০৫ এপ্রিল, ২০২৪ ০৮:০৪ পিএম

অ্যানেস্থেসিয়ার হ্যালোথেনে ভেজাল, মিলেছে ৩ শিশুর প্রাণহানির প্রমাণ

অ্যানেস্থেসিয়ার হ্যালোথেনে ভেজাল, মিলেছে ৩ শিশুর প্রাণহানির প্রমাণ
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ল্যাব টেস্টে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অপারেশন থিয়েটারে তাদের অজ্ঞান করতে যে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয়, তাতে ব্যবহার করা হয়েছিল ভেজাল হ্যালোথেন। এমনকি সেই হ্যালোথেন আমদানি ও বাজারজাত করা হয়েছিল অবৈধভাবেই।

নির্দেশনা মানা হয়নি অ্যানেস্থেসিয়া সোসাইটির:

হ্যালোথেনে ভেজাল আছে- এমন শঙ্কায় ৯ মাস আগেই হ্যালোথেনের পরিবর্তে আইসোফ্লোরেন ব্যবহারের অনুরোধ করেছিল অ্যানেস্থেসিয়া সোসাইটি। তবে তা মানেননি কোনো চিকিৎসক। উদাসীন ছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও।

সুন্নতে খতনায় অ্যানেস্থেসিয়া দিতে গিয়ে দেশে একের পর এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তাতে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন, স্বজন ও পরিবার। ৯ মাস আগেই হ্যালোথেনের পরিবর্তে আইসোফ্লোরেন ব্যবহারের অনুরোধ করেছিল অ্যানেস্থেসিয়া সোসাইটি। তবে তা মানেননি কোনো চিকিৎসক। উদাসীন ছিল স্বাস্থ্য অধিদফতরও।

টেস্ট রিপোর্টে মেলে হ্যালোথেনে ভেজালের তথ্য:

গত ৯ ডিসেম্বর, ১০ জানুয়ারি ও ৩০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ‘ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্টে’ অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর প্রতিবন্ধী ৩ শিশুর মৃত্যু ভাবিয়ে তোলে বিএসএমএমইউ প্রশাসনকে। এতে অ্যানেস্থেসিয়ায় ব্যবহৃত ‘হ্যালোথেন’ পরীক্ষা করতে ল্যাবরেটরিতে পাঠায় তারা। টেস্টের রিপোর্টে মেলে হ্যালোথেনে ভেজালের তথ্য। বলা হয়, হ্যালোথেনে মেশানো পদার্থের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এর গঠন নষ্ট হয়েছে।

৯ মাস ধরে বৈধভাবে আসছে না হ্যালোথেন:

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ জুন ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরকে চিঠি লিখে ‘হ্যালোথেন’ বিক্রি বন্ধের কথা জানায় একমাত্র অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান-এসিআই। অর্থাৎ ৯ মাস ধরে দেশে বৈধভাবে আসছে না হ্যালোথেন। বিএসএমএমইউ প্রশাসন অ্যানেস্থেসিয়ায় ব্যবহৃত ‘হ্যালোথেন’ পরীক্ষা করতে ল্যাবরেটরিতে পাঠায়। টেস্টের রিপোর্টে মেলে হ্যালোথেনে ভেজালের তথ্য।

বাজারে নেই অথেনটিক প্রোডাক্ট:

এসিআই লিমিটেডের ডিরেক্টর মার্কেটিং অপারেশনস মো. মোহসীন বলেন, মার্কেটে আমাদের যেটা আছে, এটাই শেষ। এরপর আর বাজারে এগুলো ছাড়বো না। আমাদের জানামতে, বাজারে কোনো অথেনটিক প্রোডাক্ট নেই।

এসিআইয়ের ঐ চিঠির পর, গত বছরের জুলাইতে ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া হ্যালোথেন ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেয় অ্যানেস্থেসিয়া সোসাইটি। হ্যালোথেনের বিকল্প হিসেবে আইসোফ্লোরেন ব্যবহারের পরামর্শ দেয় তারা।

৯ মাস আগে হ্যালোথেন বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে একমাত্র অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান-এসিআই। অর্থাৎ, এই সময়ে অবৈধভাবে দেশে আনা হয়েছে ভেজাল হ্যালোথেন।

হ্যালোথেন ব্যবহার বন্ধের পরামর্শ:

বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেস্থেসিওলজিস্টস ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যাণ্ড পেইন-এর মহাসচিব অধ্যাপক ড. কাওসার সরদার বলেন, হ্যালোথেনের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

বিএসএমএমইউয়ের অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বনিক বলেন, বিএসএমএমইউয়ে আমরা এক বছর হলো আইসোফ্লোরেন ব্যবহার করি। তবে রোগীরা অনেক সময় হ্যালোথেন কিনে আনে, তখন ব্যবহার হয়।

বিএসএমএমইউয়ের নাক-কান-গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জহুরুল হক বলেন, রোগীদের চিকিৎসার জন্য কোন কোন ওষুধ দিতে হবে তা সরবরাহকৃত কোম্পানি ভালো জানে। গত এক বছর তারা ওষুধ সাপ্লাই দিয়েছে, তবে তাদের হয়তো জনবল নেই; এজন্য সমস্যা হচ্ছে।

একাধিক মৃত্যুর পর ঘুম ভাঙে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের:

অ্যানেস্থেসিয়ায় ব্যবহৃত ভেজাল ‘হ্যালোথেনের’ কারণে এত এত মৃত্যুর পর ঘুম ভেঙেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। গত ২৭ মার্চ ভেজাল ‘হ্যালোথেন’ ব্যবহার না করার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। এক অফিস আদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর উল্লেখ করেছে, কোনো অবস্থাতেই নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ছাড়া চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া যাবে না। বিএমডিসি স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ অ্যানেস্থেটিস্ট ছাড়া কোনো ধরনের অপারেশন করা যাবে না।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক