২৫ অগাস্ট, ২০২৪ ০৮:৩৬ পিএম

মোমবাতি জ্বালিয়ে সেবা দিলেন চিকিৎসকরা

মোমবাতি জ্বালিয়ে সেবা দিলেন চিকিৎসকরা
মোমবাতির আলোতে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন ডা. সাঈদ আল মনসুর।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে ভরে গেছে চারপাশ। পানিতে দুইদিন ডুবে ছিল হাসপাতাল। নেই বিদ্যুৎ কিংবা লাইট-ফ্যান- এমন পরিস্থিতিতে বন্যা কবলিত এলাকা কুমিল্লার চোদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শনিবার (২৪ আগস্ট) থেকে মোমবাতি জ্বালিয়ে রোগীদের সেবা দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

জানা গেছে, নদীর পানি ২২ আগস্ট হঠাৎ করে চলে আসে লোকালয়ে। আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টার মধ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যায় পানি, হাসপাতালেও অন্তত ৭ফুট পানির নিচে। হাসপাতালের রোগীরা নিরাপদে বাড়িতে যাওয়ার সুযোগও পাননি। ভর্তির রোগীদের অনেকেই সাঁতার কেটে চলে যান বাড়িতে। দুইদিন পুরোপুরি বন্ধ ছিল হাসপাতাল। বন্যার পানিতে নেবুলাইজেশন, ইজিসি নাই, অক্সিজেন নাই, আইপিএসসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি। ভেজে গেছে হাসপাতালের বিভিন্ন ডকুমেন্টস। তবে ২৪ আগস্ট নেমে যায় পানি। এরপর সবকিছু পরিস্কার রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার উপযোগী করে তোলেন চিকিৎসকরা।

জানতে চাইলে হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. সাঈদ আল মনসুর (ইনাম)মেডিভয়েসকে বলেন, ‘পানি নেমে গেছে। হাসপাতালের যতটুকু ফার্ণিচার আছে, তা ক্লিন করে কোনো ব্যবহার উপযোগী করে ব্যবহার করার চেষ্টা করছি। সকাল (২৪ আগস্ট) থেকে মোমবাতির আলোয় রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। কিছু সময় বাইরে বসে এবং দাড়িয়েও চিকিৎসা দিয়েছি। কারেন্ট নাই, লাইট নাই, ফ্যান নাই, আছে শুধু মানুষগুলো। এই মুহূর্ত্বে বিদ্যুৎ চালু করাও সম্ভব না। কারণ চকেট বা অন্যান্য বিদ্যুতের যন্ত্রপাতির মধ্যে পানি আছে। এই সময়ে আমাদের যা আছে, তাই নিয়েই চলছে সেবা কার্যক্রম। একরাত পুরোটা সবাই বসে কাটিয়েছে। একটু বিশ্রাম নেওয়ার রুমে পানি, বিছানা ভেজা। টয়লেটেও সাপ্লাই পানি নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে একটু বেশি খারাপ রোগী আসলেই রেফার করে দিতে হয়। হাসপাতালের মূল গেইটের সামনেই মহাসড়ক। সেখানে আবার ২ সারিতে লরিগুলো দাঁড়ানো। ফেনীর রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় ৪৫ কিলো ধরে জ্যামে দাঁড়িয়ে আছে গাড়ি। ২ দিন হলো- যে গাড়ি যেখানে ছিল, সেখানেই আছে। একটা অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে ঢুকবে, তার অবস্থাও নাই। অপর পাশের রাস্তা দিয়ে রোগী আসে। কোলে করে অনেকটা পথ নিয়ে আসে আত্মীয়স্বজনরা। কাউকে রেফার করলে একইভাবে নিয়ে যায়। অনেকেই আসে বুক সমান পানি পার হয়ে। যেন এক যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় চিকিৎসা দিচ্ছি। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। সিভিল সার্জন এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন মহোদয় এসেছেন এবং সবকিছু দেখে গেছেন। সেইসঙ্গে তাঁরা সবসময় খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।’

এসএইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : কুমিল্লা
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন নেই’

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন নেই’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক