চমেকে ভর্তি হতে না পারা সলিলকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ১৯৭৮-৭৯ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলেও উচ্চমাধ্যমিকের নম্বরপত্র জালিয়াতির অভিযোগে ভর্তি বাতিল হয়ে যাওয়া বান্দরবানের সলিল কান্তি চক্রবর্তীকে ক্ষতি পূরণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
গত বুধবার (৩ মে) বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন (আপিল) খারিজ করে দিয়েছেন। প্রায় ৪৪ বছর ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া সলিলকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কলেজ অধ্যক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।
তবে এখনো আদালতের রায়ের কপি হাতে পাননি জানিয়ে আজ রোববার (৭ মে) সন্ধ্যায় চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তার মেডিভয়েসেকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে গণমাধ্যমে খবর দেখেছি। অফিসিয়ালি রায়ের কপি এখনো হাতে পাইনি। এর আগে কিছু বলতে পারছি না। রায়ের কপি পেলে বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানাবো।’
সলিল কান্তি চক্রবর্তীর আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ শুক্রবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। সলিলকে ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই কোটি টাকাও দিতে বলেছেন আদালত। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।’
আইনজীবী ও আদালত সূত্র জানায়, ১৯৭৮-৭৯ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও সলিলকে ভর্তি হতে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে উচ্চমাধ্যমিকের নম্বরপত্র জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ফৌজদারি মামলার সুপারিশ করা হয়।
অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের দপ্তরে ভর্তির জন্য আবেদন করেন সলিল। পরে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর সুপারিশে জালিয়াতির অভিযোগে সালিল কান্তির বিরুদ্ধে বান্দরবান থানায় মামলা করে পুলিশ। ২০০০ সালে দেওয়া রায়ে জালিয়াতির অভিযোগ থেকে সলিল কান্তি চক্রবর্তীকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।
এরপর পুনরায় মেডিকেলে ভর্তির চেষ্টা চালাতে থাকেন সলিল চক্রবর্তী। ২০০৫ সালে তিনি এ বিষয়ে মেডিকেলসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে তাঁর ভর্তির পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়। সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সলিল।
এর পর ২০০৭ সালের ১ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে রুল যথাযথ ঘোষণা করার পাশাপাশি ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে তাঁকে ভর্তি করাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের রায়ের সময় সলিল কান্তির বয়স ছিল ৪৪ বছর।
পরে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই আবেদনের শুনানির পর হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়। এরপর আপিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার সে আপিলও খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।
এসএস/এমইউ