১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫৯ পিএম

মমেকে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুইজন আহত, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

মমেকে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুইজন আহত, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে (মমেক) ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে মমেকের ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলেজ কর্তৃপক্ষ এক সপ্তাহের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে।

ছাত্র-ছাত্রীদের ছাত্রাবাস ত্যাগের নির্দেশ

ওই রাতে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় আগামী সাত দিনের জন্য সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংঘর্ষে জড়িত পক্ষ দুটির একটি মেডিকেল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহর অনুসারী এবং অপরটি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপের অনুসারী। এ ঘটনায় গুরুতর আহতরা হলেন নুরে জাওয়াদের অনুসারী মীর হামিদুর এবং তানভীর আব্দুল্লাহর অনুসারী মো. মুয়াজ।

জানা গেছে, হামলার ঘটনায় নাফিউল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। গুরুতর আহত মুয়াজকে সকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনার সূত্রপাত। এ সময় মো. আমানুল্লাহ মুয়াজ সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের কর্মী মীর হামিদুরের কক্ষে যান। সেখানে মোটরসাইকেলে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয় এবং ‘তেলের পাম্প আছে’ ইত্যাদি কথা বলে উসকানি দেওয়া হয় হামিদুরকে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মীর হামিদুর প্রথমে মুয়াজকে আঘাত করেন। এরপর ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন।

পরে মীর হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে মুয়াজ একটি স্টিলের পাইপ দিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে হামিদুরের গ্রুপের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে নিজেকে আটকে রাখেন। এরপর মুয়াজকে উদ্ধার করতে তার গ্রুপের সদস্যরা এগিয়ে এলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহত হামিদুরকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে তাদের উপস্থিতিতেই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এ সময় আমানুল্লাহ মুয়াজ ব্যাপক হামলার শিকার হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার শরীরে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনাটি শুরুতে ব্যক্তিগত বিরোধ হলেও পরে তা দুই গ্রুপের সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এ বিষয়ে জানতে মমেকের ছাত্রদল নেতা নুরে জাওয়াদ রুতাপকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

মমেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাজমুল আলম খান মেডিভয়েসকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে একাডেমিক কাউন্সিল জরুরি বৈঠক করে কলেজের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একজন বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং অপরজনকে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত একজন শিক্ষার্থীকে সকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয় এবং সেখানে তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, একজন আহত শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত লেগে এক্সট্রাডিউরাল হেমাটোমা (মস্তিষ্কে রক্ত জমাট) হয়েছে। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অপর একজনের মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে ডিপ্রেসড ফ্র্যাকচার হওয়ায় রাতেই তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়েছে।

ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি মোটরসাইকেলে তেল আনা নিয়ে সৃষ্ট ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে ঘটেছে বলে জানা গেছে। তিনি দাবি করেন, এটি সংগঠিত কোনো দলীয় সংঘর্ষ নয়; বরং ব্যক্তিগত পর্যায়ের বিরোধ থেকে শুরু হয়ে পরবর্তীতে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম মেডিভয়েসকে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মারামারির ঘটনা ঘটে এবং আহতরা হাসপাতালে চলে যায়। তখন কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও পুলিশের উপস্থিতিতে আর কোনো সংঘর্ষ হয়নি।

তিনি বলেন, ঘটনাটি দুই শিক্ষার্থী—মোয়াজ ও হামিদুরের মধ্যে ঘটে, যারা একই বর্ষের শিক্ষার্থী। পাম্প থেকে মোটরসাইকেলের তেল আনা নিয়ে প্রথমে বিরোধের সৃষ্টি হয়, যা পরে মারামারিতে রূপ নেয়। এ ঘটনায় নাফিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

টিআই/এমইউ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত