০৮ মার্চ, ২০২১ ০৯:৪৭ এএম

করোনা: চিকিৎসকরা প্রমাণ করলেন তারা কতটা নিবেদিত

করোনা: চিকিৎসকরা প্রমাণ করলেন তারা কতটা নিবেদিত
অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ। ছবি: সাহিদ।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে মহামারি করোনাভাইরাস তাণ্ডবের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের এই দিনে দেশে করোনা শনাক্তের কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর পর থেকে কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই অদৃশ্য এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে মাঠে নামে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। শুরুতে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও সময়োচিত পদক্ষেপ ও সুন্দর পরিকল্পনার কারণে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

করোনার চিকিৎসায় লব্ধ অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় কাজে লাগবে দাবি করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বিজ্ঞানের ভাষায়, দক্ষতার উৎকর্ষ সাধিত হয় চর্চার মাধ্যমে। বাংলাদেশের চিকিৎসকরা এটা প্রমাণ করেছে যে, এ দেশের মানুষের জন্য তারা প্রতিমুহূর্তে প্রস্তুত। চিকিৎসকদের নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন…। আমার মেডিকেলের এনাটমির শিক্ষক, বায়োলজির শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়ে করোনার চিকিৎসায় যুক্ত করেছি। এমডি-এমএসের একজন নবীন চিকিৎসককেও করোনা রোগীদের রাউন্ডে পাঠিয়েছি। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করলেন, তারা কতটা ঐক্যবদ্ধ এবং এ এদেশের মানুষের জন্য নিবেদিত। সুতরাং আগামীতে যে কোনো পরিস্থিতিতে এ অভিজ্ঞতা কাজে দেবে।’

করোনা নিয়ন্ত্রণে বছরব্যাপী চিকিৎসকদের ভূমিকা কিভাবে মূল্যায়ন করবেন—জানতে চাইলে অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কোনো প্রস্তুতি বা পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া একটি অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে চিকিৎসকরা। শুরুতে বেশ কিছু ঘাটতি ছিল। রোগ নির্ণয়ে ঘাটতি ছিল। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা কম থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে তারা অভ্যস্ততা ছিল না। চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালে ছিল সমন্বয়হীনতা। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও নার্সদের প্রস্তুত করা ছিল চ্যালেঞ্জ। অক্সিজেন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ও ভ্যান্টিলেটরের ব্যবস্থা করা চ্যালেঞ্জ ছিল। চিকিৎসকদের জন্য গাইডলাইন তৈরি করা একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। এ অবস্থায় চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করেছেন। এটা করতে গিয়ে অনেক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মারা গেছেন।’

মৃত্যু হার তিনের মধ্যে থাকা বিরাট সাফল্য 

নানা সূচকে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সফল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আক্রান্তের হার এবং তাদের চিকিৎসা—এক কথায় আমাদের প্রতিটি রোগী হাসপাতালে এসে সেবা পেয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

করোনার চিকিৎসায় সফলতার কথা তুলে ধরে ঢামেক সাবেক অধ্যক্ষ আরও বলেন, দেশে করোনায় মৃত্যুর হার একের মধ্যে আছে এবং এটা কখনো তিনের উপরে যায়নি। সুস্থতার হার সন্তোষজনক। এদিক থেকে আমেরিকা ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের তুলনায় আমাদের অবস্থা অনেক ভালো। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ে সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এসবই আমাদের বড় অর্জন।

জনসাধারণের গা-ছাড়া ভাব উদ্বেগের 

করোনা থেকে পুরোপুরি মুক্তির জন্য আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি গা-ছাড়া ভাব দেখা দিয়েছে। তারা যেভাবে অবাধে বেপরোয়া চলাফেরা করছে—এই মুহূর্তে এটা হলো সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়।

এ নিয়ে ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল অনলাইনে চিকিৎসা করতে গিয়ে আমি তিনজন রোগীর মধ্যে করোনা পজিটিভ পেয়েছি। গত এক মাসেও তা পাওয়া যায়নি। এর আগে অনেক রোগী দেখেছি, যারা পোস্ট কোভিড। কিন্তু গতকাল দেখলাম, করোনা পজিটিভ। আমাদের এখনো গাছাড়া ভাব দেখানোর সুযোগ নেই। কারণ আমরা সবাই এখনো টিকা নেইনি। টিকাদানের মাধ্যমে ৭০ ভাগ প্রতিরক্ষা পেলেও ৩০ ভাগের বিষয়ে আমরা এখনো জানি না। এজন্য আমাদেরকে এখনো সতর্ক থাকতে হবে।’ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি