০৯ অগাস্ট, ২০২৬ ১২:১৪ পিএম

বন্দিশালায় মৃত্যুঝুঁকিতে গাজার চিকিৎসক ডা. হুসাম আবু সাফিয়া

বন্দিশালায় মৃত্যুঝুঁকিতে গাজার চিকিৎসক ডা. হুসাম আবু সাফিয়া
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাওয়া গাজার শিশু বিশেষজ্ঞ ও কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুসাম আবু সাফিয়ার জীবন নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ইসরাইলি হেফাজতে থাকা এই চিকিৎসকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) আল জাজিরা জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে অভিযান চালানোর পর ডা. হুসামকে আটক করে ইসরাইলি বাহিনী। এরপর থেকে তিনি ইসরাইলি হেফাজতে রয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল বুরশ জানিয়েছেন, ডা. হুসামকে আর অপেক্ষায় রাখা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাকে ‘অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই’ মুক্ত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, তাকে এখনো কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। চলতি বছরের ১৬ জুন ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট তার আটকাদেশ বহাল রাখে, যার ফলে অন্তত অক্টোবর পর্যন্ত তার আটক থাকার সুযোগ রয়েছে।

রোগীদের ছেড়ে যাননি, এবার নিজেই বন্দী

ডা. হুসাম আবু সাফিয়া গাজার বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম পরিচিত চিকিৎসক। যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কামাল আদওয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনী হাসপাতাল থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও ডা. হুসাম গুরুতর অসুস্থ ও আহত রোগীদের চিকিৎসা দিতে সেখানে থেকে যান। পরে তাকে আটক করা হয়।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও নিজের রোগীদের ছেড়ে যাননি, সেই চিকিৎসকই এখন বন্দিশালায় চিকিৎসার অভাবে নিজেই গুরুতর শারীরিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন।

মাথা, চোখ ও বুকে গুরুতর আঘাতের অভিযোগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মুনির আল বুরশের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্দী অবস্থায় ডা. হুসামের মাথা, চোখ ও বুকে গুরুতর আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও জানিয়েছিল, ডা. হুসামের আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনি গুরুতর নির্যাতন ও শারীরিক আঘাতের শিকার হয়েছেন এবং তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘ তাকে দ্রুত বেসামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও জানিয়েছে, ডা. হুসাম দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত এবং তার স্বাস্থ্য নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। সংস্থাটি তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

একাকী বন্দিত্বেও চিকিৎসা বঞ্চনার অভিযোগ

চলতি বছরের জুন থেকে ডা. হুসামকে একাকী বন্দিত্বে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর বলেছে, ডা. হুসামের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও শারীরিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের। তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে অথবা স্বীকৃত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ এনে ন্যায্য বিচারের সুযোগ দিতে হবে। মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি জরুরি আহ্বান

ডা. হুসামের জীবন রক্ষায় দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মুনির আল বুরশের ভাষ্য, এখন শুধু বিবৃতি দেওয়ার সময় নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ডা. হুসামের শারীরিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসার দায়িত্ব ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ওপর রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডা. হুসাম আবু সাফিয়ার ঘটনাটি গাজার স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা ও যুদ্ধের সময় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি উভয়েই তার মুক্তি এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে।

এনএইচ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও