২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৯:১৬ এএম

কেরানীগঞ্জে আদ-দ্বীন মেডিকেলের ছাত্রাবাস থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

কেরানীগঞ্জে আদ-দ্বীন মেডিকেলের ছাত্রাবাস থেকে বিদেশি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে আদ-দ্বীন মোমেন মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস থেকে ভারতীয় এক নারী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ডা. কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান আজ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘রোববার দুপুর একটার দিকে ময়নাতদন্ত হয়েছে। আমাদের লেকচারার ডা. জাকিয়া তাসনিম ময়নাতদন্ত করেছেন। তিনি দুই দিনের ছুটিতে গেছেন। ফেরার পর রিপোর্টের বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।’ 

এ প্রসঙ্গে ডা. জাকিয়া তাসনিম সকালে মুঠোফোনে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘প্রতিবেদন পাবলিক হওয়ার আগে আমরা কথা বলি না। বিষয়টি তদন্তাধীন, মামলাধীন। প্রতিবেদন পুলিশের কাছে হস্তান্তর হয়নি, হলে কথা বলা যেত। পুলিশ চাইলে যে কোনো সময় প্রতিবেদন নিতে পারে। কারণ লাশ ভারতে ফেরত যাবে।’

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মৃত নিদা খানের বাড়ি ভারতের রাজস্থানে। তাঁর বাবার নাম আ. আজিজ খান। তিনি আদ-দ্বীন মোমেন মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

এ ব্যাপারে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে ফোন দেওয়া হয়। তবে পুলিশের তদন্তাধীন আছে জানিয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কোনো কথা বলতে সম্মত হননি তিনি।

অন্যদিকে কলেজের এজিএম সিদ্দিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কোন্ডা এলাকায় তাদের ক্যাম্পাস। সেখানে ফরেন হোস্টেলে থাকতেন নিদা খান। তাঁর রুমমেটরাও ভারতীয় নাগরিক। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রুমমেটদের সঙ্গে পড়ালেখা নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর রুমে চলে যান তিনি। রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত তাঁর পাশের রুমের শিক্ষার্থীরা তাকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ পাননি। পরে রাত ২টার দিকে হোস্টেল সুপারসহ কলেজ কর্তৃপক্ষ ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে তাঁর রুমের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখেন, ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন নিদা। তখন সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দেওয়া হয়।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ছরোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, মধ্যরাতে খবর পেয়ে কলেজটির ফরেন হোস্টেল থেকে ফ্যানে গলায় ফাঁস লাগানো ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

এসআই ছরোয়ার আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে শনিবার অনুষ্ঠিত একটি পরীক্ষায় নিদা খান নকল করার অভিযোগে বহিষ্কার হন। এটি নিয়ে সারাদিন হতাশায় ছিলেন। যার কারণে তিনি রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অন্য কোনো ঘটনা বা কারণ আছে কি না তা বিস্তারিত তদন্তের পর বলা যাবে।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : মেডিকেল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত