ছোট ভাইকে আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক
সাখাওয়াত হোসাইন: কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছোট ভাইকে আনতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন গাজীপুর তাইরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. সজিব সরকার।
একই মেডিকেলের একাধিক সাবেক শিক্ষার্থী শনিবার (২৭ জুলাই) মেডিভয়েসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানান, গত ১৮ জুলাই বিকেল ছয়টার দিকে রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানতে চাইলে ডা. সজিব সরকারের চাচাতো ভাই ডা. অনিকুর রহমান অনিক মেডিভয়েসকে জানান, ডা. সজিব আর তিনি ছোটবেলা থেকে একসাথে পড়াশোনা করতেন। ছোট ভাইকে নিয়মিত উত্তরা থেকে বাসায় নিয়ে আসতেন তিনি। তেমনিভাবে সেদিনও উত্তরায় অধ্যয়নরত ছোট ভাইকে আনতে নরসিংদী থেকে ছুটে আসেন ডা. সজিব।
ডা. অনিক বলেন, ভাইকে নিয়ে ফেরার পথে বিকেল পাঁচটা ৪৫ মিনিটের দিকে এক ক্ষুদেবার্তায় ডা. সজিব তাঁকে জানান, পুলিশ তাঁর কাছাকাছি রয়েছে। তাই নিরাপদে ফিরতে সবার দোয়া চান।
‘সাথে সাথে আমি মুঠোফোনে কল এবং বার্তা পাঠাই। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁর ঠিক এক ঘণ্টা পরে একজন ফোন ধরে জানালো, ডা. সজিবের লাশ উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে এবং পুলিশের গুলিতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে’—যোগ করেন ডা. অনিক।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে ডা. সজিবকে পেটে লাথি দেওয়া হয়েছিল। আঘাতের তীব্রতা সইতে না পেরে বসে পড়েন তিনি। আর এই অবস্থায় এক ফিট দূরত্বের মধ্যে উপর থেকে তাকে গুলি করা হয়। উপর থেকে নিচ অ্যাঙ্গেলে একটা গুলি করা হয়। গুলিটা হার্টে লেগে ডান দিকের স্কাপুলার (কাঁধের হাড়) নিচে দিয়ে বের হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘উত্তরা আধুনিক মেডিকেলের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডা. সজিব গুলি খাওয়ার এক মিনিটের মধ্যে মারা গেছেন।’
ডা. সজিব সরকারের বাড়ি নরসিংদী সদরের জেলখানা মোড় এলাকায়। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ডা. সজিব তাইরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেলের ২০১১-২০১২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন।
ডা. সজিব সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের লেকচারার ছিলেন।
এসএইচ/এমইউ
-
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
-
২০ অগাস্ট, ২০২৪
-
১৬ অগাস্ট, ২০২৪
-
১৫ অগাস্ট, ২০২৪
-
০৮ অগাস্ট, ২০২৪
-
০৪ অগাস্ট, ২০২৪
-
০৩ অগাস্ট, ২০২৪
-
০৩ অগাস্ট, ২০২৪
-
০২ অগাস্ট, ২০২৪