২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৪:৫৫ পিএম

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা: প্রতিযোগিতা হওয়া চাই নিজের সঙ্গে 

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা: প্রতিযোগিতা হওয়া চাই নিজের সঙ্গে 
তানজিম মুনতাকা সর্বা।

আগামী ১৮ জানুয়ারি মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৪-২৫ সেশনের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা। এক ঘণ্টার মেধা যুদ্ধে সাফল্যের মাধ্যমে রচিত হবে মেডিকেল ভর্তিচ্ছুদের স্বপ্ন ছোঁয়ার গল্প। তুমুল প্রতিযোগিতার এ সংক্ষিপ্ত সময়টির যথাযথ ব্যবহার ও শেষ সময়ে পরীক্ষার প্রস্তুতির নানা কৌশল নিয়ে মেডিভয়েসের সঙ্গে কথা বলেছেন ২০২৩-২৪ সেশনের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় প্রথম তানজিম মুনতাকা সর্বা। ভর্তিচ্ছুদের করণীয় ও বর্জনীয় নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি দিয়েছেন বিভিন্ন মূল্যবান পরামর্শ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: সাখাওয়াত হোসাইন

মেডিভয়েস: এই সময়ে এসে মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কোন কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে?

তানজিম মুনতাকা সর্বা: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার আর অল্প সময় বাকি আছে। এখন যেটার উপর গুরুত্ব দিতে হবে, সেটা হলো রিভিশন। যত বেশি একটা অধ্যায় রিভিশন দেওয়া হবে, তত বেশি ওই অধ্যায় থেকে প্রশ্ন ভুল করার আশঙ্কা কমে যাবে। আরেকটা বিষয় হলো বারবার পরীক্ষা দিতে হবে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কোন প্যাটার্নে প্রশ্ন আসবে, সেটি আমরা জানি না। এ জন্য বেশি বেশি পরীক্ষা দিবো, তাহলে যে টাইপেরই প্রশ্ন আসুক বা অপরিচিত প্রশ্ন আসুক, ভালো করার সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে। তাই এখন রিভিশন আর পরীক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মেডিভয়েস: মেডিকেলে পড়তে চাইলে প্রস্তুতি ঠিক কখন ও কীভাবে শুরু করা উচিত?

তানজিম মুনকাতা সর্বা: কলেজ লাইফের শুরু থেকে এডমিশনের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে, বিষয়টা এ রকম না। আমি কলেজের পড়া শেষ করেছি। এর মধ্যে মেডিকেলে ভর্তির প্রস্তুতি কিছুটা এগিয়ে রেখেছিলাম। এরপর এইচএসসি পরীক্ষার পর পুরোদমে মেডিকেল ভর্তির প্রস্তুতি নিয়েছি। কেউ চাইলে কলেজের পড়ার পাশাপাশি ভর্তির প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। এটা ব্যক্তির উপর নির্ভর করে।

মেডিভয়েস: আপনার পড়ার রুটিন কেমন ছিল? কতক্ষণ সময় ধরে পড়তেন?

তানজিম মুনকাতা সর্বা: সুনির্দিষ্ট রুটিন করতে আমি কখনই পারিনি। আমি যেটা করতাম, রাতে পড়া শেষ করে ঠিক করে নিতাম, পরের দিন কী পড়বো। টার্গেট বেইজ পড়াশোনা করতাম। পরে চার থেকে পাঁচটা অধ্যায় পড়বো, এটা যতক্ষণ শেষ করতে না পারবো, ততক্ষণ আমি পড়ে যেতাম। দৈনিক সময় ধরে যে পড়া হয়েছে, এ রকম কখনোই হয়নি।

মেডিভয়েস: প্রস্তুতির জন্য নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করেছেন কীভাবে?

তানজিম মুনতাকা সর্বা: নিজের দুর্বল দিকগুলো বারবার পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে বোঝা যায়। একটা অধ্যায় শেষ করে চেষ্টা করবো, ওই অধ্যায়ের উপর ডেমো পরীক্ষা দেওয়ার। আর যেই জায়গাগুলোতে ভুল হয়েছে, ধরে নিতে হবে, সেই জায়গায় আমার শূন্যতা রয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা, ভুলটা আসলে কোন জায়গায়। এভাবে দুর্বল দিক বোঝা যায়।

মেডিভয়েস: যারা ডিএমসিতে সুযোগ পেতেই চান, তাদের জন্য করণীয় কি হবে?

তানজিম মুনতাকা সর্বা: ঢাকা মেডিকেলে সুযোগ পাওয়া অনেকটা সৌভাগ্যের বিষয়। আল্লাহ যেটা চান, সেটাই হয়। আসলে সবার উচিত নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়া। তারপরে কোন মেডিকেলে চান্স হবে, আমরা বলতে পারি না। কিন্তু ভালো মেডিকেলে চান্স পাওয়ার জন্য বেশ কিছু কাজ করতে হয়। একটা হচ্ছে, রেগুলার পড়াশোনা করা। একদিন পড়লাম, আরেক দিন না, এ রকম করা যাবে না। নিয়মিত পড়তে হবে, বারবার পরীক্ষা দিতে হবে, অনেক বেশি রিভিশন দিতে হবে। সেই সঙ্গে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে হবে।

মেডিভয়েস: মেডিকেলে পড়াশোনার অনুপ্রেরণা কীভাবে এলো? কখন থেকে স্বপ্ন দেখেছেন?

তানজিম মুনতাকা সর্বা: অনুপ্রেরণাটা পেয়েছি পরিবার থেকে। আমার আব্বু চাইতেন, আমি একজন চিকিৎসক হই। আমার দাদু বাড়ি গ্রামে। আসলে সেখানে ভালো চিকিৎসক নেই। আমার বাবা খুব করে চাইতেন, আমি বড় হয়ে একজন ভালো চিকিৎসক হয়ে আমার গ্রামের মানুষদেরকে সেবা দিই। তাই ছোটবেলা থেকে চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছাটা জাগে।

মেডিভয়েস: শেষ সময়ে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে?

তানজিম মুনতাকা সর্বা: শেষ সময়ে বায়োলজি, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, সাধারণ জ্ঞান, ইংরেজি—সবগুলো বিষয়ের উপর সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অনেকে বায়োলজি, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রিতে গুরুত্ব দিতে গিয়ে সাধারণ জ্ঞান আর ইংরেজিতে গুরুত্ব দেয় না। সাধারণ জ্ঞান আর ইংরেজি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় গেইম চেঞ্জার। সাধারণ জ্ঞান আর ইংরেজিতে ২৫ মার্কের মধ্যে যে যত বেশি মার্ক তুলতে পারবে, তার মেডিকেল বা ভালো মেডিকেলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।  এজন সাধারণ জ্ঞান আর ইংরেজিতেও গুরুত্ব দিতে হবে। আর বারবার রিভিশন দিতে হবে। রিভিশনের উপর গুরুত্ব দিলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব।

মেডিভয়েস: এই সময়টায় কোচিংয়ে সাথে নিজের পড়া সমন্বয় কীভাবে করা উচিত?

তানজিম মুনতাকা সর্বা: কোচিংয়ে শেষের দিতে পেপার ফাইনাল হতো, সাবজেক্ট হতো। কোচিংয়ে যে রুটিন দেওয়া হতো, আমি চেষ্টা করতাম, যেকোনো একটা কোচিংয়ের পরীক্ষার রুটিন সম্পূর্ণভাবে মেইনটেইন করা। পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আমি অনেকগুলো কোচিংয়ের সাথে যুক্ত ছিলাম। যেকোনো একটা কোচিংয়ের পরীক্ষার রুটিন পুরোপুরিভাবে মেইনটেইন করতাম। ওটা ভালোভাবে শেষ হওয়ার পর অন্য কোচিংয়ের পড়া পড়তাম।

মেডিভয়েস: প্রস্তুতির জন্য প্রশ্নব্যাংক কীভাবে সলভ করতে হয়?

তানজিম মুনতাকা সর্বা: প্রশ্নব্যাংক দরকার পড়ে প্রশ্নের ধরন বোঝার জন্য। ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি আর বায়োলজি হুবহু প্রশ্ন কখনই কমন পড়ে না। যেসব এড়িয়া থেকে বিগত বছরে প্রশ্ন এসেছে, সেসব এড়িয়া থাকে প্রশ্ন আসে। কোন কোন এড়িয়া থেকে প্রশ্ন আসে, এটা ফলো করা অনেক বেশি দরকার।

মেডিভয়েস: পরীক্ষার পূর্বে মডেল টেস্ট দেওয়ার উপকারিতা কেমন? অনেকে বিভিন্ন কোচিংয়ে মডেল টেস্ট দেন—এটা ভালো, না সময়ের অপচয়?

তানজিম মুনতাকা সর্বা: এটা অবশ্যই অনেক ভালো। আমার ক্ষেত্রে মডেল টেস্ট অনেক বেশি কাজে দিয়েছিল। মেডিকেল এডমিশনে যেটাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি, সেটা হলো পরীক্ষা দেওয়া। কারণ আমি একটা অধ্যায় পড়ে গেলাম, সেটা যদি যাচাই না করি, কতটুকু পড়া হয়েছে, তাহলে আমি বুঝতেই পারলাম না যে, পড়াটা ভালো, না খারাপ হয়েছে! কোন কোন জায়গায় শূন্যতা আছে। শুরু থেকেই চেষ্টা করতাম বেশি বেশি পরীক্ষা দেওয়ার। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা আগে অনেক কোচিংয়ে যুক্ত হই শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্য। পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে নিজের ভুলগুলো বুঝতে পারতাম। পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতাও অর্জন হয়।

মেডিভয়েস: পরীক্ষার আগের রাত এবং সকালে কেন্দ্রে পৌঁছা পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থীর করণীয়।

তানজিম মুনতাকা সর্বা: পরীক্ষার আগের দিন বেশি চাপ নেওয়া যাবে না। পরীক্ষার দিন যেটা অনেক বেশি দরকার, সেটা হলো মানসিকভাবে ঠিক থাকা। অনেক সময় দেখা যায়, প্রশ্ন কমন পড়ে না। তখন চিন্তা করলে হবে না। পরীক্ষার আগের রাতে এবং দিনে মানসিকভাবে ঠিক থাকতে হবে। ঠাণ্ডা মাথায় থাকতে হবে। কোনো ধরনের চাপ মাথায় নেওয়া যাবে না। তোমাকে চান্স পেতেই হবে বা মেডিকেলে মেডিকেলে চান্স না পেলে আর কোনো আশা নাই ইত্যাদি মাথার মধ্যে ঘুরে। এসব চিন্তা করা যাবে না। আর সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করতে হবে।

মেডিভয়েস: যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় একটু স্নায়ু চাপ থাকে, পরীক্ষার আগে মানসিক চাপ কমাতে কি পরামর্শ দিবেন?

তানজিম মুনতাকা সর্বা: একটু আগেও বলেছি, চান্স পেতেই হবে না, এধরনের চাপ মাথায় নেওয়া যাবে না। মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় কোনোভাবে মিস হয়ে গেলে আরও অনেক অপশন আছে। আর মেডিকেলে চান্স না পেলে জীবনে ভালো কিছু করা যাবে না, ব্যাপারটা এরকম না। পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে, যাতে মানসিক চাপ কমে যায়।

মেডিভয়েস: পরীক্ষার কেন্দ্রে টাইম ম্যানেজমেন্টটা কেমন হওয়া জরুরি।

তানজিম মুনতাকা সর্বা: শুরু দিকে রোল নাম্বার এবং রেজিস্ট্রেশন নাম্বার সময় নিয়ে ভালোভাবে পূরণ করতে হবে। প্রশ্নপত্র একবার দেখার পর যে প্রশ্নগুলো কমন পড়েছে, এক দেখাতেই জানি এটার উত্তর এটা হবে। আগে সেটা দাগাতে হবে। এরপর যে প্রশ্নগুলো একটু কঠিন বা উত্তর দিতে সময়ের দরকার পড়ে, সেগুলোর পড়ে উত্তর দিবো। এক দেখাতেই যেগুলো পড়ি, সেগুলোর উত্তর দেওয়ার পর আসতে আসতে কঠিন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে।

মেডিভয়েস: প্রস্তুতির বাইরে প্রশ্ন আসলে করণীয় কি হবে?

তানজিম মুনতাকা সর্বা: আসলে ভর্তি পরীক্ষাতে কেউই ১০০ মার্কে ১০০ মার্ক পায় না। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কিছু না কিছু প্রশ্ন কঠিন চলে আসবেই। এছাড়াও অনেক কারণ কাজ করে। আর ১০০টি প্রশ্নের মধ্যে ১০০টি দাগাতে হবে। এরকম কোনো কথা না। কিছু প্রশ্ন থাকে যেগুলো আমরা কখনও চোখেই দেখিনি, এই টাইপের প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাবো। যেগুলোর উত্তর জানাই নেই, উত্তর দিলে ভুল হবে, সেগুলো নেগেটিভ মার্ক কাটবে।

মেডিভয়েস: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার আগের রাতে বা কিছুদিন আগে সামাজিক বিভিন্ন মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে একজন মনোযোগী শিক্ষার্থীর করণীয় কি?

তানজিম মুনতাকা সর্বা: পরীক্ষার এক বা দুই মাস আগে থেকে সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহার করা এড়িয়ে চলতে হবে। আমি এডমিশন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেভাবে ব্যবহারই করতাম না। প্রয়োজনের জন্য কোনো ক্লাস করা লাগলে করতাম। যদি শোনা যায়, প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে, এগুলো কানে দেওয়া যাবে। এটা মনে রাখতে হবে, নিজের প্রতিযোগিটা নিজের সাথে। প্রশ্ন ফাঁসের গুজবে প্রবণতা আগে অনেক বেশি ছিল, এখন অনেকটা কমে এসেছে। গুজব এড়িয়ে চলা উচিত। যারা প্রশ্ন ফাঁসের কানে কান দেওয়ার দিবে, কিন্তু আমার প্রতিযোগিতাটা আমার সাথেই হওয়া উচিত। যেকোনো মূল্যে আমি যেন আমার সর্বোচ্চটা দিতে পারি, সেটা মনে রাখতে হবে।

মেডিভয়েস: প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি কিভাবে দেখেন, এর সঙ্গে সম্পৃক্তদের শাস্তির বিষয়ে বুলন।

তানজিম মুনতাকা সর্বা: কয়েক বছর আগেও শুনতাম, প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা আছে, গুজবও ছড়ায়। আমি সময়েও গুজব ছড়িয়ে ছিল। প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা, এটি খুবই অনৈতিক কাজ। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় আমরা নিজেদের জায়গায় নিজের সর্বোচ্চটা দেই। অনেকেই থাকে খুব একটা পড়াশোনাও করে না। কিন্তু প্রশ্ন পেয়ে দেখা যাচ্ছে, ভালো একটা মেডিকেলে চান্স পাচ্ছে। আর যারা প্রকৃতপক্ষে মেধাবী বা যোগ্য, তাদের চান্সটা মিস হয়ে যায়। এটার প্রভাব পড়ে যাচ্ছে আমার স্বাস্থ্যখাতে। আর যারা না পড়াশোনা করে প্রশ্ন পেয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে, তাঁরা মেডিকেলে গিয়েও ভালো করবে এটার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছে না। ভবিষ্যতের জন্য চিন্তা করে হলেও প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি আমাদেরকে এড়িয়ে চলতে হবে।

মেডিভয়েস: ভালো প্রস্তুতি নিয়েও প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল না পাওয়ার কারণ কী বলে মনে করেন?

তানজিম মুনতাকা সর্বা: ভালো প্রস্তুতি নিয়ে প্রত্যাশা অনুয়াযী ফলাফল না পাওয়ার অন্যতম কারণ পরীক্ষার হলে চিন্তা মুক্তভাবে পরীক্ষা দিতে না পারা। একটা কঠিন প্রশ্ন দেখেই ঘাবড়িয়ে যাওয়া আল্লাহ প্রশ্ন তো আমার কমন পড়েনি। আমার মনে হয় চান্স হবে না। এই চিন্তা আসলেই দেখা যায়, পারা প্রশ্নও আমরা ভুল করে দিয়ে আসি। এছাড়াও বিভিন্ন কারণ পরীক্ষা খারাপ হয়। তবে পরীক্ষার হলে এই মানসিকতা নিয়ে যেতে হবে, সব প্রশ্ন কমন পড়বে না। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিবো। আর বাকিটা আল্লাহ যা চাইবেন, সেটাই হবে।

মেডিভয়েস: এই সময়ে মেডিকেল ভর্তিচ্ছদের দৈনিক অন্তত কত ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন?

তানজিম মুনতাকা সর্বা: আমার কাছে মনে ৫-৬ ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট। অনেকেই আছে ঘুম বাদ দিয়ে দেয়। আসলে ঘুম বাদ দেওয়ার কিছু নেই। আমি নিজেই রুটিন করে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা ঘুমাতাম। মন ভালো রাখার জন্য ঘুম প্রয়োজন। আবার এমন না দৈনিক ১০-১২ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। ৫-৬ ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট এডমিশনের সময়ে।

মেডিভয়েস: যাদের প্রস্তুতি কম, তাঁদের জন্য এই সময়ে কী করণীয়?

তানজিম মুনতাকা সর্বা: গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলোর উপর গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা কখন অতিরিক্ত বিষয় পড়ি, যখন আবশ্যিকগুলো পড়া শেষ হয়ে যায়। যাদের প্রস্তুতি কম, যে বিষয়টা না পড়লেই নয়, সেদিকে ফোকাস দিতে হবে। মেডিকেল এডমিশনের জন্য একটা অধ্যায় সব টপিক গুরুত্বপূর্ণ থাকে না, যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো পড়তে হবে। তারপর যদি সময় থাকে তাহলে অতিরিক্ত পড়বে।

মেডিভয়েস: আপনার সফলতার গল্প জানতে চাই।

তানজিম মুনতাকা সর্বা: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জার্নি শুধু এডমিশনের সময় তিন বা চার মাস, তা কিন্তু না। এডমিশনের জার্নিটা শুরু হয়ে যায় ইন্টার থেকেই। পাঠ্য বইয়ের উপরেই এডমিশন টেস্ট হয়ে থাকে। বেসিক যার তত বেশি ভালো থাকে, তার ভালো করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এজন্য কলেজ থেকে যারা বেসিকসহ পড়ে, তারা এডমিশনে ভালো করে। এডমিশনের জার্নিটাতে অনেক বেশি সময় দিতে হয়। এখানে সময় কম, কিন্তু পড়া বেশি। এই সময়ে রুটিন অনুযায়ী, সময় মেইনটেইন করে পড়ি।

পরিবারের সহযোগিতা:

পরিবারের সহযোগিতাটা অনেক বেশি দরকার বলে আমি মনে করি। আমার ক্ষেত্রে বাবা এবং আম্মু যে পরিমাণ মানসিক সাপোর্ট দিয়েছেন সেটা যদি না থাকতো, তাহলে এই রেজাল্টটা করা সম্ভব হতো না। কারণ সকালে ঘুম থেকে জাগানো থেকে শুরু করে সবকিছু আম্মুই করে দিতেন। আরেকটা বিষয় হলো এডমিশনের সময় মানসিক সাপোর্টের প্রয়োজন পড়ে। এডমিশনের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি, তখন অনেক ক্লান্ত বা হতাশা কাজ করে। ডিমো পরীক্ষা দিচ্ছি, মার্ক কম আসে। তখন সেগুলোর জন্য মন খারাপ থাকে। তখন একটা মানসিক সাপোর্ট অনেক বেশি দরকার পড়ে। সেটা পরিবার থেকে পেয়ে থাকি। এজন্য পরিবারের অবদান অনেক বেশি।

কোচিংয়ের ভূমিকা:

সেইসঙ্গে আমাদের নিজেরা পড়া নিজেকেই পড়তে হয়, কোচিংয়ে আমাদেরকে গাইডলাইন দিয়ে থাকে। কোচিংয়ে যে গাইডলাইন পাচ্ছি, সেটা আমাদের নিজেদের পড়াক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারি। এক্ষেত্রে কোচিংয়ের ভূমিকাও থাকে। আর কোচিংয়ে আমার রেগুলার যে পরীক্ষা দেই, এরমাধ্যমে আমরা নিজেদের ভুলগুলো বুঝতে পারি। সেইসঙ্গে প্রস্তুতি কেমন হচ্ছে, সেটাও অনুভব করতে পারি। গাইডলাইন ও পরীক্ষার এরজন্য কোচিংয়ের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা:

আমি ইন্টার হলিক্রস থেকে দিয়েছি। এক্ষেত্রে হলিক্রসের অবদান অনেক ছিল। কলেজে অনেক পরীক্ষা নেওয়া হতো, দেখা যেত, পড়তে না চাইলেও পড়তে হতো। নিয়মিত চাপ থাকতো। এইচএসসির আগেই আমার সিলেবাস শেষ হয়ে গিয়েছিল। এটা আমাকে এডমিশন সময়ে অনেক বেশি সহযোগিতা করেছে।

বেড়ে ওঠা

তানজিম মুনতাকা সর্বার বেড়ে উঠা ঢাকায়। ছোটবেলা কাটে বাবা-মা এবং ভাই ও বোনের সঙ্গে। রাজধানীর ভিকারুন্নসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ (বসুন্ধরা শাখা) থেকে এসএসসি এবং হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক