করোনার চিকিৎসা
জরুরি ১০ পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনাভাইরাসের চিকিৎসার ব্যয় সাধারণের নাগালে রাখার লক্ষ্যে অতি জরুরি ও প্রয়োজনীয় দশটি পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগোনস্টিক সেন্টারগুলো অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) পরীক্ষাগুলোর নতুন মূল্য নির্ধারণ করে দেয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ সম্পর্কিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু রোগীর মতো কিছু সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন হয়। সেগুলোর সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণের জন্য অধিদপ্তর থেকে বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক মালিক ও ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া কিছু কর্পোরেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গেও আলোচনা হয়। সেই আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রস্তাবিত খসড়া মূল্য চূড়ান্ত করা হলো। এখন থেকে এ নির্ধারিত মূল্য সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হিসাবে গণ্য হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম মূল্যে পরীক্ষা করছে। তাদের জন্য নতুন মূল্য প্রযোজ্য হবে না। যারা বেশি ফি আদায় করে তারা এর আওতায় পড়বে।
পরীক্ষাসমূহ ও নির্ধারিত মূল্য
১. রক্তের সিবিসি পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা। বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এ পরীক্ষা করাতে ব্যয় হয় ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা।
২. সিআরপি পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ টাকা। হাসপাতাল ভেদে এজন্য ব্যয় হয় ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা।
৩. এলএফটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০০ টাকা। হাসপাতাল ভেদে এ পরীক্ষায় ব্যয় হয় ৯৫০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা।
৪. সিরাম ক্রিটিনিন-এর মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ৪০০ টাকা। এ পরীক্ষা করাতে হাসপাতাল ভেদে ব্যয় হয় ৩০০ থেকে ৬৫০ টাকা।
৫. সিরাম ইলেকটোলাইট পরীক্ষা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০০ টাকা। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকে এ পরীক্ষা করাতে ব্যয় হয় ৮৫০ থেকে ১৪৫০ টাকা।
৬. ডি-ডাইমার পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ১৫০০ টাকা। প্রতিষ্ঠান ভেদে এতে ব্যয় হয় ১১০০ থেকে ৩২০০ টাকা।
৭. এস ফেরেটিনিনের পরীক্ষা মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১২০০ টাকা। প্রতিষ্ঠান ভেদে এর জন্য ব্যয় করতে হতো ১০০০ থেকে ২২০০ টাকা।
৮. এস প্রকালসাইটোনিনের মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ২০০০ টাকা। আগে এর জন্য ব্যয় করতে হতো ১৫০০ থেকে ৪৫০০ টাকা।
৯. চেস্ট সিটি স্ক্যান-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০০ টাকা। প্রতিষ্ঠান ভেদে এ পরীক্ষায় রোগীদের ব্যয় করতে হয় ৫০০০ থেকে ১৩ হাজার টাকা।
১০. চেস্ট এক্স-রে (অ্যানালগ)-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা এবং ডিজিটালের ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা। বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে এ পরীক্ষার ব্যয় যথাক্রমে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা।
তবে সরকারি হাসপাতালগুলোতে এসব পরীক্ষার ব্যয় এর চেয়ে অনেক কম বলে জানা গেছে। বেশকিছু পরীক্ষা বেশিরভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত সেবা মূল্যের চেয়ে বেশি ধরা হয়েছে।
জানা গেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সিবিসি করাতে ব্যয় হয় ১৫০ টাকা, সিরাম ক্রিটিনিন-এর মূল্য ৫০ টাকা এবং এস ইলেকটোলাইটের মূল্য ২৫০ টাকা। এছাড়া চেস্ট এক্স-রে অ্যানালগ ও ডিজিটাল যথাক্রমে ২০০ ও ৩০০ টাকা এবং চেস্ট সিটি স্ক্যান-এর মূল্য ২০০০ টাকা।
-
০৮ জুলাই, ২০২৫
-
২৪ জুন, ২০২৫
-
২৩ জুন, ২০২৫
-
১৯ জুন, ২০২৫
-
১৮ জুন, ২০২৫
-
১৪ জুন, ২০২৪
-
০৭ জুন, ২০২৪
-
০৩ জুন, ২০২৪