১৯ ডিসেম্বর, ২০২০ ০১:২৮ পিএম

করোনাভাইরাস: ক্যামব্রিজ জার্নালে নিপসমের বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ

করোনাভাইরাস: ক্যামব্রিজ জার্নালে নিপসমের বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) গবেষক দলের একটি বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ বিশ্ববিখ্যাত ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। 

নিবন্ধটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসের মহামারী বিজ্ঞান ও সংক্রমণ (Epidemiology and Infection) জার্নালের (Volume: 148, 20 October 2020) সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

এর শিরোনাম: ‘কোভিড-১৯ রোগীদের পরিণতির সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকিসমূহ নিরূপণ’ (Assessing risk factors associated with the outcomes of the COVID-19 patients in Bangladesh).

গবেষণাটি নিপসমের আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীদের মধ্যে এক হাজার ১৬ জনের সঙ্গে টেলিফোনে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি, যা নিপসমে শনাক্ত হওয়া রোগীদের ৮৫.৬ ভাগ।

নিপসম ল্যাবে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের নেতৃত্বে মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা গত আটক মাসে ধরে করোনার সন্দেহভাজনদের ঝুঁকিপূর্ণ এ পরীক্ষা করে আসছেন।

গবেষণা কর্মটির Factsheet (Synopsis) এবং পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন শীঘ্র নিপসম ওয়েবসাইটে (nipsom.gov.bd) প্রকাশ করা হবে। 

নিপসম পরিচালকের অভিনন্দন

কৃতিত্বপূর্ণ এ অবদানের জন্য গবেষক দলের প্রত্যেক সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে নিপসম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ বলেছেন, ‘নিপসম ল্যাবে কর্মরত যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের নেতৃত্বে মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী বিগত আট মাসে যাবৎ কোভিড-১৯ সন্দেহভাজনদের ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষার কাজটি সাহসিকতা, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে করে যাচ্ছেন, তাদেরকে বিশেষ ‌ধন্যবাদ। কারণ তারাই এই গবেষণাটি করার সুযোগ করে দিয়েছেন।’  

প্রতিবেদনের চুম্বক অংশ নিচে তুলে ধরা হলো: 

১. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে: ৮৯.৯%-এর বয়স ৫৯ বছর বা তার কম, বাকী ১০.১%-এর বয়স ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব। এর মধ্যে ৬৪.১% পুরুষ, ৩৫.৯% নারী। আক্রান্তদের মধ্যে চাকরিজীবী (স্বাস্থ্যকর্মী ব্যতীত) ৩২.৫%, স্বাস্থ্যকর্মী ১৮.৬%, গৃহিণী ১৫.৬%, ব্যবসায়ী ১৪%। শহরের মানুষ ৬৯.৩%, গ্রামের মানুষ ৩০.৭%। তাদের ৪২.৭%-এর মাসিক উপার্জন ২০,০০০-৫০,০০০ টাকা, ২৯.৯%-এর ৫০,০০০ টাকার অধিক আর ২৭.৪%-এর ২০,০০০ টাকার কম। 

২. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মৃত্যুহার (CFR) ২.৫%; তন্মধ্যে শনাক্ত হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে মৃত্যুহার ২.৩% এবং ১৫-২৮ দিনের মধ্যে মৃত্যুহার ০.২%। অর্থাৎ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের অধিকাংশই (৯২%) মৃত্যুবরণ করছেন ১৪ দিনের মধ্যে। ২৮ দিনের মধ্যে মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে পুরুষ ৭৬.০% ও নারী ২৪.০%।

৩. কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়ার পর জীবিতদের মধ্যে ১৪ দিনের মধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ৩৫.৬%; অর্থাৎ ১৪ দিন পরও অসুস্থ থেকে গিয়েছেন ৬৪.৪%। আবার ২৮ দিনের মধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন ৯৪%; অর্থাৎ ২৮ দিন পরও অসুস্থ থেকে গিয়েছেন ৬%। 

৪. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে যে সমস্ত সহরোগ (Comorbidity) ঝুঁকি হিসেবে পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ডায়াবেটিস (DM), হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্তচাপ), শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ (COPD), হৃদপিণ্ডের রক্তনালীর রোগ (CHD) ইত্যাদি। 

৫. ডায়াবেটিস সর্বাধিক সংখ্যক (৩৫%) কোভিড-১৯ রোগীর মধ্যে বিদ্যমান; ২য় ও ৩য় স্থানে যথাক্রমে হাইপারটেনশন (২৮.৪০%) ও শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ (১৬.৬০%)। 

৬. কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে মারা যাওয়াদের মধ্যে ৭৮.৩%-এর ১ বা একাধিক সহরোগ (Comorbidity) ছিল। ১৪ দিন পর যারা বেঁচে ছিলেন তাদের ৩২.৮%-এর ১ বা একাধিক সহরোগ ছিল। 

৭. আক্রান্ত হওয়ার ২৮ দিনের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের ৮০.০%-এর ১ বা একাধিক সহরোগ (Comorbidity) ছিল। ২৮ দিন পর যারা বেঁচে ছিলেন তাদের ২২.২%-এর ১ বা একাধিক সহরোগ ছিল। 

৮. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের যারা ১৪ দিনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মধ্যে ৩টি বা ৩টির অধিক সহরোগ (Comorbidity) ছিল এমন রোগীদের সংখ্যা ৩৩.৩%; ২টি সহরোগ ছিল এমন রোগীদের সংখ্যা ২৭.৮%, আর ১টি সহরোগ ছিল এমন রোগীদের সংখ্যা ৩৮.৯%। 

৯. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের যারা ১৪ দিন পর বেঁচে ছিলেন, তাদের মধ্যে ৩টি বা ৩টির অধিক সহরোগ (Comorbidity) ছিল এমন রোগীদের সংখ্যা ৯.২%, দুটি সহরোগ ছিল এমন রোগীদের সংখ্যা ২৭.৫% আর একটি সহরোগ ছিল এমন রোগীদের সংখ্যা ৬৩.৩%।  

১০. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের যারা ২৮ দিনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মধ্যে ৩টি বা ৩টির অধিক সহরোগ (Comorbidity) ছিল এমন রোগীদের সংখ্যা ৩০.০%, ২টি সহরোগ ছিল এমন রোগীদের সংখ্যা ৩০.০% আর ১টি সহরোগ ছিল এমন রোগীদের সংখ্যা ৪০%।  

১১. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের যারা ২৮ দিন পর বেঁচে ছিলেন, তাদের মধ্যে ৩টি বা ৩টির অধিক সহরোগ (Comorbidity) ছিল এমন রোগীদের সংখ্যা ০.০%, ২টি সহরোগ ছিল এমন রোগীদের সংখ্যা ৩৭.৫% আর ১টি সহরোগ ছিল এমন রোগীদের সংখ্যা ৬২.৫%। 

১২. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের যারা ১৪ দিনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের:  ৩৯.১%-এর শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ (COPD), ৩৯.১%-এর ডায়াবেটিস, ৩৪.৮%-এর হাইপারটেনশন, ১৭.৪%-এর হৃদপিণ্ডের রক্তনালীর রোগ (CHD) এবং ৭.৪%-এর দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগ (CKD) ছিল।  

১৩. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের যারা ২৮ দিনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের:  ৪০%-এর শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ (COPD), ৩৬.০%-এর ডায়াবেটিস, ৩৬.০%-এর হাইপারটেনশন, ১৬.০%-এর হৃদপিণ্ডের রক্তনালীর রোগ (CHD) এবং ১৬.০%-এর দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগ (CKD) ছিল। 

১৪. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের যারা ১৪ দিন পর বেঁচে ছিলেন, তাদের:  ৮.৭%-এর শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ (COPD), ১৬.৫%-এর ডায়াবেটিস, ১৩.৮%-এর হাইপারটেনশন, ৪.০%-এর হৃদপিণ্ডের রক্তনালীর রোগ (CHD) এবং ১.৭%-এর দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ (CKD) ছিল।

১৫. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের যারা ২৮ দিন পর বেঁচে ছিলেন, তাদের:  ৭.৬%-এর শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ (COPD), ১৭.২%-এর ডায়াবেটিস, ১৩.৭%-এর হাইপারটেনশন, ৩.৬%-এর হৃদপিণ্ডের রক্তনালীর রোগ (CHD) এবং ১.৭%-এর দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগ (CKD) ছিল।

১৬. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের যারা ১৪ দিনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের : ৬০.৯%-এর বয়স ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব, বাকী ৩৯.১%-এর বয়স ৫৯ বছর বা তদনিম্ন। ৭৮.৩% পুরুষ ও ২১.৭% নারী।

১৭. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের যারা ১৪ দিন পর বেঁচে ছিলেন, তাদের : ৯১.৬%-এর বয়স ৫৯ বছর বা তদনিম্ন, ৮.৪%-এর বয়স ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব। ৬৩.৪% পুরুষ ও ৩৬.৬% নারী।

১৮. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের যারা ২৮ দিনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের : ৫৬%-এর বয়স ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব, বাকী ৪৪%-এর বয়স ৫৯ বছর বা তদনিম্ন। ৭৬% পুরুষ ও ২৪% নারী। 

১৯. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের যারা ২৮ দিন পর বেঁচে ছিলেন, তাদের : ৯১%-এর বয়স ৫৯ বছর বা তদনিম্ন, ৯%-এর বয়স ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব। ৬৩.৮% পুরুষ ও ৩৬.২% নারী। 

২০. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে যারা ১৪ দিনের মধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন তাদের : ৯০.১%-এর বয়স ৫৯ বছর বা তদনিম্ন, ৯.৯%-এর বয়স ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব। ৬৪.৪% পুরুষ ও ৩৫.৬% নারী। 

২১. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে যারা ১৪ দিনের মধ্যে আরোগ্য লাভ করেননি তাদের : ৮৯.৮%-এর বয়স ৫৯ বছর বা তদনিম্ন, ১০.২%-এর বয়স ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব। ৬৩.৯% পুরুষ ও ৩৬.১% নারী। 

২২. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে যারা ২৮ দিনের মধ্যে আরোগ্য লাভ করেছেন তাদের : ৯০.৮%-এর বয়স ৫৯ বছর বা তদনিম্ন, ৯.২%-এর বয়স ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব। ৬৩.৮% পুরুষ ও ৩৬.২% নারী।

২৩. কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে যারা ২৮ দিন পরও  আরোগ্য লাভ করেননি তাদের : ৭৫.৪%-এর বয়স ৫৯ বছর বা তদনিম্ন, ২৪.৬%-এর বয়স ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব। ৬৮.৯% পুরুষ ও ৩১.১% নারী।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত