ডাক্তার পদবির রিট: ন্যায়বিচার প্রত্যাশা ডিএমজে প্রেসিডেন্টের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: আগামী বুধবার (১২ মার্চ) ডাক্তার পদবি ব্যবহার সংক্রান্ত রিটের রায়ে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছেন ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিসের (ডিএমজে) প্রেসিডেন্ট ডা. জাবির হোসেন। রোববার (৯ মার্চ) রাজধানীর বাংলা মোটরে রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘স্বাস্থ্যখাতে চলমান পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
ডা. জাবির হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা সুনিশ্চিত করার জন্য পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। আমাদের কাছে পাঁচ দফা দাবি অনেকটা মুক্তির সনদের মতো। আমরা মনে করি পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অনেক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।’
আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই এমন দাবি করি না যে বাংলাদেশ থেকে ম্যাটস একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাক। বা তাদের জিম্মি করে, বন্দি করে কোনো কিছু আদায় করা হোক। বরং আমরা চেয়েছি তাদের একটা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের মধ্যে নিয়ে আসা হোক। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেভাবে কাজ হয়, সেভাবে তারা কাজ করুক।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে ম্যাটস কারিকুলাম একটা গোলকধাঁধা। প্রথমে এ কারিকুলাম ছিলো তিন বছরের। পরে তারা আন্দোলন করেছে সময় বাড়ানোর জন্য, ইন্টার্নশিপ নেওয়ার জন্য। এখানে তারা প্রবেশ করে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলে, কিন্তু তারা ডিগ্রি পাচ্ছে ডিপ্লোমা অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টিতে। পরবর্তীতে তারা যখন সরকারি হাসপাতালে এই ডিগ্রি নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছে, তখন তাদের বলা হচ্ছে স্যাকমো’
ম্যাটসের কারিকুলামের ব্যপারে প্রশ্ন তুলে ডা. জাবির হোসেন বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও কি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টেদের ইন্টার্নশিপ আছে? পৃথিবীর কোথাও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টেদের কোর্স কি চার বছর হয়? তাহলে বাংলাদেশে কোন যুক্তিতে আমরা ম্যাটসদের কারিকুলাম এভাবে সাজিয়েছি?’
তিনি বলেন, ‘যদি সত্যিকারার্থে মানুষের সেবা করা তাদের (ডিএমএফ ডিগ্রিধারী) মূখ্য উদ্দেশ্য থাকতো, তাহলে...। তারা মুখে বলছে আমরা ডাক্তার হতে চাই না, কিন্তু কোর্টে রিট করছে—এটা একটা বিশাল অসঙ্গতি। ডাক্তার হতে হলে চার বছরের ডিগ্রি প্রয়োজন, তা জানা সত্ত্বেও কোটের মাধ্যমে কীভাবে আমরা ডাক্তার হওয়ার দাবি তুলতে পারি? তার মানে তারা চায় নামের পাশে যেভাবে হোক ডাক্তার পদবি ধারণ করে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিতে।’
এ সময় তিনি আদালতে রিট করার পদ্ধতিগত দিক তুলে ধরে বলেন, ‘কখন রিট করা যায়? যখন কোন আইনে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। অথচ আইন অনুযায়ী এমবিবিএস এবং বিডিএস ছাড়া কেউ ডাক্তার লিখতে পারবে না। এতে কার মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে? তাহলে আদালতে রিট করার যৌক্তিকতা কীভাবে হয়? তার মানে রিটটিই অবৈধ।’
আগামী ১২ মার্চ রায়ের ব্যাপারে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে ডিএমজে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা চাই না রায় ডাক্তারদের পক্ষে আসুক, বরং ন্যায়বিচার হোক। আমরা মনে করি পৃথিবীর কোথাও যে নিয়ম নেই, সে নিয়ম বাংলাদেশে কেনো হবে? আমরা আসলে কেমন ম্যাটস তৈরি করতে চাই?’
ম্যাটস বানিজ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘বিগত দশ বছর ধরে যেখানে ম্যাটসের জনবলকে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না, সেখানে দুইশত প্রাইভেট ম্যাটস প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে। এটি কোন ধরনের আলামত? অথচ ম্যাটসের লোকেরা যেহেতু কর্মসংস্থান পাচ্ছে না, তাই তারা ডাক্তার পদবি ব্যবহার করে কর্মসংস্থান খুলতে চায়। সে জন্য আন্দোলন করছে। আমাদের উচিত তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। কিন্তু তা স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংস করে নয়। যদি আদালতের রায় ন্যায়ের পক্ষে না আসে, তাহলে স্বাস্থ্য খাতে একধরনের অরাজকতা সৃষ্টি হবে।’
মতবিনিময় সভা আয়োজনের জন্য ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামকে (এনডিএফ) ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. জাবির বলেন, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে বা অযোগ্যদের পক্ষে রায় দেওয়া হলে, স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংস করার এই পাঁয়তারা পুরো চিকিৎসক মহল একসাথে রুখে দিবে।’
এসময় তিনি চিকিৎসকদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি আদায়ে এনডিএফকে পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসএইচবি/এনএআর