সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের আত্মহত্যার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পর্যালোচনার লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রতিবেদনে আটটি বিষয় পর্যালোচনা করে উপযুক্ত সুপারিশ প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মিছবাহ উদদীন আহমদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লার ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের অনাকাঙিক্ষত অকাল মৃত্যুর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। উক্ত ঘটনায় বর্ণিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ, শিক্ষার্থী মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’
‘এ অবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে নিম্নরূপ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো’—জানায় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককে (চিকিৎসা শিক্ষা) আহ্বায়ক করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে সদস্য এবং অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে (শৃঙ্খলা) সদস্য সচিব করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিকে আটটি বিষয় যাচাই করে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। সেগুলো হলো—
অর্পিতা নওশিনের অকাল মৃত্যুর প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম, বিশেষ করে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের সাক্ষ্য গ্রহণ করা।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীর প্রতি কোনো ধরনের মানসিক চাপ, হয়রানি বা বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে কি না তা নিরূপণ এবং বিষয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক/কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যাচাই করা।
এ ছাড়াও কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও দায়-দায়িত্ব মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, পরীক্ষার ফলাফল, উপস্থিতি রেকর্ড ও আনুষঙ্গিক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
পরিবার ও বন্ধুদের অভিযোগ, প্রথম বর্ষে এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিরা জহিরের রোষানলে পড়েছিলেন সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ছাত্রী অর্পিতা নওশিন। ফলে প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় এনাটমিতে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এরপর তিন বছরে পরবর্তী ব্যাচগুলোর সঙ্গে চারবার এ বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও কৃতকার্য হতে পারেননি। এ অবস্থায় গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ১০৯ পিস ঘুমের ওষুধ সেবন করে নিজেকে শেষ করে দেন নওশিন।
খুলনা সদরের মেয়ে অর্পিতা এক ভাই-এক বোনের মধ্যে ছোট। জেলার সরকারি করোনেশন গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এরপর স্বাস্থ্যসেবার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন মেডিকেল কলেজে। কিন্তু তার সে চাওয়া অধরাই থেকে গেল।
এদিকে শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নওশিনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এর পর কুমিল্লা থেকে খুলনায় নিজ বাড়িতে নেওয়া হয় তার লাশ। বিকেল সাড়ে ৪টার কিছুক্ষণ পর তাকে বহনকারী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স কুমিল্লা থেকে খুলনার উদ্দেশে রওনা দেয়।
এমইউ/
-
০৫ এপ্রিল, ২০২৬
-
১৬ নভেম্বর, ২০২৫
-
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
-
২৫ মে, ২০২৫
-
২২ এপ্রিল, ২০২৫
-
২৭ জুন, ২০২৪
-
২১ এপ্রিল, ২০২৪
-
৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩
-
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
-
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩