রত্ব বাতিলের হমকি দেননি এবং কলেজের সকল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত একাডেমিক কাউন্সিল ও প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান অনুসারে গৃহীত হয়েছে। অফিসে উপস্থিতি সম্পর্কেও তিনি ফেসিয়্যাল রিকগনিশন ভিত্তিক বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন।
এমতাবস্থায়, প্রকাশিত সংবাদের একপাক্ষিক ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পেশাগত মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পুনঃযাচাই করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ এবং এই প্রতিবাদলিপি খানা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনাপূর্বক প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
মেডিভয়েসের ব্যাখ্যা
মেডিভয়েসের হাতে আসা একটি অডিও রেকর্ডে শোনা যায় আন্দোলনে সম্পৃক্তদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছেন অধ্যাপক ডা. সাহেলা নাজনীন। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সারাদেশে ভেঙে পড়া ট্রাফিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার বিষয়টি সব মহলে প্রশংসিত হয়। তবে অডিওতে শোনা যায় ডা. সাহেলা শিক্ষার্থীদের এই কাজের সমালোচনা করছেন।
তিনি বলেন, ‘রাস্তায় রাস্তায় স্কুলের ৯ম, ১০ম ও ১১শ শ্রেণির ছেলেদের দাঁড় করিয়ে গাড়ি থামানো হচ্ছে। গাড়িতে মাদক আছে কি না, নানা কায়দায় তা তল্লাশি করা হচ্ছে। তোমরা আমাকে বলো—তুমি যদি একজন সরকারি কর্মকর্তা বা একজন সিনিয়র ব্যক্তি হও, তাহলে কারও গাড়ি তল্লাশি করতে কি সার্চ ওয়ারেন্ট বা অনুমোদনপত্রের প্রয়োজন নেই? তুমি যখন-তখন এসে আমার চোখ বেঁধে দিতে পারবে? আমাকে বলতে পারবে, ‘প্রমাণ কোথায়?’ কিংবা ‘আমি তোমার ব্যাগ সার্চ করব’? আমি তো তখন বলতে পারি, ‘আমার ব্যাগ সার্চ করতে হলে তোমার অনুমতিপত্র লাগবে।’ যদি আমরা প্রশ্ন করি, ‘তোমাদের কাছে কি অনুমোদনপত্র আছে?’ আর উত্তর আসে, ‘আমরাই সরকার, আমরাই আন্দোলন, আমরাই দেশ চালাচ্ছি, আমরাই দেশ স্বাধীন করেছি’—তাহলে বিষয়টি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? এর অর্থ হলো, আমাদের যে সুন্দর একটি ব্যবস্থা বা সিস্টেম রয়েছে, সেটিই কি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে না?’
এ ছাড়াও অডিওতে আরও শোনা যায়, জুলাই যোদ্ধাদের সরকারি অফিস পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময় তাঁর পদোন্নতি আটকে দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করছেন তিনি।
এমইউ/