পড়াশোনায় নিয়মানুবার্তিতা জাতীয় মেধায় প্রথম শান্তকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে
তারিকুল ইসলাম: ২০২৫-২৬ সেশনের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম শান্ত। তার প্রাপ্ত নম্বর ৯১.২৫ এবং রোল নম্বর ২৪১৩৬৭১। শান্ত এসএসসি পরীক্ষায় বারৈচা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই জাহাঙ্গীর আলম শান্তের পড়াশোনার প্রতি আলাদা আকর্ষণ ছিল। স্কুলে যাওয়ার আগেই বই-খাতা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতেন। বাবা-মায়ের প্রেরণায় পড়াশোনাকে জীবনের সঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করেন।
নবম শ্রেণি পর্যন্ত ততটা মনোযোগী না হলেও, দশম শ্রেণিতে বোর্ড পরীক্ষা সামনে আসতেই মনোযোগ বাড়ে শান্তর। নিয়মিত ও পরিকল্পিত পড়াশোনা করতে করতে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। শান্তর আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠার বিষয়ে কথা হয় মেডিভয়েসের সাথে। তিনি বলেন ‘মন দিয়ে পড়লে আমি ভালো করতে পারি।’ এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তিনি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি।
ঢাকায় সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম দিকে নতুন পরিবেশ, শহরের জীবন ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ায় সময় কাটে শান্তর। ধীরে ধীরে মেডিকেল পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং নিয়মিত প্রস্তুতি শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রম, পরিবারের সমর্থন এবং পরিকল্পিত অধ্যবসায়ের মাধ্যমে শান্ত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় প্রথম স্থান অর্জন করেন।
প্রথম হওয়ার অনুভূতি
সফলতার অনুভূতি প্রকাশকরে শান্ত মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এই অবস্থানে মনোনীত হওয়ার জন্য। আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। মেডিকেলে ভর্তির এই সাফল্য আমাকে ভীষণ আনন্দিত করেছে।
আমার মেডিকেল যাত্রা মূলত শুরু হয় প্রথম বর্ষ থেকেই। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে আমাদের ক্লাস শুরু হলেও আমি প্রস্তুতি শুরু করি ডিসেম্বর থেকে। সে সময় থেকেই প্রশ্ন সংকলন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি। বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নের পাশাপাশি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো নিয়মিত সমাধান করার চেষ্টা করেছি।
বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছি প্রশ্নের ধরন বোঝার ওপর—কীভাবে প্রশ্ন ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং কোন বিষয় থেকে কীভাবে প্রশ্ন আসে, সেগুলো বিশ্লেষণ করেছি। নিয়মিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রশ্ন করার ধরণ বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।
এভাবে ধাপে ধাপে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ভর্তি পরীক্ষার আগে নতুন করে পড়ার বদলে তখন মূলত পুনঃপাঠেই সময় দিয়েছি।’
পড়াশোনায় পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা
এই দীর্ঘ যাত্রায় পরিবার সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে জানিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমার বাবা-মা এবং আমার দুই বোন-তাঁদের মানসিক সমর্থন ও দোয়া ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হতো না। আমি মনে করি, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় দোয়ার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।
আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি বিজ্ঞান কলেজ। যদিও নিয়মিত কলেজে যাওয়া খুব বেশি হয়নি, তবু সেখানে গিয়ে শিক্ষকদের ক্লাস করেছি। শিক্ষকেরা আন্তরিকভাবে সহায়তা করেছেন, ক্লাসগুলো ভালো লেগেছে এবং তাঁদের সহযোগিতা আমার প্রস্তুতিতে ভূমিকা রেখেছে।’
মেডিকেলে পড়ার অনুপ্রেরণা যেভাবে
কলেজে ভর্তি হওয়ার শুরুতে লক্ষ্য স্পষ্ট ছিল না জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম শান্ত বলেন, ‘কী করব বা মেডিকেলে পড়ব কি না, এ নিয়ে তখন কোনো নির্দিষ্ট ভাবনা ছিল না। প্রশ্নসংকলন কেনার পর থেকেই মূলত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে শুরু করি।
প্রশ্নগুলো সমাধান করতে করতে যখন বুঝতে পারলাম, মেডিকেলে আমি ভালো করতে পারব, তখনই সিদ্ধান্ত নিই চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করব। সিদ্ধান্তের কথা পরিবারকে জানালে তারা জানায়, আমি যেখানেই যেতে চাই, সেখানেই তারা পাশে থাকবে। পরিবারের এই সমর্থনই আমাকে সবচেয়ে বেশি শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে।’
পড়াশোনার কৌশল
প্রতিদিন সকাল ছয়টা থেকে রাত বারোটা কিংবা একটার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকতেন শান্ত। প্রায় পুরো সময়ই পড়াশোনার মধ্যেই ডুবে থাকতেন। তিনি সকালের দিকে মুখস্থনির্ভর পড়ায় বেশি মনোযোগ দিতেন, বিশেষ করে জীববিজ্ঞান বিষয়ে।
পড়াশোনার কৌশলনিয়ে শান্ত বলেন, ‘মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় যেসব বিষয়ে ভীতি থাকে, সাধারণ জ্ঞান ও ইংরেজি। সেগুলোর দিকেও আলাদা গুরুত্ব দিয়েছি। পড়তে ভালো না লাগলেও প্রতিদিন অল্প অল্প করে সাধারণ জ্ঞান ও ইংরেজি পড়তাম। এ কারণে এসব বিষয়ে আলাদা কোনো চাপ বা ভয় তৈরি হয়নি।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান খুব বেশি কঠিন মনে হয়নি। একাডেমিক পর্যায়ের প্রস্তুতিই সেখানে মোটামুটি যথেষ্ট ছিল। রসায়নও একইভাবে নিয়মিত পড়েছি এবং মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছি।’
দুর্বলতা চিহ্নিত করার কৌশল
‘আমি প্রতিটি অধ্যায় শেষে পরীক্ষা দিতাম। যেসব প্রশ্নে ভুল হতো, সেগুলো বইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতাম, কোথায় এবং কেন ভুল হচ্ছে তা খুঁজে বের করার জন্য। এভাবে মিলিয়ে দেখতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম, নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থেকেই আমার বারবার ভুল হচ্ছে। বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে (প্যারালাইসিস করে) বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করতাম।
যে টপিকগুলোতে দুর্বলতা ছিল, সেগুলো আলাদা করে লিখে রাখতাম বা বইয়ে দাগ দিয়ে চিহ্নিত করতাম। পরে সেই অংশগুলো বারবার রিভিশন দিতাম। এমনকি দেয়ালে স্টিকি নোট লাগিয়ে রাখতাম, যেন চোখে পড়লেই আবার পড়ে নিতে পারি। এভাবেই ধীরে ধীরে নিজের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠেছি।’
অনকোলজিস্ট হওয়ার পরিকল্পনা
‘আসলে এ বিষয়ে শুরুতে খুব নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তবে ক্যানসার–সংক্রান্ত বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে আগ্রহী করে তোলে। আল্লাহ চাইলে ভবিষ্যতে আমি অনকোলজিস্ট হওয়ার চেষ্টা করব। বাংলাদেশে ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। এই রোগ নিয়ে যদি কিছু করতে পারি, মানুষের উপকারে আসতে পারি—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় থেকেই এ ভাবনাগুলো মাথায় আসে। তখন দেশের চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন খাত সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতাম—কোন সেক্টর তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে, কোথায় কাজ করার সুযোগ বেশি। আমার কাছে মনে হয়েছে, ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রটি এখনও অনেক পিছিয়ে। সেখানে কিছু করতে পারলে নিজের কাছেও তৃপ্তি আসবে।
ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় মন্দ ছিলাম না, তবে খেলাধুলার প্রতিই ঝোঁক বেশি ছিল। শৈশবে খুব একটা পড়াশোনার চাপ ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারি, সামনে এগোতে হলে পড়ালেখার বিকল্প নেই। একসময় নিজের ভেতর থেকেই ভাবনা আসে—আমি যখন পড়াশোনা করে পারছি, তখন কেন নিয়মিত পড়ব না।
এই উপলব্ধি থেকেই উচ্চমাধ্যমিকে ওঠার পর ধীরে ধীরে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াই। দশম শ্রেণির শেষ দিকে এসে পড়াশোনার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। মূলত ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় দুই বছর আমি পুরোপুরি পড়ালেখার মধ্যেই নিমজ্জিত ছিলাম। এই সময়টাই আমাকে গড়ে তুলেছে এবং আমার লক্ষ্যকে আরও স্পষ্ট করেছে।’
এডমিশন জার্নিতে মোবাইল ব্যবহার
‘এডমিশনের শুরুতে প্রথম এক মাস সামান্য সময় মোবাইল ব্যবহার হতো। এরপরের দুই মাস মোবাইল আন্টির কাছে রেখে দিতাম। প্রয়োজন পড়লে আন্টি থেকে এনে ব্যবহার করতাম—ক্লাস করার জন্য বা অন্য জরুরি কাজের জন্য। এভাবে এডমিশন সময়ের মধ্যে মোবাইলের জন্য খুব বেশি সময় দিতাম না।’
শান্তর বেড়ে ওঠার গল্প
শান্ত শৌসবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘বাবা-মায়ের কাছেই শুনেছি, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আমার আলাদা এক ধরনের টান ছিল। স্কুলে যাওয়ার বয়স হওয়ার আগেই বই-খাতা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতাম। পড়ালেখার প্রতি এই আগ্রহ দেখে বাবা-মাও সিদ্ধান্ত নেন, আমাকে পড়াশোনার পথেই এগিয়ে নেবেন।’
তাঁর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল বারইচা আবাসিক মডেল স্কুল, যা তাঁদের উপজেলার বাইরে অবস্থিত। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি তিনি। তবে দশম শ্রেণিতে উঠে বোর্ড পরীক্ষার বিষয়টি সামনে আসতেই পড়াশোনায় মনোযোগী হন। পরীক্ষার আগের শেষ ছয় মাস নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে পড়াশোনা করেন। তখনই নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়—মন দিয়ে পড়লে ভালো করা সম্ভব। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন এবং জিপিএ–৫ অর্জন করেন।
শান্ত বলেন, ‘পরে ভর্তি হই সরকারি বিজ্ঞান কলেজে। ঢাকায় এসে প্রথম দিকে কী করব, কোন পথে এগোব—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছিল না। নতুন পরিবেশ, শহরের আবহাওয়া ও বন্ধু–বান্ধবের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মধ্যেই সময় কাটছিল। এ সময় রুমের সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে জানতে মেডিকেল পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর থেকেই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি।
আমার গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা, নারায়ণপুর ইউনিয়নের খামারের চর গ্রামে। গ্রামের মানুষেরও আমার প্রতি অনেক প্রত্যাশা ছিল। আমি ভালো কিছু না করলে তাঁদেরও মন খারাপ হতো। এখন সবাই খুব খুশি। আমার জন্য সবাই দোয়া করেছেন। তাঁদের দোয়া ও ভালোবাসা ছাড়া এত বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতো না। সবার প্রতিই আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’
মেডিকেলে পড়তে যেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত
‘যে শিক্ষার্থী শুরু থেকেই প্রস্তুতি নেয়, সে অবশ্যই এগিয়ে থাকে। ভর্তি পরীক্ষার শেষ তিন মাসে নতুন কিছু শেখার বা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের মান বুঝে নেওয়ার সময় থাকে না। এই সময়ের আগেই যদি কেউ একাডেমিক বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝে নেয়, তাহলে শেষ সময়ে শুধু অনুশীলন করেই অনেকটা এগিয়ে থাকা সম্ভব।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জীববিজ্ঞানের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। জীববিজ্ঞানে ৩০ নম্ভর রসায়নে ২৫। তাই এজীববিজ্ঞানে বিশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, যেহেতু নম্ভর বেশি। তুলনামূলকভাবে পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্ন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় খুব বেশি কঠিন হয় না। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
এ ছাড়া ইংরেজি নিয়মিত অল্প অল্প করে পড়লে বড় কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হয় না।’
এবারের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন
‘ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে শুরুতে নানা ধরনের আলোচনা ও উদ্বেগ ছিল। নতুন প্রশ্নপদ্ধতিতে মানবিক গুণাবলি যুক্ত করা হবে এবং সময় ১৫ মিনিট বাড়ানো হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে অনেক পরীক্ষার্থীর মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছিল। ধারণা করা হচ্ছিল, প্রশ্ন বড় হবে, গণিতনির্ভর প্রশ্নের সংখ্যা বাড়বে। তবে বাস্তবে তেমন কিছু দেখা যায়নি।
পরীক্ষা শেষে যেসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগই জানিয়েছেন, প্রশ্ন তুলনামূলকভাবে সহজ হয়েছে। কাট-অফ নম্বর দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছেও প্রশ্ন খুব একটা কঠিন মনে হয়নি। আগের কয়েক বছরের প্রশ্নের সঙ্গে তুলনা করলে এবারের প্রশ্নপত্র সহজ বলেই প্রতীয়মান হয়।
তবে প্রশ্নপত্র আরও কিছুটা কঠিন হতে পারত বলে মনে হয়েছে। বিশেষ করে জীববিজ্ঞান অংশটি ছিল বেশ সহজ। মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার জন্য যারা প্রস্তুতি নেয়, তারা সাধারণত জীববিজ্ঞান বিষয়টি গভীরভাবে পড়ে। এবছর জীববিজ্ঞানে যে প্রশ্নগুলো এসেছে, তার বেশির ভাগই পাঠ্যবইয়ের দাগানো অংশ থেকেই এসেছে।
পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্ন প্রতি বছরই তুলনামূলক সহজ হয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অন্য বিষয়গুলোর প্রশ্ন ছিল মানসম্মত ও গ্রহণযোগ্য।’
ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হতে করণীয়
‘ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হতে হলে সবার আগে মন থেকে সেই ইচ্ছাটা থাকতে হবে। নিজের ভেতর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে যে আমি ঢাকা মেডিকেলে চান্স পেতে চাই। যখন মন থেকে চাওয়া থাকে, তখন পরিশ্রম করতেও ভালো লাগে, পড়াশোনার চাপটাও আর বোঝা মনে হয় না।
এরপর প্রয়োজন মন থেকে পরিশ্রম করা। তবে আমার মনে হয়, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় শুধু পরিশ্রমই সবকিছু নয়। মাত্র এক ঘণ্টার একটি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীর সব যোগ্যতা পুরোপুরি নির্ধারণ করা যায় না। এখানে মানুষের দোয়ার গুরুত্ব অনেক বড়।
বিশেষ করে বাবা-মায়ের দোয়া সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের আন্তরিক দোয়া ও সমর্থন থাকলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, মানসিক শক্তি পাওয়া যায়। চেষ্টা, বিশ্বাস আর দোয়ার সম্মিলনই শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।’
ভর্তি পরীক্ষায় কোচিং যে ভাবে ভূমিকা রাখে
‘মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কীভাবে প্রশ্ন আসে, কোন অধ্যায় থেকে কী ধরনের প্রশ্ন করা হতে পারে এবং কোন জায়গা থেকে ভিন্ন অ্যাঙ্গেলে প্রশ্ন আসতে পারে—এই বিষয়গুলো বুঝতে কোচিং আমার জন্য অনেক সহায়ক ছিল। কোচিংয়ে নিয়মিত পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়।
ধীরে ধীরে এমন অবস্থায় পৌঁছাই যে, কোনো প্রশ্ন দেখলেই বুঝতে পারতাম—এই প্রশ্নটি কোন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে করা যেতে পারে। এই উপলব্ধি আসে মূলত কোচিংয়ের মডেল টেস্টগুলো দেওয়ার অভ্যাস থেকে।
পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোচিংয়ের পাশাপাশি তাদের প্রকাশনীগুলোও বেশ উপকারী ছিল। সঠিক প্রশ্নচর্চা ও বিশ্লেষণের সুযোগ থাকায় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোচিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’