টেঁটার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত মুখ, সফল অস্ত্রোপচারে সুস্থ রোগী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইদের সাথে সংঘর্ষে অক্ষি কোটরে ঢুকে গিয়েছে টেঁটার ফলা। আরেকটি ফলা গিয়ে ঢুকেছে মুখ বরাবর। এক সেন্টিমিটারের বেশি লোহার প্রতিটি ফলার মাথা ধারালো, একই সাথে উল্টো দিকে হুঁকও যুক্ত করা হয়েছে। এই বিপজ্জনক টেঁটা সফলভাবে অস্ত্রোপচার করে মুখমণ্ডল থেকে বের করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল বিভাগের চিকিৎসকরা।
রমেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৯ মার্চ ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন ডা. আরিফুল ইসলামের একটি চিকিৎসক দল এই অস্ত্রোপচার করে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ রয়েছেন ভুক্তভোগী।
এর আগে ৭ মার্চ চাচাতো ভাইদের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে টেঁটায় আক্রান্ত হন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ব্রহ্মপুত্রের চর এলাকা কচাকাটার বাসিন্দা মো. বাদশাহ (৩০)। একই দিন তাকে রমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রমেক হাসপাতালের ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন ডা. আরিফুল ইসলাম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘শুক্রবার (৭ মার্চ) আমি ছুটিতে ছিলাম। ওই সময় রেজিস্ট্রার ফোন দিয়ে রোগী ভর্তি হওয়ার খবর জানান। আমি সিটি স্ক্যান করতে বলি। সিটি স্ক্যান দেখে সম্ভব হলে আমরা অস্ত্রোপচার করবো। শনিবার (৮ মার্চ) যখন রাউন্ডে রোগীকে পাই, তখন পরদিন শিডিউল ওটিতে অস্ত্রোপচার করার পরিকল্পনা করি। ওই দিনই অজ্ঞান (অ্যানেস্থিশিয়া) বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায় সবকিছু ঠিক আছে, অজ্ঞান করা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘মূল সমস্যা ছিল, রডগুলো ছিল মোটা, প্রায় ১ সেন্টিমিটারের বেশি। আবার ফলাটা উল্টো দিকে বের করা। টান দিলে মাংসসহ সব বের হয়ে আসবে। এজন্য তিনটি আর্মকে পৃথক করার একটি বিষয় ছিল। হ্যাকসো ব্লেড, কাটার ও রড কাটার গ্রাইন্ডার মেশিনসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ আসে। হ্যাকসো ব্লেড বেশ সময় সাপেক্ষ। আবার গ্রাইন্ডার মেশিনে প্রচণ্ড গরম হয়, এতে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে আমরা এটিই ব্যবহার করি। নিচে কুলিং অ্যারেজমেন্ট রাখি, পানি দিয়ে নিচ দিয়ে স্যালাইন দিতে থাকি। আমাদের ওটি বয় এক সময় টাইলসের কাজ করেছিল। তার কাছে মেশিনটিও ছিল। পরদিন ওটিতে নিয়ে এসে আর্মসগুলোকে আলাদা করি। এরপর অস্ত্রোপচার শুরু করি।’
অস্ত্রোপচারের বর্ণনা দিয়ে ডা. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমত, ঠোঁটের মধ্যে যে ফলাটা ছিল, এর এস্থেটিক লাইন বরাবর ইনসিশন (কাটা) দিয়ে ফলাটাকে আমরা বের করে নিয়ে আসি। দেখলাম খারাপ লাগে না। তবে মূল চ্যালেঞ্জিং ছিল চোখের ভিতরে যাওয়া ফলাটি। এটি অক্ষি-কোটরের ভিতর দুই সেন্টিমিটার ঢুকে গেছে। সৌভাগ্যবশত এর ডিরেকশন একটু নিচের দিকে ছিল। ফ্লোর অব দ্য অরবিটে ঢুকলেও ইনফ্রা-অরবিটাল রিম অস্টিওমি করে উপর দিকের উল্টো ফলাটা চোখের গ্লোবের দিকে না থেকে নাকের দিকে ছিল। তখন আমরা মাঝখান দিয়ে হাড়টা কেটে নিয়ে টান দিয়ে ফলা বের করে নিয়ে আসি। গ্লোবে কোনো ক্ষতি ছিল না। ফ্লোর অব দ্য অরবিট উঠানোর পরে আমরা স্পেস পাই। ফলাটা যেহেতু মোটা ছিল, তার ফলে গ্লোবের অংশটা একটু উঠে গেছে। পরে ফ্লোর অব দ্য অরবিট আর গ্লোব যখন পৃথক করি তখন কোনো ঝামেলা হয়নি।’
রোগীর বর্তমান অবস্থা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মোট এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই আমরা এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে পেরেছি। রোগী ভীষণ ভালো আছে। কোনো ধরনের কোনো ইঞ্জুরি নেই। একটা ইঞ্জুরি হতে পারে, চোখের ভিতরের দিক থেকে নাসোল্যাক্রিমাল ডাক্ট নাকের দিকে একটা নালি থাকে, যার মাধ্যমে আমাদের চোখের পানি নাকে আসে, ওই নালিটা ইঞ্জুরি হয়েছে। তবে এটি ঠিক করা যাবে, বড় কোনো অপারেশন লাগবে না।’
জানা গেছে, ডা. আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার দলে আরও ছিলেন জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. খন্দকার শাহজাহান ও রেজিস্ট্রার ডা. বিদ্যূৎ সরকার। অ্যানেস্থিশিয়ায় ছিলেন ডা. মনিরুল ইসলাম ও ডা. সাকিব।
এনএআর/
-
২১ জানুয়ারী, ২০২৬
-
১৫ নভেম্বর, ২০২৪
-
৩০ অগাস্ট, ২০২৩
-
১১ অগাস্ট, ২০২৩
-
১১ অগাস্ট, ২০২৩
-
০৪ জুলাই, ২০২৩