১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০১:০১ পিএম

একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শেবাচিমে ছাত্ররাজনীতি, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শেবাচিমে ছাত্ররাজনীতি, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
ছাত্রদলের টানানো ব্যানার (বামে) ও শিক্ষার্থীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে (শেবাচিম) ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু থেমে নেই দলীয় কার্যক্রম। ক্যাম্পাসে পোস্টার ও ব্যানার টানানোর পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ ও কাউন্সিলিং করে অবস্থান জানান দিচ্ছে ছাত্রদল। এ নিয়ে দলীয় তৎপরতা চালানো থেকে বিরত শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

ক্যাম্পাসে দলীয় ব্যানারে কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে মেডিকেল কলেজ প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন তারা। শনিবার (৯ নভেম্বর) শেবাচিম অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফয়জুল বাশার কাছে এ সংক্রান্ত স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ছাত্রদলের পোস্টার সাঁটানো রয়েছে। এ ছাড়া ‘শিক্ষার্থীর চোখে আগামীর ছাত্র রাজনীতি ও বাংলাদেশ’ শিরোনামে ছাত্রছাত্রীদের সাথে মতবিনিময়ের লক্ষ্যে টানানো হয়েছে ব্যানার। এতে শেবাচিম ছাত্রদলের নেতা হিসেবে এসবি-৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী তুহিন আরাফাত এবং এসবিডি-১০ ব্যাচের আদিল হোসেনের নাম উল্লেখ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ৭ নভেম্বর বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কয়েকজন সদস্য ও বহিরাগত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ ও কাউন্সিলিং করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১১ আগস্ট মেডিকেল কলেজের সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে শেবাচিম ক্যাম্পাসে ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী রাজনীতি নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে একাডেমিক কাউন্সিল। ওই দিনের একাডেমিক কাউন্সিলের গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের তিন নম্বরে ‘বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক ব্যানার/পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধএ ধারা অব্যাহত থাকবে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া চার নম্বর সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল, ‘সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের আবেদনক্রমে ক্যাম্পাসে/হোস্টেলে ছাত্র/শিক্ষক/কর্মচারীদের দলীয় ব্যানারে প্রকাশ্যে বা গোপনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো যাবে না।’

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ছাত্রদল ও ড্যাবের ব্যানার-পোস্টার টানানো এবং লিফলেট বিতরণ ও কাউন্সিলিং প্রোগ্রাম একাডেমিক কাউন্সিলে গৃহীত তিন ও চার নম্বর সিদ্ধান্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ প্রতিকার ও শাস্তি চেয়ে শনিবার (৯ নভেম্বর) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফয়জুল বাশার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এতে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তারা লিখেছেন, ‘বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে, কিছু বহিরাগত ক্যাম্পাসে এসে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে, যা একাডেমিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে এবং বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি করছে।’

যা বলছেন শিক্ষার্থীরা

জানতে চাইলে ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান নাইম মেডিভয়েসকে বলেন, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে টানানো ব্যানার আমাদেরকে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েছে। কলেজ প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিবে, এই আশাবাদ ব্যক্ত করি।ৎ

এ বিষয়ে ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাকসুদুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়া ক্যাম্পাসে এভাবে ব্যানার টানানো ও শিক্ষার্থীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ সম্পূর্ণভাবে আইনপরিপন্থী। লিফলেটের মাধ্যমে জাহির না করে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমেও নিজেদেরকে ফুটিয়ে তুলতে পারে। পোস্টারের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।

৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিফাত হাসান মেডিভয়েসকে বলেন, এখানে সিংহভাগ সাধারণ শিক্ষার্থীর চিন্তা-ভাবনা দেখতে হবে। এসব বিষয় জনমতের উপর নির্ভর করে। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ছাত্র রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হলে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, র‌্যাগিং, হল দখল ও গ্রুপিং ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিবে। আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

ব্যানারে নাম থাকার বিষয়ে কথা বলতে এসবিডি-১০ ব্যাচের শিক্ষার্থী আদিল হোসেন ও এসবি-৫২ ব্যাচের শিক্ষাথী তুহিন আরাফাতের সঙ্গে মুঠোফোনে মেডিভয়েস অফিস থেকে যোগাযোগের চেষ্টা হয়। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর আদিল হোসেন ফোন রেখে দেন। এরপর একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র ও প্রোপাগান্ডা হিসেবে উল্লেখ করেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তুহিন আরাফাত মেডিভয়েসকে বলেন, ‘সত্য বলতে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। স্যারদের সাথে আমার কথা হয়েছে। স্যারদের আমি বলে এসেছি, আমি এর সাতেও নাই, পাঁচেও নাই। লিখিতভাবে জানিয়েছি। স্যাররা তদন্ত করছেন। ক্যাম্পাসে আমাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য কেউ এমনটা করে থাকতে পারে।’

এ ব্যাপারে পাল্টা প্রশ্ন আরাফাতের–‘একাডেমিক কাউন্সিলে রাজনীতি নিষিদ্ধ। এখন আমার কী এমন হয়ে গেল যে, আমি আমার নাম, ফোন নম্বর দিয়ে ব্যানার টানাবো? দরকার হলে আমি আমার ফোন নম্বর ভুল দিতাম।’

তাহলে কারা, কোন উদ্দেশ্যে তার নাম উল্লেখ করে ব্যানার টানিয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আমার ভালো ফেস ভ্যালু আছে, আমাকে অনেকে চেনে। একাডেমিক ক্যারিয়ার আলহামদুলিল্লাহ ভালো। অনেকের অনেক ঈর্ষা আছে। আন্দোলনের শুরুর দিন থেকে আমরা ছিলাম। স্যারদের সাথেও আমার ভালো কমিউনিকেশন আছে। ফলে প্রতিহিংসা থেকে কেউ করতে পারে। কিন্তু কারা করেছে এ ব্যাপারে আমি বলতে চাচ্ছি না। কারণ সন্দেহ ইসলাম পছন্দ করে না।’

সার্বিক বিষয়ে যা বলছে কর্তৃপক্ষ

সার্বিক বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফয়জুল বাশারের সাড়া মেলেনি। তবে ছাত্রদলের ব্যানারে নাম থাকা শিক্ষার্থী তুহিন আরাফাতের প্রতিকার চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপাধ্যক্ষ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা. রেফায়েতুল হায়দার। তুহিন ছাড়াও আদিল হোসেনও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের প্রতিকার চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপাধ্যক্ষ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা. রেফায়েতুল হায়দার মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের কাছে শিক্ষার্থীরা একটা দরখাস্ত দিয়েছে। সেখানে একটি ব্যানার টানানোর কথা বলেছে। পরে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখলাম, ব্যানারটি বর্তমানে নেই। অধ্যক্ষ দরখাস্তটি গতকাল (শনিবার) আইন-শৃঙ্খলা কমিটিকে দিয়েছেন। ওই কমিটির সভাপতির সাথে আমি আলোচনা করেছি। এর সত্যতা এবং কী ঘটেছে তা তদন্তপূর্বক কীভাবে ব্যবস্থা নিতে পারি, এসব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।’

ডা. রেফায়েত হায়দার বলেন, ‘হঠাৎ করে কেউ রাতের বেলায় দুইজনের নামোল্লেখ করে একটি ব্যানার টানালেই দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবে, ব্যাপারটা আসলে সে রকম না। আমাদেরকে তদন্ত করতে হবে যে, এখানে আসলে কেউ ভিকটিমাইজড হচ্ছে কি না। আর আসলেই টানিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেটাও দেখা হবে।’

ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি ভালো আছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘৭ নভেম্বর হঠাৎ করে বিএনপির দুই-তিনজন সদস্য ৩১ দফার দাওয়াতপত্র নিয়ে আসছিলেন আমাদের কাছে। আমরা তাদের বলেছি, আমাদের এখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ। এই মুহূর্তে ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হচ্ছে না। তারা আমার সাথে কথা বলে চলে গেছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সাথে তারা কথা বলে থাকলে আমরা বিষয়টি দেখবো।’

এনআই/এনএআর/এমইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন নেই’

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নেবে সরকার

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন নেই’

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নেবে সরকার

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত