বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের আলোকবর্তিকা ইপনা অটিজম স্কুল
আবু নাঈম মনির: সারা বিশ্বে প্রায় ২৪ কোটি শিশু শারীরিক ও মানসিক বিকাশজনিত নানা সমস্যায় ভুগছে। ক্রমবর্ধমান এ সমস্যায় ভুগছে দেশের ৮ শতাংশ স্কুলগামী শিশু-কিশোর।
এমনই প্রেক্ষাপটে সুবিধা বঞ্চিত বিশেষ শিশুদের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়য়ে (বিএসএমএমইউ) প্রতিষ্ঠিত হয় সেন্টার ফর নিউরোডেভলপমেন্ট এন্ড অটিজম ইন চিলড্রেন (সিন্যাক)।
কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় ২০১৪ সালে প্রকল্প হিসেবে কাজ শুরু করে ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার এন্ড অটিজম (ইপনা)। ২০১৮ সালে প্রথম ও পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট হিসেবে রূপ লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে শিক্ষা-প্রশিক্ষণ ও গবেষণার পাশাপাশি সারাদেশের বিশেষ শিশুদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ইপনার উপ-পরিচালক ডা. কানিজ ফাতেমা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘যে সমস্ত শিশুর শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা, মাসকুলার ডি-অর্ডার, মৃগী রোগ, বিকাশজনিত সমস্যা রয়েছে, যেমন—অটিজম, অতি চঞ্চলতা বা অন্যান্য অক্ষমতা রয়েছে। এগুলোর পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশজনিত সমস্যা সমাধানের জন্যই এই সেন্টার গড়ে উঠেছে।’
সেবা কার্যক্রমের আওতায় ইপনায় প্রতিদিন অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগে ব্যাপক সংখ্যক শিশুকে সেবা প্রদান করা হয়।
ডা. কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘আমাদের ইনডোর, আউটডোর ও বর্হিবিভাগ রয়েছে। আর বর্হিবিভাগ পরিপূর্ণ থাকে। পর্যাপ্ত পরিমাণে সেবা দেওয়া হয়। প্রতি দিন আমরা ১০০ শিশুকে সেবা দিতে পারি, কিন্তু আমাদের চাহিদা ২০০-৩০০ শিশুর। আমাদের ক্লিনিক রয়েছে, সাইকোলজিক্যাল সাপোর্টের জন্য আলাদা ইউনিট রয়েছে। যেসব শিশু কথা বলা বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তাদেরকে থেরাপি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে সেবা দেওয়া সক্ষমতা আছে।’
এখানে রয়েছে ৫০ আসন বিশিষ্ট অটিজম স্কুল। ২ঃ১ শিক্ষার্থী শিক্ষক অনুপাতে পরিচালিত এ মডেল স্কুলে চালু আছে হোম ভিজিট কর্মসূচিও।
জানতে চাইলে ইপনা অটিজম স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাঈদা আলী সোমা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘প্রায় ৪০ জন শিশু নিয়ে আমরা এই যাত্রা শুরু করেছিলাম, বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৮ জন। এই শিশুদের জন্য ১৪ শিক্ষক ও একজন প্রধান শিক্ষক ও দুইজন ইন্সট্রাক্টর রয়েছেন। এ ছাড়া আছেন এডুকেশনাল সাইকোলজিস্ট। এখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা আসে। এখানে পড়ার জন্য অনেকেই আগ্রহী, কিন্তু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে সবাইকে ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।’
সযত্ন পরিচর্যায় প্রতি বছর এ স্কুলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু মূল ধারায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ লাভ করে বলেও জানান ইপনা স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
নিজেদের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরে ইপনার অটিজম ইন্সট্রাক্টর মমতাজ বেগম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘অটিজম নামটা এখন সবাই বলতে পারে, একটা সময় এই নামটা উচ্চারণ করতে পারতো না। অটিজম কি—সবাই দেখতো, এটা একটা প্রতিবন্ধকতা কিন্তু এসব শিশু প্রতিবন্ধী নয়। কিছু এরিয়াতে তাদের সমস্যা থাকে। আর বাকি স্কিলগুলো নার্সিং করতে পারলে তারা অনেক দূর যেতে পারে। আমাদের স্কুলে পরিচর্যার ফলে অনেক শিশুই মূল ধারার স্কুলে সুযোগ পেয়েছে। তারা এখন বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে।’
অটিজম ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যায় উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ইপনাই প্রথম চালু করেছে সার্টিফিকেট কোর্স অন নিউরোডেভলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস। ছয় মাস মেয়াদি এ কোর্সে শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সাধারণ নাগরিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
জানতে চাইলে ইপনার পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহীন আখতার মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এখানে আমরা নিউরোডেভলপমেন্টাল ট্রেনিং শুরু করেছি। এটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বীকৃত ছয় মাসের কোর্স। এখানে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ আসছেন। মেডিকেল শিক্ষক, অনেক অভিভাবক আসেন। তাঁরা যখন এই কোর্সটা শেষ করতে পারেন, তখন তারাও এই সেবায় নিয়োজিত হতে পারেন।’
যত্ন সেবায় ভালোবাসায় বদলে দেই—এই স্লোগানে এগিয়ে চলা ইপনা সেবা প্রদানের পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।
অধ্যাপক ডা. শাহীন আখতার বলেন, ‘আমাদের একটা ইচ্ছা আছে যে, এ রকম আরও অনেক সেন্টার হোক। ঢাকার মধ্যে শুধু হলে হবে না। চট্টগ্রাম -উত্তরবঙ্গের দিকেও কিছু করার চেষ্টা করছি আমরা। আমরা চাই, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ রকম কিছু হোক। এ ছাড়া মেডিকেল কলেজগুলোতে শিশু বিকাশ কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতেও এই ধরনের কাজই হয়। এর সাথে যুক্ত করে আরও বড় পরিসরে কাজ করা যায় কিনা, ভাবছি।’
শিশুর আচরণ কিংবা চলাফেরায় কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হলে কালক্ষেপণ না করে ইপনায় নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যেখানে বিশেষ বৈশিষ্টসম্পন্ন শিশুদের স্ক্রিনিং করে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এসএএইচ
-
২৬ এপ্রিল, ২০২৫
-
১১ অক্টোবর, ২০২৩
-
১৭ জুন, ২০২৩
পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুই দিনব্যাপী আয়োজন
‘অটিজম নিয়ে ইপনার কার্যক্রম প্রশংসনীয়’
-
২৮ জুন, ২০২২
-
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১