নতুন পে স্কেল একবারেই বাস্তবায়নের পথে সরকার
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল ২০২৬ থেকে ২০২৭ অর্থবছরেই একবারে কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিবর্তে একবারে বেতন কাঠামো কার্যকর করা হলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে। তবে এ ক্ষেত্রে বেতন কমিশনের সুপারিশ করা হারের তুলনায় কিছুটা কম বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হতে পারে।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার লক্ষ্যে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা থাকলেও সরকারি বেতন ব্যবস্থাপনার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আইবাসে তা সমন্বয় করা জটিল হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে ব্যয়ও বাড়বে এবং চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে একবারেই নতুন কাঠামো কার্যকর করার দিকেই ঝুঁকছে সরকার।
বর্তমানে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। নবম বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। তবে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম থেকে নবম গ্রেডে বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
আজকের বৈঠকে কমিশনের সুপারিশের আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি, বিভিন্ন ক্যাডার ও গ্রেডের মধ্যে ভারসাম্য এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে এই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
প্রাথমিকভাবে আগামী এক জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা এবং ভাতা ২০২৭ থেকে ২০২৮ অর্থবছরে চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এ দিকে বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির দায়িত্ব হলো জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন সংক্রান্ত সুপারিশ পরীক্ষা করে সরকারের কাছে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ভিত্তিতে নতুন পে স্কেল চূড়ান্ত হবে।
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। তবে আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের ব্যয় মেটাতে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এনএইচ/