২৮ জুন, ২০২৫ ০৫:৫২ পিএম

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে তিন দিন ধরে মিলছে না জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে তিন দিন ধরে মিলছে না জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

নবাব আব্দুর রহিম: রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে (আইডিএইচ) তিন দিন ধরে মিলছে না জলাতঙ্কের (র‌্যাবিস) ভ্যাকসিন। সারাদেশ থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ের ক্ষত নিয়ে প্রায় চার থেকে পাঁচশত রোগী আসেন এই হাসপাতালে। ভ্যাকসিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বেশ বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।

হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার অধীনে অপারেশন প্ল্যানের আওতায় জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু অপারেশন প্ল্যান না থাকায় এসব বরাদ্দ বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) থেকে আইডিএইচের জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি সেন্টারে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।

গতকাল শুক্রবার (২৭ জুন) র‌্যাবিস ভ্যাকসিন সংকটের কারণে দুঃখ প্রকাশ করে একটি জরুরি নোটিশ জারি করেছে হাসপাতালটি।

নোটিশে বলা হয়েছে, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিডিসি থেকে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের বরাদ্দ বা সরবরাহ না থাকায় এই সেন্টার থেকে আপাতত র‌্যাবিস ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা যাচ্ছে না।’

‘এ ব্যাপারে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি’—বলা হয় নোটিশে। তবে অন্যান্য চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আরিফুল বাশার মেডিভয়েসকে বলেন, ‘সাময়িক একটি সংকট হয়েছে। আশা করছি, কালকেই সলভ হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আগে ডিজি অফিসের (অধিদপ্তর) সিডিসি থেকে অপারেশন প্ল্যানের আওতায় র‌্যাবিস ইলিমিনেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয় করা হতো। অপারেশন প্ল্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সমস্যা হয়েছে। তবে একটি এক্সিট প্ল্যানের (বিকল্প ব্যবস্থা) মাধ্যমে ইতোমধ্যে জাতীয় ঔষাধাগার (সিএমএসডি) থেকে ভ্যাকসিন ক্রয় করা হয়েছে। কিন্তু ভ্যাকসিনগুলো বিতরণের আগে একটি সার্ভে করা হয়। এটির জন্য দেরি হচ্ছে। আমরা অনুরোধ করেছি যে, আমাদের পরিস্থিতি খুব খারাপ। ওরা (অধিদপ্তর) বলছে, ঠিক আছে, অল্প কিছু আপনাদের লোনে দিব, পরে অ্যাডজাস্ট করে নেওয়া হবে।’

ডা. আরিফুল বাশার আরও বলেন, ‘মূলত সিস্টেমের জটিলতায় পড়ে গেছে। অধিদপ্তর সার্ভে না করে ডিস্ট্রিবিউট করতে পারে না। সার্ভে কমপ্লিট হয়নি। কিন্তু আমাদের অবস্থা খারাপ। সারাদেশে থেকে রোগী আসে এখানে। বলেছি, আমাদেরকে এখন অ্যাডভান্স কিছু দিয়ে দেন। কিন্তু আগে নাকি এরকম জটিলতা হয়েছিল, তাই দিতে চাচ্ছিল না। আশা করছি রোববারে দিবে।’

তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে প্রতিদিন কুকুর, বিড়াল, শিয়ালসহ প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের ক্ষত নিয়ে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী আসেন। দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে। এ ছাড়া চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৩৪ জন জলাতঙ্ক আক্রান্ত রোগী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার লাইন ডিরেক্টর মো. হালিমুর রশিদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এটি সিএমএসডি থেকে কেনা হয়। তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে চিঠি দিলে আমরা সেখানে (হাসপাতাল) ফরোয়ার্ড করে দেই।’

তবে অপারেশন প্ল্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি আবার শুরু হবে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত