কালাজ্বরের ঝুঁকিতে রয়েছে ২৬ জেলার ৪ কোটি মানুষ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সেন্টার অব এক্সিলেন্স কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমানে কালাজ্বর প্রবণ বাংলাদেশের ২৬টি জেলার ১০০টি উপজেলা। কালাজ্বরের ঝুঁকিতে রয়েছে এসব এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৩৮ মিলিয়ন মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং জাতীয় কালাজ্বর নির্মূল কর্মসূচি ড্রাগস ফর নেগলেকটেড ডিজিজ ইনিশিয়েটিভের যৌথ অংশীদারিত্বে এই সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী কালাজ্বরকে একটি নেগলেকটেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ হিসেবে গণ্য করা হলেও এই রোগকে কোনোভাবেই অবহেলার সুযোগ নেই। সময়মতো চিকিৎসা না হলে প্রায় ৯৫ শতাংশ কালাজ্বর রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকে।
কালাজ্বর সেন্টার অব অ্যাক্সিলেন্সের মাধ্যমে কালাজ্বর নির্মূলে দেশে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আমার অবস্থান থেকে আপনাদের যতো ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, আমি চেষ্টা করব। ডেঙ্গু, কালাজ্বর, চিকনগুনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ মশার মাধ্যমে ছড়ায়। তাই সবার আগে মশা মারার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের এনপিও ডা. সাবেরা সুলতানা জানান, কালাজ্বর প্রোগ্রাম ও সেন্টার অব এক্সিলেন্সকে সার্বিক সহায়তা করে যাবে। এ সময় কালাজ্বর অধ্যুষিত এলাকায় (ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গে দিনাজপুর, রংপুর জোন) আরও দুইটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরিফুল বাশারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সহকারী পরিচালক ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এমএম আক্তারুজ্জামান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডিএনডিআইয়ের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক ডা. কবিতা সিং।
জানা যায়, এই সেন্টারের মাধ্যমে সকল রেফারেল কেন্দ্র ও চিকিৎসা কেন্দ্র দ্বারা রেফার করা রোগীদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। এছাড়াও কালাজ্বর রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা জ্ঞান, দক্ষতা সংরক্ষণ ও অগ্রসর করবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
এনএএন/