ডা. রীপা চক্রবর্তী

ডা. রীপা চক্রবর্তী

অনারারী মেডিকেল অফিসার,

ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী,

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:০৩ এএম

সাধারণ ফ্লু ও করোনাভাইরাসের মিল-অমিল

সাধারণ ফ্লু ও করোনাভাইরাসের মিল-অমিল

ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, মাথা যন্ত্রণা। সাধারণ সময়ে এ সব উপসর্গ মানে খুব বেশি হলে ভাইরাল ফ্লুয়ের কথাই ভাবা হতো কিছু দিন আগে পর্যন্ত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। এই সব উপসর্গ দেখা দিলেই করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) থাবা বসাল কি না নিয়ে তা নিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন চিন্তা। এই দুই ধরনের জ্বরের উপসর্গে এতোটাই মিল যে, চিকিৎসকরাও হিমশিম খাচ্ছেন রোগ নির্ণয়ে। অনেক সময়ই দেরি হচ্ছে অসুখ ধরা পড়তে। তাই রোগ নির্ণয়ের সুবিধার জন্যই জেনে রাখা ভাল, এই দুই জ্বরের ধরন কেমন।

সাধারণ ফ্লু ও করোনার মধ্যে মিল:

-দুই ধরনের ফ্লু-ই ভাইরাসবাহিত।

-দুই রোগই সংক্রমণজনিত।

-মানবশরীর থেকেই ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম।

-দুই ধরনের ফ্লু-ই সময় মতো সচেতন না হলে বা বাড়াবাড়ি আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়ার দিকে বাঁক নিতে পারে।
 
সাধারণ ফ্লু ও করোনার মধ্যে অমিল:

-সাধারণ ফ্লু ও করোনা দুই-ই ভাইরাসজনিত অসুখ হলেও দুই রোগের ভাইরাস সমগোত্রীয় নয়। সাধারণ ফ্লু ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকোপে হয় আর কোভিড-১৯ হয় করোনা গ্রুপের ভাইরাসের কারণে।

-করোনাভাইরাস ছড়ায়ও অনেক দ্রুত। তুলনায় ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ছড়ায় অনেক ধীরে।

-সাধারণ ফ্লুয়ের বেলায় ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ২-৩ দিনের মধ্যে অসুখ দেখা দেয়। করোনার বেলায় ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ৭-১৪ দিনের মধ্যে অসুখ দেখা দেয়।

-সাধারণ ফ্লুয়ের বেলায় জ্বর ১০৩-১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যেতে পারে, তবে ওষুধের কাজ শুরু হলে তা নামতেও শুরু করে। করোনার বেলায় জ্বর প্রবল হলেও নামতে চায় না সহজে। ওষুধও কাজ করে না।

-সাধারণ ফ্লু বোঝার জন্য কোনও আলাদা করে পরীক্ষার দরকার পড়ে না। কিন্তু করোনা কি না জানতে গেলে পলিমারেস চেন রিঅ্যাকশন বা পিসিআর পরীক্ষা করা হয়।

-সাধারণ ফ্লুয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন রয়েছে। কিন্তু করোনা রোধে তেমন কোনও ভ্যাকসিনের সন্ধান এখনও পাননি গবেষকরা।

ভাইরাল ফ্লু সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সর্দি বা কোভিড-১৯ এর বিপরীতে, ডাক্তারদের দেয়া ওষুধ মৌসুমী ইনফ্লুয়েঞ্জাকে সফলভাবে নিরাময় করতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাইরাল ফ্লুতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কোনো টিকা ছাড়াই সুস্থ হয়ে যান। আপনার মধ্যে যদি ফ্লুর লক্ষণগুলো থাকে, তবে, ঘর থেকে প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। জ্বর কমানোর জন্য আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

কোভিড-১৯ থেকে নিরাপদ থাকতে আপনি কী করতে পারেন?

- হাঁচি, কাশি, নিশ্বাস-প্রশ্বাস এবং স্পর্শের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ায়। তাই, এক্ষেত্রে জরুরি কোনো দরকার না থাকলে বাড়িতেই থাকার পরামর্শ দেয়া হয়।

- আপনার হাত দুটি কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান এবং প্রবাহিত (গরম বা ঠান্ডা) পানিতে দিয়ে পরিষ্কার করুন। যদি সম্ভব না হয় তবে হাত জীবাণুমুক্ত করতে অ্যালকোহলযুক্ত (৬০ শতাংশ) হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

- বাড়িতে ফেরার পরে, আপনার পরিধানে থাকা কাপড় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ধুয়ে ফেলুন বা সূর্যের নীচে শুকানোর জন্য রেখে দিন।

- বাড়ির বাহিরে গেলে অন্য ব্যক্তিদের থেকে সর্বনিম্ন ৬ ফুট সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন।

- হাত ধোঁয়ার আগে আপনার মুখ বা চোখের কোনো অংশ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।

- হাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করুন এবং টিস্যুটি সঠিকস্থানে ফেলুন।

- এবং অবশ্যই বাড়ির বাহিরে যাওয়ার সময় মাস্ক পরতে ভুলবেন না।

আর আপনি যদি এ নিয়মগুলো মেনে চলেন তবে আপনি সাধারণ সর্দি এবং ভাইরাসজনিত ফ্লু থেকে সহজেই বাঁচতে পারবেন।

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা

অতিরিক্ত বেতন নিচ্ছে একাধিক বেসরকারি মেডিকেল

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে