২০ জুলাই, ২০২০ ০৯:৫৪ এএম

‘বিএসএমএমইউ ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানকেই গণস্বাস্থ্যের কিট দেওয়া হয়নি’

‘বিএসএমএমইউ ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানকেই গণস্বাস্থ্যের কিট দেওয়া হয়নি’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর সাহবুদ্দিন মেডিকেলসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরীক্ষায় গণস্বাস্থ্যের অনুমোদনহীন কিট ব্যবহার হচ্ছে শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

তাদের দাবি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে করোনা পরীক্ষার জন্য বা ট্রায়ালের জন্য দেওয়া হয়নি।

সোমবার (২০ জুলাই) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জিআর কোভিড-১৯ রেপিড ডট ব্লট ইম্মিউনোএসে কিট প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত ‘জিআর কোভিড-১৯ রেপিড ডট ব্লট এন্টিবডি টেস্ট’ কিট এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন পায়নি বলে কোন প্রতিষ্ঠানেও বিপনন হয়নি। এছাড়াও শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে করোনা পরীক্ষার জন্য বা ট্রায়ালের জন্য দেওয়া হয়নি। গত ১১ জুন আমরা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকলকে সতর্কও করেছিলাম। সুতরাং এই কিট দিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে যে খবর বেরিয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আমরা মনে করছি এটা কোভিড-১৯ জনিত সারাবিশ্ব তথা দেশের এই মহা দুর্যোগে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই উদ্ভাবনীর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমাদের আঈন বিভাগ শাহবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে যথাযথ আঈনী ব্যবস্থা গ্রহন করবে। আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এন্টিবডি টেস্ট এবং কিট সংক্রান্ত সকল প্রকার নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

এতদসংক্রান্ত কোনপ্রকার কীট পরীক্ষার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। কেহ যদি এই ধরনের কোন তথ্য কোথাও পান অনুগ্রহ করে আমাদেরকে, স্থানীয় আঈন প্রয়োগকারী সংস্থা বা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করছি।

এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) বিভিন্ন হাসপাতালে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে করোনাভাইরাস পরীক্ষায় অনিয়মসহ নানা অভিযোগে রাজধানীর গুলশানে সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় হাসপাতালটির সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবুল হাসনাতকে আটক করে র‌্যাব।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই র‌্যাপিড কিট দিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে আসছিল রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এছাড়াও তারা অ্যান্টিবডি পরীক্ষার নামে রোগীদের কাছ থেকে তিন হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করে টাকা নিত প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘হাসপাতালটির বিরুদ্ধে র‌্যাবের কাছে তিনটি অভিযোগ এসেছিলো। হাসপাতালটিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে করোনা পরীক্ষার অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু তাদের এ পরীক্ষার স্বয়ংক্রিয় মেশিন না থাকায় অনুমোদন বাতিল করা হয়। এরপরও তারা করোনা পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিল। তারা বাইরের রোগীদেরও করোনা পরীক্ষা করতো। এ পরীক্ষাগুলো অননুমোদিত ডিভাইসের মাধ্যমে করা হয়েছে। তার যে রিপোর্ট দিয়েছে তার সবই ভুয়া।’

এছাড়াও হাসপতালটি করোনা পরীক্ষা বাইরের হাসপাতাল থেকে করে তা নিজেদের হাসপাতালের প্যাডে লিখে রোগীদের প্রদান করতো। তারা কিছু পণ্য যেমন মাস্ক, গ্লাভস- এগুলো একাধিকবার ব্যবহার করছে যা একবারের বেশি ব্যবহার করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ সময় অভিযান চলাকালে অসহযোগিতা করায় সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবুল হাসনাতকে আটক করেছে র‌্যাব। তাকে আটক করে র‌্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ‌করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেই নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে গত ৬ জুলাই করোনাভাইরাস পরীক্ষার জালিয়াতির অভিযোগে হাসপাতালটির দুইটি শাখা সিলগালা করে দেওয়া হয়। 

এনডিএফের কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের মত

দুর্নীতির লাগাম না টানলে বড় বরাদ্দেও সুফল মিলবে না

এনডিএফের কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের মত

দুর্নীতির লাগাম না টানলে বড় বরাদ্দেও সুফল মিলবে না

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক