১৪ অগাস্ট, ২০২০ ১০:৩৯ এএম

দেড় যুগ ধরে নেই পদোন্নতি: আন্দোলনে ২ শতাধিক চিকিৎসক

দেড় যুগ ধরে নেই পদোন্নতি: আন্দোলনে ২ শতাধিক চিকিৎসক

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) প্রায় দেড় যুগের বেশি সময় ধরে পদোন্নতি বন্ধ। ফলে পদোন্নতিবঞ্চিত অবস্থায় আছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগের দুই শতাধিক চিকিৎসক। এ অবস্থায় পদোন্নতির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদানসহ তৃতীয়বারের মত আন্দোলনে নেমেছেন বিএসএমএমইউ’র মেডিসিন, নিউরোমেডিসিন, নিউরোলজি, নিউরো সার্জারি, গাইনি, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিকস, রিউম্যোটোলজিসহ প্রায় ৫৪টি বিভাগের চিকিৎসকরা।

এর আগেও গত বছরের ১ ডিসেম্বর প্রথম দফায় আন্দোলন করেন চিকিৎসকরা। এরপর চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় এবং গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তৃতীয় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তির দপ্তরে অবস্থান নিয়ে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে দাবি পেশ করেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিএসএমএমইউ দেশের সবচেয়ে বড় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হলেও স্থায়ীভাবে নিয়োগকৃত চিকিৎসকদের পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরবর্তীতে যারা পোস্ট গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করবেন, এ ধরনের চিকিৎসকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা ছিল যেখানে পোস্ট গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার পরে তাদেরকে সবেতনে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হতো। পরবর্তীতে ডিপার্টমেন্টের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই পদে আত্তীকরণ করা হতো কিন্তু ২০০৯ সালে সেই আইনটি অজানা কারণে রহিত হওয়ার অভিযোগ করা হয়। এর থেকে দুই শতাধিক চিকিৎসক পদোন্নতিবঞ্চিত অবস্থায় আছেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি, যারা পদোন্নতিবঞ্চিত আছে তাদের অনেকের অবসরে সময় হয়ে আসছে। এবং প্রায় আট বছর যাবত অনেকে পদোন্নতি না পেয়ে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। যদিও তাদের অনেকের এফসিপিএস ও এমডি নামক বাংলাদেশের সেরা ডিগ্রিগুলো সম্পন্ন করা আছে।

তাদের অভিযোগ, সরকারি সেক্টরে যেসব চিকিৎসক কর্মরত তারা চিকিৎসাক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করলেই দ্রুত কনসালটেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ডিপিসি-এর মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কিন্তু বিএসএমএমইউতে কর্মরত প্রায় দুই শতাধিক পোস্ট গ্রাজুয়েশন চিকিৎসক তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেও পদোন্নতি বঞ্চিত।

এ সময় তাদের পদোন্নতির ব্যাপারে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান করেন।

মানববন্ধন শেষে গাইনি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী ফারহানা বলেন, দেড় যুগের বেশি সময় ধরে পদোন্নতি বন্ধ আছে। পদোন্নতির জন্য এর আগে গত ১ ডিসেম্বর ২০১৯ প্রথম দফা আন্দোলনসহ নানা কর্মসূচী পালন করেন। পাশাপাশি সেদিন প্রথম স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এরপর ১৪ জানুয়ারি ২০২০ আরও একবার স্মারকলিপি দিয়ে দাবি দাওয়া পেশ করেন তারা। এবার তৃতীয়বারের মতো আন্দোলনে নেমেছেন তারা।

আন্দোলনরত বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকদের দাবি, করোনার এই পরিস্থিতিতেও টেলিমেডিসিন সেবা, বহির্বিভাগের সেবা, ইনডোরে রাউন্ড, করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ফিভার ক্লিনিক এবং কোভিড ইউনিটের রোগীদের সেবা প্রদানসহ সহকারী অধ্যাপক পদের সমমানের কাজে ব্যস্ত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসেবার মানকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

নিউরো সার্জন ডা. শিকদার মো রুহুল কুদ্দুস বলেন, চিকিৎসকদের পদোন্নতি বঞ্চনার এই বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, সব সিন্ডিকেট সদস্য, সব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয় স্বাচিপের সভাপতি সেক্রেটারি ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহসহ সব পর্যায়ের নীতি নির্ধারণী ব্যক্তিদের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।  

এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্যের উপস্থাপনায় সিন্ডিকেট সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে একটি সিন্ডিকেট কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তী সিন্ডিকেট মিটিংয়ের আগে তাদেরকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু সেই কমিটির মেয়াদ ৬ মাসের অধিক পার হওয়ার পরেও সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট না দিয়ে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়য়ের একটি সিন্ডিকেট বৈঠকে বিএসএমএমইউর বিধিমালা থেকে চিকিৎসকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত ১৯৯৯ সালের নীতিমালাটি বাদ দেওয়া হয়।

  ঘটনা প্রবাহ : বিএসএমএমইউ
সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা

অতিরিক্ত বেতন নিচ্ছে একাধিক বেসরকারি মেডিকেল

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত