বিএসএমএমইউ ভিসির সঙ্গে পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থীদের সাক্ষাৎ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ভাতা বৃদ্ধির দাবির যৌক্তিকতা জানাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার করেছেন বেসরকারি পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল।
আজ রোববার (১৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি বিএসএমএমইউ ভিসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা তাঁকে তাদের দাবির এবং এর যৌক্তিকতা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সন্ধ্যায় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মেডিভয়েসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানান, ‘স্যার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আমাদের সব কথা শোনেন এবং সচিব মহোদয়ের সাথে ভাতা বৃদ্ধির ব্যাপারে আমাদের সামনেই কথা বলেন এবং এই সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেকের সঙ্গে বেসরকারি পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের সাক্ষাত করিয়ে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ।’
পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে সাক্ষাতের পরে আমরা আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’
ন্যায্য দাবি আদায় না হয় পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলেও জানান তারা।
এর আগে শনিবার (১৭ জুন) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভাতা বৃদ্ধির দাবি আদায়ে বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর সহযোগিতা চান বেসরকারি পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা।
তারা বলেন, ‘স্যার আপনি আমাদের পিতৃতুল্য অভিভাবক। আমরা আপনার সাহায্যের জন্য কার্যালয়ে গিয়েছি। আমরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। জানি না, এই ন্যায্য দাবি কে পূরণ করবেন! একজনের কাছে গেলে আরেকজনের কাছে পাঠায়। আরেজনের কাছে গেলে তিনি অন্যজনের কাছে যাওয়ার কথা বলেন। আপনি দিক নির্দেশনা দিন, আমরা কার কাছে যাবো।’
রোগী সেবা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে কর্মবিরতির ডাক দিয়েও তারা ওয়ার্ডে ফিরে গেছেন।
গত ৮ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত গোল টেবিল বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলন করে বেসরকারি পোস্টগ্রাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থীরা। এতে ১২ জুনের মধ্যে দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার সময় বেঁধে দেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানা হলে ১৩ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাবেন তারা।
আলোচনায় পার্শ্ববর্তী দেশে পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের ভাতা পাওয়ার পরিমাণ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ‘ভারতে ৬৭ হাজার ৬৮৩ টাকা, পাকিস্তানে ৩৮ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়। আর আমাদের ভাতা ২০ হাজার টাকা, যা অমানবিক।’
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা বলেন, ‘আমাদের এখন অসুস্থ রোগীদের পাশে থাকার কথা ছিল, কিন্তু নিরুপায় হয়ে মৌলিক অধিকার আদায়ে নামতে হয়েছে, যা দুঃখজনক।’
তারা আরও বলেন, ‘আমাদের যে ভাতা দেয়া হচ্ছে তা দিয়ে বর্তমান এই বাজারে জীবন নির্বাহ করা অসম্ভব। একজন চিকিৎসক অর্থনৈতিক সংকটে থাকলে পরিপূর্ণ সেবা দেওয়া সম্ভব না।’
দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রতিশ্রুতিশীলতার কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ‘এই চিকিৎসকরা যে কত করুণ অবস্থায় আছে, তা বলে বুঝানো যাবে না। বাজেট ফেরত যাচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসকরা পাচ্ছে না। তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা দিতে হলে চিকিৎসকের সুস্থ থাকতে হবে।’
তবে ১১ জুন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সে (বিসিপিএস) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের বৈঠক হয়। সেখানে তাঁদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে ১৫ জুন সন্তোষজনক আলোচনার আশ্বাসে ১৩ জুন থেকে সারাদেশে কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে ট্রেইনি ডক্টরস এসোসিয়েশন।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিএসএমএমইউয়ের সিন্ডিকেট সভায় অধ্যয়নরত বেসরকারি রেসিডেন্টদের ভাতা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার বিষয়ে অনুমোদন দেয় সিন্ডিকেট মেম্বারগণ।
এর পর ওই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিএসএমএমইউ রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান মেডিভয়েসকে বলেছিলেন, ‘বেসরকারি রেসিডেন্টদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা করার বিষয়টি সিন্ডিকেট মিটিংয়ে অনুমোদিত হয়েছে। তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটিতে যাবে, সেখানেও পাস হওয়ার একটি বিষয় রয়েছে।’
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন
বিএসএমএমইউতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের সমাবেশ
-
২২ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২২ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২২ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২১ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
প্রাইভেট পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের হুঁশিয়ারি
২১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভাতা বৃদ্ধি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হলে কর্মবিরতির ঘোষণা