শাহীদুজ্জামান শাহীদ

শাহীদুজ্জামান শাহীদ

সাংগঠনিক সম্পাদক

সন্ধানী, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ইউনিট


২২ মে, ২০২০ ০৪:৩৮ এএম

করোনা মোকাবেলায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল সন্ধানীর কার্যক্রম

করোনা মোকাবেলায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল সন্ধানীর কার্যক্রম

করোনাভাইরাস মহামারীতে বিপর্যস্ত সারা বিশ্ব। এই দুঃসময়ে বিপর্যস্ত মানুষের প্রতিদিনের স্বাভাবিক কার্যক্রম। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে আসছেন এ মহামারী মোকাবিলায়।

সিলেটের চিকিৎসা ব্যাবস্থার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'সন্ধানী সিওমেক ইউনিট'ও এ মহামারী মোকাবিলায় পরিচালনা করছে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম। করোনাযোদ্ধা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং সমাজের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে সন্ধানী সিওমেক ইউনিট।

সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ

জনগনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন অফিস আদালত বন্ধ হয়ে গেলেও বন্ধ হয়নি হাসপাতালগুলো। করোনা মোকাবিলায় প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে হাসপাতালগুলোতে সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সন্ধানী সিওমেক ইউনিটের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ৫০০ টি হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ৭০০ টি মাস্ক ও ১৫৫ টি পিপিই। 

ত্রাণ বিতরণ

করোনা সংক্রমণ রোধ করতে দেশে ঘোষণা করা হয়েছে লকডাউন। লকডাউনের কারণে অন্ধকার নেমে এসেছে দেশের দিন-মজুর শ্রেণীর মানুষদের জীবনে। বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্তরাও।

এখন পর্যন্ত সুবিধাবঞ্চিত ভিক্ষুক, দিনমজুর ও থ্যালাসেমিয়া রোগীসহ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সর্বমোট ৬৩০টি পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। 
ভাসমান জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত সিলেটের বটেশ্বরের পরগণা অঞ্চলের ৪৩টি বেদে পরিবারের মাঝেও বিতরণ করা হয় নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি

সন্ধানী সিওমেক ইউনিট অসহায়দের সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমগুলোতে চালিয়ে যাচ্ছেন সচেতনতামূলক প্রচারণা। সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের নির্দেশনায় অনলাইনে নিয়মিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে সচেতনতামূলক বিভিন্ন তথ্য ও সিলেট জেলার করোনা আপডেট।

সন্ধানী সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ইউনিটের সভাপতি লুৎফর রাহমান মিলন বলেন, "সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে আমাদের এগিয়ে আসা। করোনার এই সময়ে দেশের সকল স্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি ও অসহায়দের মাঝে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে 'সন্ধানী'র প্রতিটি ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

দেশের এ ধরনের সংকটময় সময়ে সবচেয়ে বেশি অসহায় অবস্থার সৃষ্টি হয় দিন-মজুর ও খেটে খাওয়া মানুষদের। প্রতিটি ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে আমরা চেষ্টা করছি এই  ক্রান্তিকালে বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা সিলেটের মেহনতি ও দিনমজুর শ্রেণীর মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে। আমাদের এ কার্যক্রমগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন ব্যাক্তি বিভিন্নভাবে সহায়তা পাঠিয়েছেন।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সেই সকল মহান ব্যাক্তিদের প্রতি। সকলের দোয়া, ভালোবাসা  আর সহযোগীতার কারণেই সন্ধানী এ মহৎ কার্যক্রমগুলো সুন্দরভাবে পরিচালনা করে যাচ্ছে। ইন্ শা আল্লাহ্, করোনাযুদ্ধে মানবজাতির জয় হবেই।"

সন্ধানী সিওমেক ইউনিটের সভাপতি আরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাদের প্রতিটি উপদেষ্টা ও সন্ধানীর বর্তমান কর্মীদের প্রতি; যাদের নিরলস প্রচেষ্টাতে সন্ধানীর এগিয়ে চলা।

সন্ধানী সিওমেক ইউনিটের এই সেবামূলক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে অংশগ্রহণ করতে পারেন আপনিও। দাঁড়াতে পারেন এদেশের খেটে খাওয়া আপামর জনসাধারণের পাশে। আপনার পাঠানো অর্থে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে যাবে অসহায় মানুষজনের কাছে।

  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত