১১ জুন, ২০২৩ ১১:৫২ এএম

ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে বিসিপিএসের সামনে প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের মানববন্ধন

ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে বিসিপিএসের সামনে প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের মানববন্ধন
দাবি আদায় না হলে ১৩ জুন (বুধবার) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন চিকিৎসকরা।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: মাসিক ভাতা ৫০ হাজার টাকা করাসহ তিন দফা দাবিতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) সামনে মানববন্ধন করছেন বেসরকারি পোস্টগ্রাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা।

আজ রোববার (১১ জুন) সকাল ১১ টায় মেডিকেলে উচ্চতর কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের সংগঠন প্রাইভেট পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি ডক্টরস এসোসিয়েশন এ মানববন্ধের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে উপস্থিত চিকিৎসকরা জানান, মানববন্ধন শেষে বিসিপিএস চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করা হবে। দাবি আদায় না হলে ১৩ জুন (বুধবার) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

চিকিৎসকদের তিন দফা দাবি হল- মাসিক ভাতা ৫০ হাজার টাকা, নিয়মিত ভাতা প্রদান করা ও সকল ট্রেইনি চিকিৎসকদের বকেয়া ভাতা দ্রুত সময়ে পরিশোধ করা।

গতকাল (১০ জুন) এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. হাবিবুর রহমান সোহাগ মেডিভয়েসকে জানান, ‘আমাদের দেশে চিকিৎসকদের পোস্টগ্রাজুয়েট কোর্স পরিচালনা করে দুটি প্রতিষ্ঠান। এর একটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও অপরটি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স (বিসিপিএস)। এরই প্রেক্ষিতে বিসিপিএস’র সভাপতি ও কাউন্সিলরদের কাছে নিজেদের দাবি তুলে ধরা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ জুন) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাইভেট পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি ডক্টরস এসোসিয়েশন জানায়, আগামী ১২ জুনের মধ্যে ভাতা বৃদ্ধির দাবি না মানা হলে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাওয়া হবে।

পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী ডা. মো. হাবিবুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মেজর (অব) আব্দুল ওহাব মিনার। এতে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে উচ্চতর কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকরা।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. হাবিবুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রি নিতে সময় লাগে পাঁচ বছর। আমাদের এখানে বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের ভাতা দেওয়া হয় মাত্র ২০ হাজার টাকা। এর বাইরে বোনাসসহ অন্য কোনো সুবিধা নেই। নেই কোনো ইনক্রিমেন্ট। অথচ মেডিকেলের বেশিরভাগ সেবাই আমরা দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য নিয়োজিত আমরা। কিন্তু রাষ্ট্র তো আমাদের সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দেয়নি। নিজে চিকিৎসক হওয়ার পরও বাবা-মার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারি না। স্ত্রী-সন্তানের অধিকার আদায় করতে পারি না। এ অবস্থায় আমরা কীভাবে মানুষের সেবা দিই?’

আগামী ১২ জুনের মধ্যে ন্যায্য দাবি মেনে না নিলে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

পার্শ্ববর্তী দেশে পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের ভাতা পাওয়ার পরিমাণ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ‘ভারতে ৬৭ হাজার ৬৮৩ টাকা, পাকিস্তানে ৩৮ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়। আর আমাদের ভাতা ২০ হাজার টাকা, যা অমানবিক।

নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকদের মৌলিক চাহিদা পূরণের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ‘আমরা যদি পড়াশোনা ছেড়ে মাঠে মাঠে দাবি আদায়ে ব্যস্ত থাকি, তাহলে রোগীরা বঞ্চিত হবেন। আমরা চাই, দেশের চিকিৎসা খাত আরও এগিয়ে যাক। আমাদের পিছিয়ে রেখে তা সম্ভব না।’

সবাই আশার বাণী শুনান মন্তব্য করে তারা বলেন, এ ক্ষেত্রে কেউ কার্যকরি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

অনুষ্ঠানে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক জাবির বলেন, ‘আমাদের এখন অসুস্থ রোগীদের পাশে থাকার কথা ছিল, কিন্তু নিরুপায় হয়ে নামতে হয়েছে মৌলিক অধিকার আদায়ে, যা দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে ভাতা দেয়া হচ্ছে তা দিয়ে বর্তমান এই বাজারে জীবন নির্বাহ করা অসম্ভব। একজন চিকিৎসক অর্থনৈতিক সংকটে থাকলে পরিপূর্ণ সেবা দেওয়া সম্ভব না।

আরেক পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী ডা. তুহিন বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎকের অভাবে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা খানিকটা দুর্বল পর্যায়ে আছে। বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য আমরা যারা পড়াশোনা করছি, তারা পরিস্থিতির শিকার হয়ে আজ দাবি আদায়ে নামছি। ভারত, পাকিস্তান থেকে আমাদের দেশে ভাতা অনেক কম। আমরা রোগীদের সময় দিতে পারছি না, কারণ আমাদের অর্থ নিয়ে চিন্তা করতে হয়। আমাদের ভাতা ২০ হাজার অথচ আমাদের খরচ এর থেকে কয়েকগুণ বেশি। আমাদের এক একটা ইন্সট্রুমেন্ট কিনতে গেলে ৩০-৪০ হাজার টাকা লেগে যায়।’

টাকা ধার করে খুলনা থেকে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে ডা. মাসুদুল ইসলাম নামে আরেক পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী বলেন, ‘এরপর হয় তো আসতেও পারবো না। কারণ টাকা না থাকলে কীভাবে আসবো? সামনে ঈদ, অর্থাভাবে কোরবানির দেওয়া সম্ভব হবে না। আমার ছোট্ট বাচ্চাকে একটা জামা কিনে দিতে পারি না। এ অবস্থায় কেমনে আমরা রোগীদের সেবা দিবো!’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মেজর (অব) আব্দুল ওহাব মিনার বলেন, চিকিৎসকদের মানসিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকলে সেবা দেয়া সম্ভব না। পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের ভাতা ২০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার করা জরুরি। কিন্তু এ দাবির কথা কেউ শুনছেন না!

দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রতিশ্রুতিশীলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই চিকিৎসকরা যে কত করুণ অবস্থায় আছে, তা বলে বুঝানো যাবে না। বাজেট ফেরত যাচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসকরা পাচ্ছে না। তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা দিতে হলে চিকিৎসকের সুস্থ থাকতে হবে।’

টিআই/এএইচ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক