শেবাচিমে চন্দ্রজিত সাহার ভর্তি সম্পন্ন
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে মেডিকেলে সুযোগ
মেডিভায়েস রিপোর্ট: শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন পূরণ, স্বপ্নবাজ তরুণ নরসিংদীর চন্দ্রজিত সাহার। সমাজের আর পাঁচজনের থেকে আলাদা তিনি। উচ্চতা সাড়ে তিন ফিট। স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন এই তরুণ।
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় চন্দ্রজিত সাহা ৮০.৫ নম্বর পেয়েছেন। মেধা তালিকায় হয়েছেন ২৩৮৭তম। তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন।
অদম্য ইচ্ছা থাকলে স্বপ্ন পূরণে কোনো কিছু্ বাধা হতে পারে না—এ কথা বিজ্ঞজনদের। এবার ছিল তার ‘সেকেন্ড টাইম’ ভর্তি পরীক্ষা। যার ফলে তার তিন নম্বর কর্তন হয়েছে। চন্দ্রজিত সাহার এজন্য কোনো আফসোস নেই।
আলাপকালে চন্দ্রজিত সাহা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘চিকিৎসক হব, মেডিকেলে পড়ব, এ কথা শুনে অনেকেই মুচকি হাসতেন। প্রথমবার অল্প কিছু নম্বরের জন্য চান্স হয়নি। তাই দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়েছি। অনেকে নিষেধ করেছিলেন, বলেছিলেন বাদ দাও। তোমাকে দিয়ে হবে না। তবে আমি প্রতীক্ষা থেকে সরে আসিনি।’
চন্দ্রজিত সাহার গ্রামের বাড়ি নরসিংদী সদরের মধ্য কান্দা পাড়া এলাকায়। তার বাবার নাম ইন্দ্রজিত সাহা ও মায়ের নাম সুপ্তি সাহা। ব্রাহ্মন্দী কামিনী কিশোর মৌলিক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। উভয় পরীক্ষায় পেয়েছেন জিপিএ-৫।
মেডিকেল ভর্তি পড়াশোনায় চন্দ্রজিত অনলাইনে কোচিং করেছেন। এ ছাড়া অন্য কোথাও পড়েননি, কোচিং করেননি। তিনি বলেন, ‘কোচিং বলতে আমি একমাত্র অনলাইন কোচিং করেছি আরটিডিসিতে। বিশেষভাবে সেকেন্ড টাইমারদের জন্য মাইনুল ভাই, যিনি একজন সেকেন্ড টাইমার, ঢাকা মেডিকেল কলেজে ২০১৬-১৭ সেশনে ১০ম হয়েছিলেন, তিনি আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। তাছাড়াও রিজভী ভাই, সাদী ভাই, শুভ ভাই, রাহাত ভাই, জাদিদ ভাই মোটামুটি সবাই আমাকে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন।’
নিজের সাফল্যে শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চন্দ্রজিত সাহা বলেন, ‘আমাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য নরসিংদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুশতাক আহমেদ ভূঁইয়াসহ সকল শিক্ষদের প্রতি অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।’
ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও লক্ষ্যের কথা জানিয়ে চন্দ্রজিত সাহা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমি একজন কার্ডিওলোজিস্ট হয়ে মানব সেবা করতে চাই। মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে চাই।’
এসএইচবি/এনএআর/এমইউ/
-
১৩ অক্টোবর, ২০২৪