২১ অগাস্ট, ২০২৪ ০৭:০৩ পিএম

৩ দফা দাবি চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের

৩ দফা দাবি চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের
প্রতীকী ছবি।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার চেয়ে তিন দফা দাবি জানিয়েছে সাধারণ চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থী ফোরাম। আজ বুধবার (২১ আগস্ট) এ দাবি জানান তাঁরা।

সাধারণ চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থী ফোরাম জানিয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ক), ১৫ (ঘ) ও ১৮ (১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্র কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য জনগণের নিকট দায়বদ্ধ। আর এ দায়কে পরম দায়িত্ব হিসেবে বুকে লালন করে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা দেশের স্বাস্থ্য খাতকে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে।

তাঁরা আরও জানান, ‘কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতা, নিম্ন বেতন, অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ, রোগীর তুলনায় অপ্রতুল চিকিৎসকসহ নানাবিধ সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রজনন হার হ্রাস, মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার রোধ, নিম্নমুখী মৃত্যু প্রবণতা, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ স্বাস্থ্য খাতের নানামুখী অর্জন এদেশের চিকিৎসকদের কর্মনিষ্ঠার অন্যতম নিদর্শন। এতদসত্ত্বেও, দুঃখের বিষয় এটাই যে যেকেউ চাইলেই তার নামের সামনে ডাক্তার শব্দটি জুড়ে দিতে পারে, পড়তে পারে চিকিৎসকদের সাদা এপ্রোন, নূন্যতম এনাটমির জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও হরহামেশা যে কেউ করতে পারে আলট্রাসনোগ্রাম।’

তাঁরা আরও জানান, ‘যত্রতত্র ঔষধের ব্যবহার আজ এতো নস্যি যে, সাধারণ রোগ জীবাণুও আজ সবচেয়ে শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী। মেডিকেলের অসম্ভব পড়াশোনার চাপ আর পেশাগত সীমাহীন ব্যস্ততা আমাদের সকল সময় কেড়ে নিলেও আজ আমাদের সময় এসেছে আমাদের যৌক্তিক দাবী তুলে ধরার, আমাদের নৈতিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার হবার।’

‘বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আমাদের প্রাণের প্রতিষ্ঠান, আমাদের আবেগের উৎস। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ২০১০ খ্রিস্টাব্দে প্রণীত বিএমডিসি আইনের আজ অবধি কোনো বাস্তব প্রয়োগ আমরা পাই নাই। আইন প্রণীত হবার ১৪ বছর পর তাই এই আইনের যথাযথ ও বাস্তবভিত্তিক প্রয়োগ চাওয়া আজ তাই দাবী নয় বরং ন্যায্য অধিকার। এই ন্যায্য অধিকারে হিস্যা আমরা তো পাই নাই বরং একটি রিট পিটিশন করে অচিকিৎসকরা তাদের নামের সামনে ডাক্তার লিখে যাচ্ছে। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে করা সেই রিট পিটিশন নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে গত আগস্ট ১৯, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ অবধি মোট ৬৫ বার কজ লিস্টে আসলেও মূল শুনানির জন্য কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গৃহীত হয় নাই’, জানান তাঁরা।

সাধারণ চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থী ফোরামের ৩ দফা দাবি

১. আদালতে চলমান রিট নিষ্পত্তি করে ২০১০ খ্রিস্টাব্দে প্রণীত আইনের সুষ্ঠু ও বাস্তবসম্মত প্রয়োগের মাধ্যমে-

ক. নূন্যতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রি প্রাপ্তগণ ব্যতিত অন্য কেউ যেন ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করা;

খ. মেডিকেল চিকিৎসা ডিপ্লোমাধারীদের পরিচিতি বিএমডিসি আইন মোতাবেক মেডিকেল সহকারী হিসেবে নিশ্চিত করা; এবং

গ. মেডিকেল সহকারীদের জন্য নির্ধারিত ৭৩টি ঔষধের বাহিরে প্রেসক্রিপশনকারীদের বিরুদ্ধে বিএমডিসি আইন মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

২. বিএমডিসিতে বহুবছর ধরে চলে আসা দুর্নীতি যেমন- ভুয়া চিকিৎসককে স্থায়ী বিএমডিসি রেজিষ্ট্রেশন প্রদান, বিভিন্ন কর্মকান্ডে ঘুষ গ্রহণ, চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের ক্রমাগত ভোগান্তি প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা- কর্মচারী ও বিএমডিসি রেজিস্ট্রারকে আগামী তিন (৩) কর্মদিবসের মধ্যে অপসারণ করতে হবে।

৩. আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরির জন্য একটি গ্রহণযোগ্য স্বাস্থ্য কমিশন গঠনের মাধ্যমে চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের সকল ন্যায্য অধিকার ও দাবী পূরণের ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : স্বাস্থ্যখাত
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক