ডা. শামীম শাহরিয়ার
পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম, ৪৪তম বিসিএস ও সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ
২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৫:০৯ পিএম
৪৮তম বিসিএস: ভাইভায় মুখোমুখি হতে যেভাবে প্রস্তুতি নিবেন
ভাইভা দিতে যাওয়া মানে ঘরের চাবি পরের হাতে রাখার মত অবস্থা। কোন বোর্ডে পড়বে আপনি জানেন না, কোন বিষয়ের ডাক্তার থাকবে সেটিও অজানা, কোন প্রশ্ন দিয়ে শুরু হবে সেটাও অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে যে প্রশ্নগুলো সবচেয়ে বেশি করা হতে পারে, সেগুলোর উত্তর খুব সুন্দর করে প্রস্তুত করলে আপনি ভাইভাকে আপনার কমফোর্ট জোনে নিয়ে আসতে পারেন। কারণ—আপনি যে উত্তরটি দিবেন, সেখান থেকেই পরের প্রশ্নটি করার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
প্রস্তুতি শুরু হতে পারে নিজের নাম থেকে। যেমন—৪৪তম বিসিএস ভাইভায় একজনের নাম ছিল অনির্বাণ। তার ভাইভায় প্রথম কয়েকটি প্রশ্ন করেছিল নির্বাণ, বৌদ্ধধর্মের মূলনীতি ও অষ্টমার্গ বিষয়ে। নিজ নামে কোনো বিখ্যাত চিকিৎসক বা ব্যক্তি থাকলে তার সম্পর্কে সংক্ষেপে জানতে হবে। এ কারণে প্রথমেই কিছু আইসব্রেকিং প্রশ্নের উত্তর নোট করে ফেলা উচিত। এরকম কিছু প্রশ্ন হলো—
১. আপনার সম্পর্কে বলুন। এক্ষেত্রে বাপ-মা, ভাই-বোনের বিষয়ে বেশি না বলে নিজেকেই ফোকাস করা উচিত। গ্র্যাজুয়েশন, এইচএসসি, এসএসসি, এলাকা বলার পরে মেডিকেল প্রফেশন নিয়ে নিজের চিন্তা-ভাবনা বলা যেতে পারে, যা বিসিএসের সাথে প্রাসঙ্গিক৷
যদি কেউ বলেন—ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায় শত শত রোগী দেখে আমার মনে হয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া এর মানোন্নয়ন সম্ভব নয়, এতে পরীক্ষক বুঝবেন আপনি উপজেলায় কাজ করতে আগ্রহী, যা বিশেষ বিসিএস নেওয়ারই প্রধান কারণ। আর পরের প্রশ্নটা প্রায় নিশ্চিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রাইমারি হেলথ কেয়ার, কমিউনিটি ক্লিনিক—এগুলো থেকেই করবে।
২. আপনার প্রিয় শখ কী? প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস না থাকলে ‘বই পড়া’ না বলাই ভালো। সেক্ষেত্রে বিতর্ক, গার্ডেনিং, ছবি আঁকা—এগুলো বলা যেতে পারে।
৩. আপনার প্রিয় লেখক, বই অথবা মুভি। অবশ্যই একজন লেখক, তার কয়েকটি বইয়ের সারসংক্ষেপ ভালমতো জেনে যাওয়া উচিত।
৪. সকাল থেকে এখানে আসা পর্যন্ত বিষয়গুলো বাংলা অথবা ইংরেজিতে বলুন।
৫. ভাইভা বোর্ডে বসে আপনার অনুভূতি কেমন?
৬. এই বিষয়ের ক্ষেত্রে কোন গুণের জন্য নিজেকে যোগ্য বা অযোগ্য মনে করেন।
৭. নিজের একটি খারাপ গুণ বলুন। এক্ষেত্রে অবশ্যই এমন খারাপ গুণ বলতে হবে, যা ততটাও খারাপ না।
দ্বিতীয় পর্যায়ে সাধারণ বিষয় নিয়ে পড়তে হবে। প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তরগুলোতে মূলত দেখা হয় আপনি কতটা ইনফরমেটিভ (তথ্যসমৃদ্ধ)। আর ভাইভাতে দেখা হয় আপনার ইনসাইট (বোঝাপড়া)। যেমন ধরুন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা কয়টি—এটি প্রিলির প্রশ্ন। এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা লিখুন, এটি লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন। আর ভাইভায় আপনাকে বলা হতে পারে—এমডিজি ও এসডিজির আসল পার্থক্য কী?
এখানে কেউ যদি বলে, এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা আটটি এবং এসডিজির ১৭টি—এটিই পার্থক্য, তবে এটি আসল পার্থক্য নয়। আসল পার্থক্য হলো—এমডিজি মূলত পরিমাণগত, আর এসডিজি হলো গুণগত। যেমন, এমডিজিতে বলা আছে—প্রাথমিক শিক্ষাটুকু অন্তত নিশ্চিত করতে হবে, আর এসডিজিতে বলা হয়েছে—গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করে জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে।
একই রকম যদি বলে, স্বাস্থ্যখাতের প্রধান সমস্যা কী? উত্তরে অবশ্যই জিডিপির অনুপাতে বরাদ্দ কম—এটিই বলা উচিত। যেমন ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ০.৭৬ শতাংশ, যা কমপক্ষে ৬% হওয়া উচিত। তারপর বাকি সমস্যাগুলো আসবে।
এরকম কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিক হচ্ছে—সংবিধানে স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুচ্ছেদ, এসডিজিতে স্বাস্থ্য নিয়ে কী বলা আছে, এমডিজির কোন লক্ষ্যের জন্য এমডিজি-২০১০ পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ, স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি, প্রধান সমস্যা ও উত্তরণের উপায়, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অনুচ্ছেদ, গণঅভ্যুত্থান, বর্তমান সরকারের বৈধতা, সংবিধানের ৪, ৫, ১২, ১৩ ও ১৫তম সংশোধনী, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ইত্যাদি। এগুলো জানতে হবে।
ভাইভার প্রস্তুতি নেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর টোটকা হলো—‘You have to know everything of something & something of everything’। আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশদ পড়তে হবে, বাকি কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটু-আধটু হলেও দেখা উচিত।
তৃতীয় পর্যায়ে পুরোপুরি টেকনিক্যাল বিষয়। এটি অনেক বেশি অনিশ্চিত। যে বিষয়ের পরীক্ষক থাকবেন, বোর্ডে তিনি ওই বিষয়ে চলে যেতে পারেন। তবে যদি প্রশ্ন করে—‘আপনি কোন বিষয়ে কোর্সে আছেন বা ক্যারিয়ার করতে চান?’ এখানে আপনি যে বিষয়ে সবচেয়ে ভালো পারেন, সেটি বললে প্রশ্নের পরিধি ছোট হয়ে যেতে পারে।
টেকনিক্যাল থেকে সবচেয়ে বেশি যেসব প্রশ্ন করে—
১. উপজেলায় কমন কেস/কমন ইমার্জেন্সি।
২. উপজেলায় কী কী অপারেশন করা যায়?
৩. উপজেলায় সীমাবদ্ধতা।
৪. সীমাবদ্ধতা কাটাতে আপনার মতে কী করা যায়?
৫. ডাক্তার উপজেলায় দুই, তিন বা চার বছরের বেশি থাকতে চায় না কেন?
৬. ফরেনসিক মেডিসিনের মেডিকোলিগ্যাল বিষয় থেকে ৩৯ ও ৪২তম বিসিএসে অনেক প্রশ্ন করেছিল। ইঞ্জুরি সার্টিফিকেট, সিম্পল হার্ট-গ্রিভাস হার্ট, ডেথ ডিক্লারেশন ইত্যাদি।
৭. কোন সময় হেলথ ক্যাডার, অ্যাডমিন ক্যাডার, পুলিশ ক্যাডার একসাথে থাকে ইত্যাদি।
৮. বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে ডেঙ্গু, কোভিড গুরুত্বপূর্ণ।
৯. নিজের সাবজেক্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বেশ ভালভাবে দেখতে হবে।
শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো—ভাইভা বোর্ডে নিশ্চিন্ত ও হাসিমুখে ঢুকতে পারা। আপনি যে ভাইভা দিতে যাচ্ছেন, সেটিতে চাকরি হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি যদি মাথা থেকে সরিয়ে প্রিপারেশন নিতে পারেন, সেটিই সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি। কারণ অনেক ভাল পড়াশোনা করেও আপনি ব্যর্থ হতে পারেন। এ কারণে দিনশেষে ওয়ার্ক ইথিকসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মাহেন্দ্র সিং ধনী একবার বলছিলেন—“Cricket is all about taking right decisions and working hard. Result is always the bi-product”। এ ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম।
এনএআর/
-
০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
-
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
চিকিৎসক সংকটে বিপর্যস্ত গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা
৪৮তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্তদের দ্রুত গেজেট ও পদায়নের দাবি
-
২৭ নভেম্বর, ২০২৫
-
১৫ অক্টোবর, ২০২৫
-
০৬ অগাস্ট, ২০২৫
-
২৩ জুলাই, ২০২৫
-
১৮ জুলাই, ২০২৫
-
১৭ জুলাই, ২০২৫